Advertisement

‘আপনি আমাদের ভালোবাসার যোগ্য নন’ ক্যাটরিনাকে ভক্তরা

এশিয়া পোস্ট বিনোদন
‘আপনি আমাদের ভালোবাসার যোগ্য নন’ ক্যাটরিনাকে ভক্তরা
অভিনেত্রী ক্যাটরিনা কাইফ।

দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষা সুরক্ষা ও অধিকার আদায়ে দিল্লির রাজপথে যখন অনশনরত শিক্ষার্থীরা বিনিদ্র রজনী কাটাচ্ছেন। তাদেরে এই আন্দলোনে বলিউডের অনেক তারকই এরই মধ্যে সমাজিক মাধ্যমে সম্মতি জানিয়েছেন, অনেকে আবার উপস্থিত হয়েছেন সশরীরে। এবার নীরব ভূমিকায় থাকা অভিনেত্রী ক্যাটরিনা কাইফকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন তার ভক্ত-অনুরাগীরা। এমনকি ক্যাটকে ‘মেরুদণ্ডহীন’ আখ্যা দিয়ে অভিনেত্রীর পুরনো একটি জনপ্রিয় ফ্যানপেজ চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

জুলাইয়ের শুরু থেকেই নিট পরীক্ষা কেলেঙ্কারি এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অনশন শুরু করেছিলেন শিক্ষার্থীরা, যার নেতৃত্বে ছিলেন প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক।

দিল্লির যন্তর-মন্তরে দীর্ঘ দিন চলা এই বিক্ষোভ সম্প্রতি চরম আকার ধারণ করে ‘সংসদ চলো’ অভিযানকে কেন্দ্র করে। আন্দোলনরত ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ ও শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে বেপরোয়া লাঠিচার্জ, জলকামান ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে পুলিশ।

শিক্ষার্থীদের ওপর এই নির্মমতার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যেই আওয়াজ তুলেছেন শাবানা আজমি, জিনাত আমান, অপর্ণা সেন, অনুরাগ কাশ্যপ ও অরিজিৎ সিংয়ের মতো বলিউডের জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বরা। তবে উল্টো মেরুতে অবস্থান নিয়ে নীরব রয়েছেন ক্যাটরিনা কাইফ, যা একদমই মেনে নিতে পারছেন না তার অনুরাগীরা।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্যাটরিনা কাইফের গতিবিধির নানা তথ্য প্রকাশের জন্য দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত ছিল ‘ক্যাথোলিক_ ফ্যানস’ নামের একটি জনপ্রিয় ফ্যানপেজ। প্রিয় তারকার এমন নীরবতায় ক্ষুব্ধ হয়ে পেজটির অ্যাডমিন পেজটি পুরোপুরি বন্ধ করার ঘোষণা দিয়ে একটি দীর্ঘ আবেগঘন বিবৃতি জারি করেছেন।

বিবৃতিতে লেখা হয়, ‘ছোটবেলা থেকেই আপনার ভক্ত ছিলাম। কিন্তু আমরা—অর্থাৎ যেসব ভারতীয় শিক্ষার্থী আপনাকে মন থেকে ভালোবাসলাম, আজ আমাদের বিপদে আপনার মুখ থেকে একটা কথাও ফুটলো না! সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলার মতো সাহস বা মেরুদণ্ড আপনার নেই। আপনার কঠিন সময়ে আমরা পাশে ছিলাম, কিন্তু আজ যখন আমাদের আপনার সমর্থনের প্রয়োজন ছিল, আপনি বিশ্বাসঘাতকতা করলেন। আপনাকে আনফলো করার পাশাপাশি এই পেজটিও চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া হলো। আপনি আমাদের ভালোবাসার যোগ্য নন।’

তবে বিতর্কের মাঝে ক্যাটরিনার ভক্তদের একাংশ তার পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাদের দাবি, কোনো বিষয়ে মুখ খোলা বা না খোলা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ও গণতান্ত্রিক অধিকার, কাউকে জোর করে মন্তব্য করতে বাধ্য করা অনুচিত।