Advertisement

তিন বছরেও শেষ হয়নি সেতুর কাজ, ভোগান্তিতে ১০ গ্রামের মানুষ

এশিয়া পোস্ট নিউজ, শেরপুর
তিন বছরেও শেষ হয়নি সেতুর কাজ, ভোগান্তিতে ১০ গ্রামের মানুষ
তিন বছরেও শেষ হয়নি সেতুনির্মাণ। ছবি: এশিয়া পোস্ট

নির্ধারিত ১৬ মাসের জায়গায় ৩৪ মাস পেরিয়ে গেলেও শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে সাড়ে ৭ কোটি টাকার একটি সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হয়নি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের চরম ধীরগতি ও উদাসীনতার কারণে উপজেলার আহম্মদ নগর থেকে বনগাঁও-চতল সড়কের এই সেতুটির কাজ ঝুলে থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন অন্তত ১০ গ্রামের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, বনগাঁও-চতল সড়কের ওপর ব্রিজটি নির্মাণের দায়িত্ব যৌথভাবে পায় মমিনুল হক-স্বর্ণা ব্রিক্স ও হালিমা এন্টারপ্রাইজ। ২০২৩ সালের ১৬ আগস্ট সাত কোটি ৪৮ লাখ ৪১ হাজার ৮২৮ টাকা ব্যয়ে এর নির্মাণকাজ শুরু হয়। চুক্তি অনুযায়ী ২০২৫ সালের ২ জানুয়ারি কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা সম্পন্ন হয়নি। পরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আরও ১৬ মাস সময় বাড়িয়ে নিলেও সেই বর্ধিত সময়সীমাও গত মাসে শেষ হয়েছে। এদিকে কাজের অগ্রগতি ৭০ শতাংশ দেখানো হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ বিল উত্তোলন করেছে।

তিন বছরেও শেষ হয়নি সেতুনির্মাণ। ছবি: এশিয়া পোস্ট
তিন বছরেও শেষ হয়নি সেতুনির্মাণ। ছবি: এশিয়া পোস্ট

স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের চরম গাফিলতি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণেই গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুটির নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে। ফলে বনগাঁও, চতল, জিগাতলা, খাঁ-পাড়া, কালাকুড়াসহ আশপাশের অন্তত ১০টি গ্রামের প্রায় ১৫ হাজার মানুষকে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, ব্রিজের দুটি পিলার ও কিছু অংশের কাঠামো নির্মিত হলেও অধিকাংশ কাজ এখনও বাকি। ফলে বাধ্য হয়ে স্থানীয়রা ঝুঁকি নিয়ে একটি অস্থায়ী বাঁশের সাঁকো দিয়ে নদী পারাপার করছেন। নদীতে পানি বাড়লেই সাঁকোটি তলিয়ে যায়; তাছাড়া পাহাড়ি ঢলে যেকোনো সময় সাঁকোটি ভেসে যাওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।

বনগাঁও গ্রামের বাসিন্দা ফারুক মিয়া বলেন, তিন বছর ধরে শুধু কাজের আশ্বাসই শুনে আসছি। বর্ষা এলেই আমাদের দুর্ভোগ বহু গুণ বেড়ে যায়। রোগী, শিক্ষার্থী ও কৃষকদের সবচেয়ে বেশি কষ্ট পোহাতে হচ্ছে। আমরা দ্রুত এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি চাই।

একই এলাকার বাসিন্দা রোকসানা বেগম আক্ষেপ করে বলেন, ব্রিজ না থাকায় বাজারে যাতায়াত ও সন্তানদের স্কুলে পৌঁছে দিতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে কাজ চলছে, কিন্তু শেষ হওয়ার কোনো নাম নেই। মাত্র দুই-তিনজন শ্রমিক দিয়ে কি এত বড় ব্রিজের কাজ দ্রুত শেষ করা সম্ভব?

স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বলেন, ঠিকাদার কিছুদিন কাজ চালায়, আবার দীর্ঘদিন বন্ধ রাখে। এতে চরম ক্ষতির মুখে পড়ছি আমরা সাধারণ মানুষ। যাতায়াত ব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় এই অঞ্চলে ছেলে-মেয়েদের বিয়ে-শাদী পর্যন্ত হতে চায় না। আমরা চাই দ্রুততম সময়ের মধ্যে ব্রিজটির কাজ সম্পন্ন করা হোক।

ছবি: এশিয়া পোস্ট
ছবি: এশিয়া পোস্ট

তবে অভিযোগ প্রসঙ্গে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি হারুন মিয়া বলেন, স্থানীয়দের যাতায়াতের সুবিধার্থে ইতোমধ্যে আমরা বিকল্প বাঁশের সাঁকো তৈরি করে দিয়েছি। কিছু প্রযুক্তিগত ও বাহ্যিক জটিলতা থাকলেও খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই ব্রিজের অবশিষ্ট কাজ শেষ করা হবে। ব্রিজটির কাজ সম্পন্ন হলে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে।"

এ বিষয়ে জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ বিভিন্ন কারণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কিছুটা আর্থিক ও প্রযুক্তিগত ক্ষতির মুখে পড়েছিল, সে কারণেই কাজে বিলম্ব হয়েছে। আমরা বিষয়টি নিয়মিত তদারকি করছি। আশা করছি, আগামী শুষ্ক মৌসুমের মধ্যেই সেতুর নির্মাণকাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হবে।

বিষয় :শেরপুর