কাউকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পেতে দোয়া করা যাবে?

ইসলামে দোয়ার গুরুত্ব ও মর্যাদা অপরিসীম। দোয়া হচ্ছে আল্লাহর কাছে বান্দার সাহায্য কামনা, তাকে ডাকা, তার প্রতি নিজের মুখাপেক্ষিতা প্রদর্শন করা আর সব কিছু থেকে বিমুখ করা। হাদিসে দোয়াকে ইবাদত বলা হয়েছে। দোয়া ইবাদতের মূল। কারণ, দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর সামনে বান্দার দাসত্ব পূর্ণরূপে প্রকাশ পায়। আল্লাহ চান বান্দা প্রতিটি কাজে তার কাছে দোয়া করুক। তার সাহায্য প্রার্থনা করুক। দোয়া করলে আল্লাহ খুশি হন। দোয়া কবুল করেন। পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘তোমাদের প্রতিপালক বলেছেন, ‘তোমরা আমাকে ডাকো। আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব (দোয়া কবুল করব)। নিশ্চয়ই অহংকারবশে যারা ইবাদত থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তারা লাঞ্ছিত হয়ে জান্নামে প্রবেশ করবে।’ (সুরা মুমিন, আয়াত: ৬০)
দোয়া রোগের আরোগ্য। শত্রুর মোকাবিলায় অস্ত্র। বিপদাপদ দূর করার সবচেয়ে শক্তিশালী উপকরণ। হজরত মুহাম্মদ (সা.) ও সাহাবিরা দোয়ায় খুব মনোযোগী ছিলেন। জুতার ফিতার প্রয়োজন হলেও মহানবী (সা.) আল্লাহর কাছে চাইতে বলেছেন। আল্লাহ যেহেতু সব কিছু তাঁর কাছে চাইতে বলেছেন এবং তিনি সাড়া দেওয়ার কথা জানিয়েছেন, তাই কেউ কেউ জানতে চান, কাউকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পাওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করা যাবে?
ইসলাম বিশেষজ্ঞরা বলেন, সুনির্দিষ্ট করে কাউকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পাওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করতে ইসলামি শরিয়ায় মৌলিকভাবে বাধা নেই। পছন্দের মানুষকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পাওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করা যাবে, যদি সংশ্লিষ্ট ছেলে-মেয়ের সঙ্গে অবৈধ বা ইসলামবিরোধী সম্পর্ক জড়িত না থাকে।
হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘দোয়ায় অন্যায় কাজ বা আত্মীয়তার সম্পর্কচ্ছেদ করা বা তাড়াহুড়ার কথা না থাকলে বান্দার দোয়া সবসময় গ্রহণ করা হয়। একজন জানতে চাইলেন, হে আল্লাহর রাসুল, (সা.) (দোয়ায়) তাড়াহুড়া করা কি? তিনি বললেন, সে বলতে থাকে, আমি তো দোয়া করেছি, আমি তো দোয়া করেছি; কিন্তু আমি দেখতে পেলাম না যে, তিনি আমার দোয়া কবুল করেছেন। তখন সে ক্লান্ত হয়ে পড়ে, আর দোয়া করা থেকে নিজেকে বিরত রাখে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৬৮২৯)
হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী, তিন বিষয়ে দোয়া করা যাবে না। এক. গোনাহের কাজ, দুই. আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন, ও তিন. দোয়া করে ফলাফল পেতে তাড়াহুড়া করা।
হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী, এ তিনটি ক্ষেত্র ছাড়া যে কোনো বিষয়ে আল্লাহর সাহায্য লাভে দোয়া করা যেতে পারে। তবে ইসলামি শরিয়া চায়, মানুষ যেন আল্লাহর কাছে কল্যাণের শর্ত জুড়ে দিয়ে দোয়া করে।
শর্ত জুড়ে দিয়ে দোয়া করা প্রত্যেকের জন্য কল্যাণকর ও উপকারী। কোরআনে শর্ত জুড়ে দিয়ে এভাবে দোয়া করার জন্য ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘আর তোমাদের কাছে হয়তো কোনো একটা বিষয় পছন্দসয় নয়, অথচ তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। আর হয়তো-বা কোনো একটি বিষয় তোমাদের কাছে পছন্দনীয় অথচ তা তোমাদের জন্য অকল্যাণকর। বস্তুত আল্লাহই জানেন, তোমরা জান না।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ২১৬)
আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ ফাউন্ডেশনের ইউটিউবে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘কোনো প্রকার অনৈতিক সম্পর্কে জড়ানো ছাড়া পছন্দের মানুষকে পাওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করা যাবে। কাঙ্ক্ষিত মানুষের সঙ্গে বিয়ে সহজের জন্য দোয়া করা যাবে। পাপ, আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন ও দোয়া কবুলের জন্য তাড়াহুড়া করা ছাড়া আল্লাহর কাছে যে কোনো বিষয়ে দোয়া করা যাবে। তবে ইসলাম একজন মুসলিমকে পরামর্শ দেয়, সে যেন নির্দিষ্ট শর্ত জুড়ে দিয়ে কাউকে জীবন সঙ্গী হিসেবে পাওয়ার দোয়া করে। সে বলবে, ‘হে আল্লাহ, অমুক ব্যক্তিকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পাওয়া যদি আমার জন্য সার্বিকভাবে কল্যাণকর হয়, তাহলে আপনি সহজ করে দিন।’ এভাবে দোয়া করা তার জন্য ভালো ও উপকারী।’




