Advertisement

গলায় মাছের কাঁটা আটকে গেলে যেসব ভুল বিপদ ডেকে আনতে পারে

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
গলায় মাছের কাঁটা আটকে গেলে যেসব ভুল বিপদ ডেকে আনতে পারে
ছবি : সংগৃহীত

গলায় মাছের কাঁটা আটকে গেলে আতঙ্কিত হয়ে যেকোনো ঘরোয়া উপায় অনুসরণ করা ঠিক নয়। অনেক প্রচলিত কৌশল নিরাপদ মনে হলেও কিছু ক্ষেত্রে এগুলো কাঁটাকে আরও গভীরে ঠেলে দিতে পারে বা গলা ও খাদ্যনালিতে ক্ষত সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন পরিস্থিতিতে কোন কাজগুলো এড়িয়ে চলতে হবে এবং কখন দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন, সে সম্পর্কে সচেতন থাকাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

মাছ খেতে গিয়ে গলায় কাঁটা আটকে যাওয়া খুবই সাধারণ একটি ঘটনা। ছোট একটি কাঁটাও গলায় তীব্র অস্বস্তি, ব্যথা এবং গিলতে সমস্যা তৈরি করতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই তাড়াহুড়ো করে ভাতের বড় লোকমা, কলা বা রুটি গিলে কাঁটা নামানোর চেষ্টা করেন। আবার কেউ কেউ ভিনেগার বা পানি বেশি করে পান করেন।

কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এসব ঘরোয়া পদ্ধতি সব সময় নিরাপদ নয়। উল্টো কাঁটা আরও গভীরে ঢুকে গিয়ে গলা বা খাদ্যনালিতে ক্ষত তৈরি করতে পারে। তাই গলায় মাছের কাঁটা আটকে গেলে আতঙ্কিত না হয়ে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

কীভাবে বুঝবেন গলায় কাঁটা আটকে গেছে?

মাছের কাঁটা আটকে গেলে সাধারণত নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিতে পারে।

  • গলায় কিছু আটকে থাকার অনুভূতি
  • ঢোক গিলতে ব্যথা হওয়া
  • গলায় খচখচে অনুভূতি
  • বারবার কাশি আসা
  • গলার নির্দিষ্ট একটি স্থানে ব্যথা
  • কখনও কখনও লালার সঙ্গে অল্প রক্ত আসা

কী করবেন

যদি মনে হয় ছোট একটি কাঁটা গলার ওপরের দিকে আটকে আছে, তাহলে শান্ত থাকার চেষ্টা করুন।

খাওয়া বন্ধ করুন। কয়েকবার হালকা কাশি দেওয়ার চেষ্টা করতে পারেন। এতে অগভীরভাবে আটকে থাকা কাঁটা বের হয়ে আসতে পারে।

ভালো আলোতে মুখ খুলে যদি কাঁটাটি স্পষ্ট দেখা যায় এবং খুব সামনের দিকে থাকে, তাহলে অন্য কারও সাহায্যে পরিষ্কার টুইজার দিয়ে সতর্কতার সঙ্গে বের করার চেষ্টা করা যেতে পারে।

যেসব কাজ করবেন না

বিশেষজ্ঞরা কিছু প্রচলিত পদ্ধতি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন।

  • জোর করে বড় বড় ভাতের লোকমা গিলবেন না।
  • শুকনো রুটি বা অন্য শক্ত খাবার গিলে কাঁটা নামানোর চেষ্টা করবেন না।
  • ভিনেগার খেয়ে কাঁটা গলিয়ে ফেলার চেষ্টা করবেন না। এতে কাঁটা গলে যায় না।
  • আঙুল বা ধারালো কোনো বস্তু দিয়ে গলার ভেতর খোঁচাখুঁচি করবেন না।
  • ব্যথা কমে গেছে ভেবে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করবেন না, যদি কাঁটা আটকে থাকার অনুভূতি থেকেই যায়।

কখন দ্রুত হাসপাতালে যাবেন

নিচের যেকোনো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে হাসপাতালের জরুরি বিভাগ বা নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞের কাছে যেতে হবে।

  • শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া
  • ঢোক বা পানি গিলতে না পারা
  • তীব্র বা ক্রমশ বাড়তে থাকা ব্যথা
  • লালার সঙ্গে রক্ত আসা
  • গলা বা ঘাড় ফুলে যাওয়া
  • কাঁটা গভীরে আটকে গেছে বলে মনে হওয়া
  • কয়েক ঘণ্টা পরও অস্বস্তি না কমা

হাসপাতালে কীভাবে কাঁটা বের করা হয়?

চিকিৎসক প্রথমে গলা পরীক্ষা করেন। প্রয়োজন হলে বিশেষ আলো, ল্যারিঙ্গোস্কোপ বা এন্ডোস্কোপের সাহায্যে কাঁটার অবস্থান নির্ণয় করে নিরাপদভাবে তা বের করে দেন।

নিজে চেষ্টা করতে গিয়ে কাঁটাকে আরও গভীরে ঠেলে দেওয়ার চেয়ে বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে এটি বের করানো অনেক বেশি নিরাপদ।

কীভাবে এই সমস্যা এড়াবেন?

  • মাছ ধীরে ধীরে এবং ভালোভাবে চিবিয়ে খান।
  • খাওয়ার সময় তাড়াহুড়ো করবেন না।
  • গল্প করতে করতে বা মোবাইল দেখতে দেখতে মাছ খাবেন না।
  • শিশু ও বয়স্কদের মাছ খাওয়ানোর আগে যতটা সম্ভব কাঁটা বেছে দিন।

গলায় মাছের কাঁটা আটকে গেলে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে ভুল পদ্ধতি ব্যবহার করলে ছোট সমস্যা বড় হয়ে যেতে পারে। তাই জোর করে ভাত, রুটি বা অন্য খাবার গিলে কাঁটা নামানোর চেষ্টা না করে সঠিক উপায়ে ব্যবস্থা নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ। আর যদি ব্যথা, অস্বস্তি বা শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

সূত্র: নিউজ বাংলা ১৮