মহাসড়কের পাশে বিদ্যালয়, দুর্ঘটনার আশঙ্কায় কমছে শিক্ষার্থী

টাঙ্গাইলের করটিয়া বাইপাস এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের পাশেই অবস্থিত গুল্লাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। মহাসড়কে যানবাহনের বিকট শব্দ, দুর্ঘটনার চরম ঝুঁকি এবং খেলার মাঠের অভাবে বিদ্যালয়টির স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। নিরাপত্তার শঙ্কায় অনেক অভিভাবক সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে অনীহা প্রকাশ করায় আশঙ্কাজনকহারে কমছে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি।
১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ঐতিহ্যবাহী গুল্লাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি। ৪২ শতক জমির মধ্যে মহাসড়ক নির্মাণ ও সম্প্রসারণের ফলে বর্তমানে অবশিষ্ট রয়েছে মাত্র ১৩ শতক জমি। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ছয়জন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। কাগজে-কলমে নিবন্ধিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৭৫ জন হলেও বাস্তবে শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত থাকে মাত্র ১০ থেকে ১৫ জন।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী লাকি আক্তার ও মিজানুর রহমান জানায়, যানবাহনের বিকট শব্দে শিক্ষকদের কথা স্পষ্ট শোনা যায় না। তাছাড়া খেলার মাঠ না থাকায় তারা খেলাধুলার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে। প্রতিদিন দুর্ঘটনার আতঙ্ক নিয়েই তাদের বিদ্যালয়ে আসতে হয়।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নার্গিস আক্তার জানান, একদিকে তীব্র শব্দদূষণ, অন্যদিকে দুর্ঘটনার ভয়—এ দুই কারণেই অভিভাবকরা সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে চাইছেন না। বিদ্যালয়টি নিরাপদ কোনো স্থানে স্থানান্তর করা সম্ভব হলে শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ ফিরে আসবে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোজিনা আক্তার বলেন, সারা দিন যানবাহনের অনবরত শব্দে শ্রেণিকক্ষে ঠিকমতো পাঠদান করা যায় না। দুর্ঘটনার ঝুঁকির কারণে অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসে না। সম্প্রতি মহাসড়ক আরও সম্প্রসারণের জন্য জমি পরিমাপ করা হয়েছে। এতে অবশিষ্ট জমিটুকুও সড়কের গর্ভে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. হারুনুর রশীদ বলেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও স্থানীয় এলাকাবাসী লিখিত আবেদন করলে বিষয়টি জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে বিদ্যালয়টি নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
.png)






