Advertisement

গত ১৭ বছরের তুলনায় দেশ এখন স্বাভাবিক, রাষ্ট্রীয় মদদে গুম-খুন হয়নি: পার্থ

এশিয়া পোস্ট নিউজ, ভোলা
গত ১৭ বছরের তুলনায় দেশ এখন স্বাভাবিক, রাষ্ট্রীয় মদদে গুম-খুন হয়নি: পার্থ
ভোলা সদরের ইলিশা ও রাজাপুরের নদীভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শনে ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ। ছবি : এশিয়া পোস্ট

বিগত ১৭ বছরের তুলনায় বর্তমানে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি অনেক বেশি স্বাভাবিক রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ।

তিনি বলেন, গত সাড়ে চার মাসে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় মদদে গুম-খুন, রাজনৈতিক হয়রানি বা বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ ওঠেনি।

বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে ভোলা সদরের ইলিশা ও রাজাপুরের নদীভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

ব্যারিস্টার পার্থ বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের রাষ্ট্রীয় মদদে গুম-খুন বা বড় ধরনের দুর্নীতি হয়নি এবং ভবিষ্যতেও হবে না বলে তিনি আশাবাদী। তবে ব্যক্তিগতভাবে কেউ অনিয়ম করলে তার বিরুদ্ধে সরকার ব্যবস্থা নিচ্ছে বলেও জানান তিনি।

রাজনৈতিক সহিংসতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এনসিপির নেতাদের ওপর হামলার ঘটনা তিনি শুনেছেন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংস্কৃতির কারণেই এ ধরনের সংঘাতের ঘটনা ঘটছে। সময়ের সঙ্গে এ সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সব রাজনৈতিক দলের প্রতি ধৈর্য ধারণ এবং উসকানিমূলক ও অশালীন বক্তব্য পরিহারের আহ্বান জানান তিনি।

ভোলার শিল্পায়নের সম্ভাবনার বিষয়ে সংসদ সদস্য বলেন, শুধু গ্যাস থাকলেই শিল্প গড়ে ওঠে না। ভোলা-বরিশাল সেতুসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, আইনশৃঙ্খলা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। সরকারের লক্ষ্য ভোলাকে একটি শিল্পাঞ্চলে পরিণত করা এবং এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর সমন্বিতভাবে কাজ করবে।

ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার নীতিগতভাবে সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বর্তমানে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুমোদনের প্রক্রিয়া চলছে। এরপর সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) পদ্ধতিতে বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে। একইভাবে ভোলায় একটি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার বিষয়েও সরকার কাজ করছে বলে জানান তিনি।

নদীভাঙন পরিস্থিতি নিয়ে ব্যারিস্টার পার্থ বলেন, ভোলার শিবপুর, ইলিশা ও রাজাপুর এলাকার ভাঙন উদ্বেগজনক। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জানান, এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের একটি প্রকল্প চলমান থাকলেও কাজের গতি আরও বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে। নদীর গতিপ্রকৃতি ও কারিগরি বিষয় বিবেচনায় নিয়ে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এর আগে, ভোলা সদর হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে তিনি হাসপাতালের চিকিৎসক, পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ জনবলের সংকট এবং ওষুধের ঘাটতির বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। পরিদর্শনকালে ভোলা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সজল কুমার দাস, স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

বিষয় :ভোলা