Advertisement

চিয়া সিড খেতে এই ভুল করছেন, অজান্তেই বাড়বে যেসব ঝুঁকি

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
চিয়া সিড খেতে এই ভুল করছেন, অজান্তেই বাড়বে যেসব ঝুঁকি
ছবি : সংগৃহীত

চিয়া সিড পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ একটি সুপারফুড হিসেবে পরিচিত। তবে স্বাস্থ্যকর বলে ইচ্ছেমতো বা ভুল নিয়মে খাওয়া ঠিক নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, চিয়া সিড সঠিকভাবে না খেলে বা অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে হজমের সমস্যা, গলায় আটকে যাওয়ার ঝুঁকি এবং কিছু মানুষের ক্ষেত্রে অন্যান্য শারীরিক জটিলতাও দেখা দিতে পারে। তাই এর উপকার পেতে হলে সঠিক নিয়মে খাওয়ার বিষয়টিও জানা জরুরি।

চিয়া সিড এখন স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের কাছে বেশ জনপ্রিয় একটি খাবার। ওজন নিয়ন্ত্রণ, হজম ভালো রাখা, হৃদ্‌স্বাস্থ্যের যত্ন এবং শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি পূরণে এটি অনেকেই নিয়মিত খেয়ে থাকেন। কিন্তু এই উপকারী খাবারও ভুলভাবে বা অতিরিক্ত খেলে উপকারের বদলে ক্ষতির কারণ হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চিয়া সিডে প্রচুর ফাইবার, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, প্রোটিন এবং বিভিন্ন খনিজ উপাদান থাকলেও এটি সবার জন্য সমানভাবে নিরাপদ নয়। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এটি অস্বস্তি থেকে শুরু করে গুরুতর শারীরিক সমস্যাও তৈরি করতে পারে।

কেন ঝুঁকি তৈরি হতে পারে?

চিয়া সিডের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো এটি পানির সংস্পর্শে এলে নিজের ওজনের অনেক গুণ পর্যন্ত পানি শোষণ করে ফুলে যায়। তাই শুকনো চিয়া সিড সরাসরি খেয়ে তার ওপর পানি পান করলে বীজগুলো গলা বা খাদ্যনালিতে ফুলে গিয়ে আটকে যেতে পারে। বিশেষ করে যাদের গিলতে সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি।

যাদের চিয়া সিড খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা উচিত

গিলতে সমস্যা আছে যাদের

স্ট্রোক, স্নায়বিক রোগ বা অন্য কোনো কারণে যাদের খাবার গিলতে সমস্যা হয়, তাদের জন্য শুকনো চিয়া সিড ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এটি খাদ্যনালিতে আটকে গিয়ে জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনও তৈরি করতে পারে।

হজমের সমস্যায় ভুগছেন যারা

চিয়া সিডে ফাইবারের পরিমাণ অনেক বেশি। হঠাৎ বেশি পরিমাণে খাওয়া শুরু করলে পেট ফাঁপা, গ্যাস, পেটব্যথা বা কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে যাদের ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম বা আইবিএস এবং প্রদাহজনিত অন্ত্রের রোগ রয়েছে, তাদের আরও সতর্ক থাকতে হবে।

ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ সেবন করেন যারা

চিয়া সিড রক্তে শর্করা ও রক্তচাপ কিছুটা কমাতে সাহায্য করতে পারে। তাই ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের ওষুধের সঙ্গে এটি নিয়মিত খেতে চাইলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো। অন্যথায় ওষুধের প্রভাবের সঙ্গে মিলিত হয়ে রক্তে শর্করা বা রক্তচাপ অতিরিক্ত কমে যেতে পারে।

রক্ত পাতলা করার ওষুধ সেবন করলে

চিয়া সিডে উদ্ভিজ্জ ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে। যদিও সাধারণ পরিমাণে এটি বেশির ভাগ মানুষের জন্য নিরাপদ, তবুও যারা রক্ত পাতলা করার ওষুধ খান, তাদের ক্ষেত্রে নিয়মিত বেশি পরিমাণে খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

অ্যালার্জি থাকলে

খুব বিরল হলেও কারও কারও চিয়া সিডে অ্যালার্জি হতে পারে। খাওয়ার পর ত্বকে চুলকানি, র্যাশ, ঠোঁট বা জিহ্বা ফুলে যাওয়া কিংবা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

কীভাবে নিরাপদে খাবেন?

চিয়া সিড নিরাপদে খাওয়ার জন্য কয়েকটি সহজ নিয়ম মেনে চলা জরুরি।

  • শুকনো চিয়া সিড সরাসরি না খেয়ে আগে ১৫ থেকে ৩০ মিনিট পানি, দুধ বা অন্য কোনো তরলে ভিজিয়ে নিন।
  • প্রথমদিকে অল্প পরিমাণে খাওয়া শুরু করুন এবং ধীরে ধীরে পরিমাণ বাড়ান।
  • চিয়া সিড খাওয়ার সময় পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
  • দই, ওটস, স্মুদি, সালাদ বা পুডিংয়ের সঙ্গে মিশিয়ে খেলে এটি সহজে হজম হয়।

প্রতিদিন কতটা খাওয়া যেতে পারে?

বেশির ভাগ সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য প্রতিদিন ১ থেকে ২ টেবিল চামচ চিয়া সিড যথেষ্ট। এর বেশি খাওয়ার প্রয়োজন সাধারণত হয় না। অতিরিক্ত খেলে ফাইবারের কারণে হজমের সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

চিয়া সিড নিঃসন্দেহে পুষ্টিকর একটি খাবার। তবে এটি কোনো জাদুকরি খাদ্য নয় এবং সঠিক নিয়ম না মেনে খেলে সমস্যা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে শুকনো চিয়া সিড খাওয়ার অভ্যাস এড়িয়ে চলা, পরিমিত পরিমাণে খাওয়া এবং বিশেষ কোনো রোগ বা ওষুধ সেবনের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়। এতে চিয়া সিডের উপকারিতা পাওয়া যাবে, আবার অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকিও এড়ানো সম্ভব হবে।

সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন