Advertisement

আজ জাতীয় আইসক্রিম ডে

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
আজ জাতীয় আইসক্রিম ডে
ছবি : সংগৃহীত

গরমের দিনে এক স্কুপ ঠান্ডা আইসক্রিম যেন মুহূর্তেই মন ভালো করে দিতে পারে। শিশু থেকে বয়স্ক, প্রায় সব বয়সের মানুষের কাছেই এটি অন্যতম প্রিয় ডেজার্ট। শুধু স্বাদের জন্যই নয়, আনন্দ ভাগাভাগি করার একটি মাধ্যম হিসেবেও আইসক্রিমের জনপ্রিয়তা বিশ্বজুড়ে। সেই ভালোবাসাকেই উদযাপন করতে প্রতি বছর জুলাই মাসের তৃতীয় রোববার পালন করা হয় ন্যাশনাল আইসক্রিম ডে।

আজ সেই বিশেষ দিন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আইসক্রিমপ্রেমীরা নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করেন। কোথাও থাকে বিশেষ ছাড়, কোথাও নতুন স্বাদের আইসক্রিম, আবার কোথাও পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে আইসক্রিম খাওয়ার আয়োজন।

ন্যাশনাল আইসক্রিম ডে হলো আইসক্রিমকে কেন্দ্র করে উদযাপিত একটি বিশেষ দিবস। এটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রে শুরু হলেও বর্তমানে বিশ্বের অনেক দেশেই দিনটি উপলক্ষে নানা ধরনের আয়োজন দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দিনটি ঘিরে আইসক্রিমপ্রেমীরা ছবি, ভিডিও ও নানা অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন।

কীভাবে শুরু হয়েছিল এই দিবস?

১৯৮৪ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান জুলাই মাসকে ন্যাশনাল আইসক্রিম মান্থ এবং জুলাইয়ের তৃতীয় রোববারকে ন্যাশনাল আইসক্রিম ডে হিসেবে ঘোষণা করেন।

সে সময় যুক্তরাষ্ট্রে দুগ্ধশিল্পকে উৎসাহিত করা এবং মানুষের মধ্যে আইসক্রিমের জনপ্রিয়তাকে উদযাপন করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এরপর থেকে প্রতিবছর একই নিয়মে দিবসটি পালন করা হচ্ছে।

আইসক্রিমের ইতিহাস কত পুরোনো?

আইসক্রিমের ইতিহাস কয়েক হাজার বছরের পুরোনো বলে মনে করা হয়। ইতিহাসবিদদের ধারণা, প্রাচীন চীন, পারস্য এবং রোমান সাম্রাজ্যে বরফের সঙ্গে ফলের রস বা মধু মিশিয়ে ঠান্ডা মিষ্টান্ন খাওয়ার প্রচলন ছিল।

পরবর্তীতে ইউরোপে দুধ, ক্রিম, চিনি এবং বিভিন্ন স্বাদযুক্ত উপাদান ব্যবহার করে আধুনিক আইসক্রিমের বিকাশ ঘটে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ডেজার্টে পরিণত হয়।

সবচেয়ে জনপ্রিয় আইসক্রিমের স্বাদ কোনগুলো?

দেশভেদে আইসক্রিমের স্বাদে ভিন্নতা থাকলেও কিছু ফ্লেভার সব সময়ই জনপ্রিয়। যেমন- ভ্যানিলা, চকলেট, স্ট্রবেরি, ম্যাঙ্গো, বাটারস্কচ, মিন্ট চকলেট চিপ ও কুকিজ অ্যান্ড ক্রিম।

বর্তমানে বিভিন্ন ফল, বাদাম, কফি, ক্যারামেল এমনকি স্থানীয় উপাদান দিয়েও নতুন নতুন স্বাদের আইসক্রিম তৈরি হচ্ছে।

আইসক্রিম খাওয়ার কিছু উপকারিতাও আছে

পরিমিত পরিমাণে আইসক্রিম খেলে কিছু উপকারও পাওয়া যেতে পারে।

  • দুধ দিয়ে তৈরি আইসক্রিম ক্যালসিয়ামের একটি উৎস হতে পারে
  • এতে শরীর কিছুটা শক্তি পায়
  • ঠান্ডা ও মিষ্টি স্বাদ অনেকের মানসিক প্রশান্তি এনে দেয়

তবে এতে চিনি ও চর্বির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি থাকায় অতিরিক্ত খাওয়া ঠিক নয়। বিশেষ করে ডায়াবেটিস, স্থূলতা বা হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি থাকলে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী খাওয়াই ভালো।

একটি সাধারণ খাবারও মানুষের জীবনে আনন্দের উপলক্ষ হয়ে উঠতে পারে, ন্যাশনাল আইসক্রিম ডে তারই একটি উদাহরণ। ব্যস্ত জীবনের ফাঁকে ছোট্ট এক স্কুপ আইসক্রিম অনেক সময় প্রিয়জনদের সঙ্গে সুন্দর কিছু মুহূর্ত তৈরি করে দেয়। তাই আজকের দিনে নিজের পছন্দের একটি আইসক্রিম উপভোগ করুন, তবে অবশ্যই পরিমিত পরিমাণে।