কম বয়সেই চুল পেকে যাচ্ছে, জানুন সমাধান

সাধারণত বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চুল পাকা একটি স্বাভাবিক বিষয়। তবে এখন অনেকেরই কম বয়সেই চুলে সাদা বা ধূসর রঙ দেখা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে শুধু জিনগত কারণই নয়, জীবনযাপন, মানসিক চাপ, খাদ্যাভ্যাস এবং কিছু শারীরিক সমস্যাও দায়ী হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অল্প বয়সে চুল পাকার সবচেয়ে বড় কারণ হলো পারিবারিক ইতিহাস। যদি বাবা-মা বা পরিবারের অন্য সদস্যদের কম বয়সে চুল পেকে থাকে, তাহলে পরবর্তী প্রজন্মের ক্ষেত্রেও একই বিষয় দেখা যেতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘদিনের মানসিক চাপও চুল পাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। অতিরিক্ত স্ট্রেস শরীরে এমন কিছু হরমোনের পরিবর্তন ঘটায়, যা চুলের রঙ তৈরি করা কোষের ওপর প্রভাব ফেলে। এর ফলে ধীরে ধীরে চুলের স্বাভাবিক রঙ হারাতে শুরু করে।
ধূমপানের কারণেও কম বয়সে চুল পাকার ঝুঁকি বাড়তে পারে। বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, সিগারেটের ক্ষতিকর উপাদান চুলের ফলিকলকে দুর্বল করে এবং মেলানিন উৎপাদন কমিয়ে দেয়। ফলে চুল দ্রুত সাদা হতে শুরু করে।
খাদ্যাভ্যাসও এখানে বড় ভূমিকা রাখে। শরীরে ভিটামিন বি১২, ভিটামিন ডি, আয়রন, জিঙ্ক, কপার বা ক্যালসিয়ামের ঘাটতি থাকলে চুল দ্রুত পেকে যেতে পারে। পুষ্টিকর খাবারের অভাব বা অনিয়মিত ডায়েটও সমস্যা বাড়ায়।
কিছু শারীরিক সমস্যাও অল্প বয়সে চুল পাকার কারণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, থাইরয়েডের সমস্যা, অটোইমিউন রোগ বা হরমোনের ভারসাম্যহীনতা চুলের রঙে প্রভাব ফেলতে পারে।
এছাড়া নিয়মিত কেমিক্যালযুক্ত হেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহার, অতিরিক্ত হেয়ার কালার, স্ট্রেইটেনিং বা হিট স্টাইলিংও চুলের স্বাভাবিক স্বাস্থ্য নষ্ট করতে পারে।
তাহলে কী করবেন?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুষম ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। খাদ্যতালিকায় ডিম, মাছ, বাদাম, শাকসবজি, ফল এবং প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখলে চুলের স্বাস্থ্য ভালো থাকে।
স্ট্রেস কমানোর দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম, যোগব্যায়াম বা মেডিটেশন মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে।
ধূমপান ছেড়ে দিলে শুধু চুল নয়, পুরো শরীরেরই উপকার হয়। পাশাপাশি কম কেমিক্যালযুক্ত হেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহার করাও গুরুত্বপূর্ণ।
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, যদি হঠাৎ করে খুব দ্রুত চুল পাকা শুরু হয়, তাহলে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত। প্রয়োজন হলে রক্ত পরীক্ষা করে ভিটামিনের ঘাটতি বা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা আছে কি না তা জানা যেতে পারে।
চুল কি আবার কালো হতে পারে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি চুল পাকার মূল কারণ জিনগত হয়, তাহলে সাধারণত তা পুরোপুরি ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। তবে পুষ্টির ঘাটতি, মানসিক চাপ বা জীবনযাপনের কারণে চুল পেকে থাকলে সঠিক যত্ন ও চিকিৎসার মাধ্যমে নতুন গজানো চুলে স্বাভাবিক রঙ ফিরে আসার সম্ভাবনা থাকতে পারে।
সূত্র: এনডিটিভি
.png)





