একদম খালি গায়ে ঘুমানো কি জায়েজ

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
একদম খালি গায়ে ঘুমানো কি জায়েজ
প্রতীকী ছবি

আল্লাহ তাআলার অশেষ নেয়ামতের অন্যতম নেয়ামত ঘুম। পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘আমি তোমাদের বিশ্রামের জন্য নিদ্রা দিয়েছি। তোমাদের জন্য রাতকে করেছি আবরণস্বরূপ। দিনকে বানিয়েছি তোমাদের কাজের জন্য।’ (সুরা নাবা, আয়াত: ৯-১১)

রাতে যথাসম্ভব তাড়াতাড়ি ঘুমানো উচিত। ফজর নামাজ যেন কাজা না হয়, সেদিকে পূর্ণ খেয়াল রাখতে হবে। ঘুম থেকে ওঠার পর আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় করা সওয়াবের কাজ। কারণ, ঘুম হলো এক প্রকার ‘মৃত্যু’। ঘুমের পর জাগ্রত ব্যক্তি নতুন জীবন ফিরে পায়। তাই আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় করা ইমানি দায়িত্ব।

হজরত মুহাম্মদ (সা.) যেভাবে ঘুমাতেন, তিনি সাহাবিদের যেভাবে ঘুমানোর কথা বলেছেন, সেভাবে ঘুমানো সুন্নত। এতে সওয়াব পাওয়া যায়। স্বাস্থ্যও ভালো থাকে। অনেকে ঘুমানোর সময় একবারে উলঙ্গ বা খালি গায়ে ঘুমান। প্রশ্ন হলো, উলঙ্গ বা খালি গায়ে ঘুমানো জায়েজ কি না?

ইসলামি বিশেষজ্ঞদের মতে, খালি গায়ে বা উলঙ্গ হয়ে ঘুমানো মুবাহ বা জায়েজ। এ বিষয়ে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে একদম উলঙ্গ থাকা উচিত নয়। হজরত মুহাম্মদ (সা.) খালি গায়ে ঘুমাতেন না। তাই আলেমরা খালি গায়ে ঘুমানোর বিষয়ে নিরুৎসাহিত করেছেন।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা নগ্নতা থেকে বেঁচে থাকো। কেননা তোমাদের এমন সঙ্গী আছেন (কিরামান-কাতিবিন নামের দুই ফেরেশতা) যারা প্রস্রাব-পায়খানা ও স্বামী-স্ত্রীর সহবাসের সময় ছাড়া অন্য কোনো সময় তোমাদের থেকে আলাদা হন না। তাই তাদের লজ্জা করো এবং সম্মান করো।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৮০০)

ইমানের সত্তরটিরও বেশি শাখা রয়েছে। এর মধ্যে সবার আগে হলো এই ঘোষণা যে, আল্লাহ ছাড়া দ্বিতীয় কোনো উপাস্য নেই, আর সর্বনিম্ন হলো রাস্তা থেকে কোনো ক্ষতিকর বস্তুকে সরিয়ে দেওয়া। লজ্জা ইমানের একটি শাখা। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৫১)

আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ ইউটিউবে এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ‘ইসলামি শরিয়তে খালি গায়ে ঘুমানো বা গায়ের ওপর কিছু দিয়ে ঘুমানোর বিষয়ে কোনো নির্দেশনা নেই। খালি গায়ে বা গায়ে কাপড় দিয়ে ঘুমানো যাবে। খালি গায়ে ঘুমালে অসুখ হওয়ার শঙ্কা থাকলে খালি গায়ে না ঘুমানো উচিত।’