রোমে ভুয়া যাজক ও ধনকুবের সেজে কোটি টাকার প্রতারণা, গ্রেপ্তার ৩

ইসমাইল হোসেন স্বপন, ইতালি
রোমে ভুয়া যাজক ও ধনকুবের সেজে কোটি টাকার প্রতারণা, গ্রেপ্তার ৩
রোমে ভুয়া যাজক ও ধনকুবের সেজে কোটি টাকার প্রতারণা আটক ব্যক্তি। ছবি: এশিয়া পোস্ট

ইতালির রাজধানী রোমে ভুয়া যাজক, ভ্যাটিকানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও আন্তর্জাতিক ধনকুবের পরিচয়ে কোটি কোটি ইউরোর প্রতারণা চক্রের তিন মূলহোতাকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির কারাবিনিয়েরি পুলিশ।

রোমের সান লোরেঞ্জো ইন লুচিনা থানার কারাবিনিয়েরি পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের বয়স ৫৭ থেকে ৭৩ বছরের মধ্যে। তারা সবাই ইতালির নাগরিক ও দীর্ঘদিন ধরে অপরাধ জগতের সঙ্গে জড়িত। ১৯৬০ ও ৭০-এর দশক থেকেই তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধের রেকর্ড রয়েছে।

তদন্তে জানা গেছে, চক্রটি রোমের চেনতোচেল্লে এলাকার সাধারণ কয়েকটি বারে বসে প্রতারণার পরিকল্পনা করলেও নিজেদের কখনও উজবেক ধনকুবের, কখনও রাশিয়ান তেল ব্যবসায়ী, আবার কখনও ক্যামেরুন বা মালয়েশিয়ার প্রভাবশালী ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দিত। তাদের প্রতারণার ফাঁদে দেশি-বিদেশি একাধিক ব্যবসায়ীও পড়েছেন।

পুলিশ জানায়, চক্রটি মূলত তিনটি কৌশলে প্রতারণা চালাত। প্রথমত, সদস্যরা ভ্যাটিকানের যাজকের পোশাক পরে ধর্মীয় কর্মকর্তা সেজে জিরো শতাংশ সুদে ঋণ কিংবা মিলিয়ন ইউরোর ভুয়া টেন্ডার পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখাত। পরে বিভিন্ন ‘চ্যারিটি ফান্ড’ বা অনুদানের নামে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে নগদ অর্থ আদায় করত।

দ্বিতীয়ত, তারা বিলাসবহুল হোটেলে লাক্সেমবার্গের ফান্ড ম্যানেজার বা রাশিয়ান তেল ব্যবসায়ীর মধ্যস্থতাকারী পরিচয়ে বৈঠক করত। ভুয়া নোটারির মাধ্যমে চুক্তি সম্পন্ন করে কমিশনের অগ্রিম হিসেবে লাখ লাখ ইউরো হাতিয়ে নিত।

তৃতীয়ত, ‘ব্ল্যাক লিকুইড’ নামে পরিচিত টাকা দ্বিগুণ করার ভুয়া কৌশল দেখানোর সময় চক্রের অন্য সদস্যরা নকল কারাবিনিয়েরি পুলিশ সেজে অভিযানের নাটক সাজাত। ভুয়া আইডি, হাতকড়া ও জাল পরোয়ানা নিয়ে ঘটনাস্থলে প্রবেশ করে তারা ভুক্তভোগীদের আতঙ্কিত করত। ফলে সামাজিক ও আইনি ঝামেলার ভয়ে অধিকাংশ ভুক্তভোগী পুলিশের কাছে অভিযোগ করতেন না।

অভিযান চালিয়ে পুলিশ চক্রটির কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম জব্দ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে যাজকদের পোশাক, ভুয়া পুলিশ পরিচয়পত্র, খেলনা পিস্তল, জাল নোটের বান্ডিল এবং টাকা দ্বিগুণ করার প্রতারণায় ব্যবহৃত রাসায়নিক কালি।

কারাবিনিয়েরি পুলিশ জানিয়েছে, তাদের অভিযানের ফলে প্রায় ১২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ইউরো মূল্যের সম্ভাব্য প্রতারণা প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে, যার পরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রায় শত কোটি টাকারও বেশি।