ঈদের নামাজের আগে কোরবানির পশু জবাই করা যাবে?

আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য নির্ধারিত দিনে পশু জবাই করা হলো কোরবানি। কোরবানি করতে হয় ঈদুল আজহার দিন ও পরের দুই দিন। তবে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে, ঈদের নামাজের আগে কোরবানির পশু জবাই করলে তা সঠিক হবে কি না?
কখন কোরবানি করতে হবে, এর সময় নির্ধারণ করে দিয়েছেন হজরত মুহাম্মদ (সা.)। ঈদুল আজহার দিন ঈদের নামাজ শেষ হওয়ার পর কোরবানি করতে হবে। নামাজের আগে কোরবানি করলে হবে না। বারা ইবনে আজিব (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ঈদের নামাজের আগে পশু জবাই করল, তা তার পরিবারের জন্য গোশতের ব্যবস্থা হিসেবে গণ্য হবে; এটি কোরবানি নয়।’ (সহিহ বুখারি)
রাসুলুল্লাহ (সা.) ঈদুল আজহার দিন প্রথমে নামাজ আদায় করতেন। পরে কোরবানি করতেন। এভাবে আমলা করা হলো সুন্নত। তিনি বলেন, ‘আমরা এ দিনে প্রথমে নামাজ আদায় করি, এরপর ফিরে এসে কোরবানি করি। যে এভাবে আমল করল, সে আমাদের সুন্নাহর অনুসরণ করল।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৯৬৮)
ইসলামিক বিশেষজ্ঞরা বলেন, যেখানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়, সেখানে ঈদের নামাজের পর কোরবানি করতে হবে। নামাজের আগে কোরবানি করলে তা সহিহ হবে না। সেক্ষেত্রে পুনরায় কোরবানি করতে হবে। তবে যেখানে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয় না, সেখানে সুবহে সাদিকের পর ঈদের নামাজ আদায়ের সময় পরিমাণ অতিবাহিত হলে কোরবানি করা জায়েজ। কারণ সেখানে নামাজের পরিবর্তে সময়কে বিবেচনা করা হয়।
কোরবানির সময় শুরু হয় ১০ জিলহজ ঈদের নামাজের পর থেকে এবং শেষ হয় ১২ জিলহজ সূর্যাস্তের আগে। এ সময়ের মধ্যেই কোরবানি সম্পন্ন করতে হয়।
কোরবানি শুধু পশু জবাই নয়; এটি আল্লাহর প্রতি আনুগত্য, ত্যাগ ও তাকওয়ার এক মহান শিক্ষা। তাই আবেগ বা তাড়াহুড়া নয়, বরং হাদিস ও শরিয়তের নির্দেশনা অনুযায়ী সঠিক সময়ে কোরবানি আদায় করাই একজন মুমিনের দায়িত্ব। কোরআনে আছে, ‘তোমাদের কোরবানির পশুর গোশত ও রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না। আল্লাহর কাছে পৌঁছায় তোমাদের তাকওয়া বা আল্লাহভীতি।’ (সুরা হজ, আয়াত: ৩৭)





