নির্ধারিত সময়ের আগে ‘ইউকে ইজতেমা’ সমাপ্ত ঘোষণা, আটক ১২

সম্ভাব্য চরম ডানপন্থি হামলার আশঙ্কায় যুক্তরাজ্যের ইপসউইচে অনুষ্ঠিত ‘ইউকে ইজতেমা’ নির্ধারিত সময়ের আগে গত রোববার সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এই ধর্মীয় সমাবেশে ব্রিটেনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ১৫ হাজার মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। উগ্রবাদী হামলার আশঙ্কার এই ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে এখন পর্যন্ত কাউন্টার টেররিজম পুলিশ ১২ জনকে আটক করেছে।
ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের ফলে নিঃসন্দেহে বহু মানুষের প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের কাউন্টার টেররিজম পুলিশিং (সিটিপি) লন্ডনের প্রধান কমান্ডার হেলেন ফ্লানাগান জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে একযোগে অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কাউন্টার টেররিজম পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি ডানপন্থী উগ্রবাদ-সংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসবাদ হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ঠিকানায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। সন্ত্রাসবাদ আইন ২০০০-এর ধারা ৪১ অনুযায়ী আটজন পুরুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তারা বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। এছাড়া আরও তিনজন পুরুষকে হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে এবং একজন নারীকে অপরাধীকে সহায়তা করার অভিযোগে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে একজনকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে এবং বাকি তিনজন পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।
পুলিশ আরও জানায়, ধর্মীয় এই সমাবেশের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য গুরুতর হুমকির তথ্য পাওয়ার পর ঘটনাটিকে ‘মেজর ইনসিডেন্ট’ বা বড় ধরনের জরুরি পরিস্থিতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। পরে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসায় সেই জরুরি ঘোষণা প্রত্যাহার করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তারা হচ্ছে— সারে থেকে ২৭, ২৯, ৫৫, ৬০ ও ৮২ বছর বয়সি পাঁচজন পুরুষ। গ্রেটার ম্যানচেস্টার থেকে ৩৫ বছর বয়সি একজন পুরুষ এবং এসেক্স থেকে ৪২ বছর বয়সি দুইজন পুরুষ। দক্ষিণ-পূর্ব লন্ডন থেকে ৩৩ বছর বয়সি একজন পুরুষ। পূর্ব লন্ডন থেকে ৪৮ বছর বয়সি একজন নারী ও ৩১ বছর বয়সি একজন পুরুষ এবং ইপসউইচ থেকে ২৭ বছর বয়সি একজন পুরুষ।
সম্ভাব্য উগ্রবাদী হামলা প্রসঙ্গে কমান্ডার হেলেন ফ্লানাগান আরো বলেন, যেকোনো সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হুমকি মোকাবিলায় পুলিশ কঠোর ব্যবস্থা নিতে দ্বিধা করবে না। তিনি বলেন, এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে যে যুক্তরাজ্যে সন্ত্রাসী হুমকির মাত্রা এখনও উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। তাই সবাইকে সতর্ক থাকার এবং সন্দেহজনক কিছু দেখলে দ্রুত পুলিশকে জানাতে অনুরোধ করছি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ বলেন, এই ঘটনা ব্রিটিশ মুসলিমদের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগের। আমাদের ঘৃণা ও বিদ্বেষের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে এবং এমন একটি সমাজ গড়ে তুলতে হবে যেখানে সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ নিরাপদ, সম্মানিত ও সমান মর্যাদা পায়।
এদিকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক বার্তায় বলেন, সাফোকে একটি ইসলামি অনুষ্ঠানকে লক্ষ্য করে বিশ্বাসযোগ্য ও গুরুতর হুমকির তদন্তের খবর অত্যন্ত উদ্বেগজনক। পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপ এবং আয়োজকদের সহযোগিতার কারণে কেউ হতাহত হননি। মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে কোনো হামলা বা ইসলামবিদ্বেষ আমি কোনোভাবেই সহ্য করব না।
সাফোক পুলিশের সহকারী প্রধান কনস্টেবল অ্যালিস স্কট জানান, আগামী কয়েক দিন শ্রাবল্যান্ড হল এলাকায় পুলিশের অতিরিক্ত টহল ও দৃশ্যমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় থাকবে। তিনি বলেন, ইজতেমায় অংশ নেওয়া প্রায় ১৫ হাজার মানুষ নিরাপদে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেছেন। ইপসউইচ বরো কাউন্সিলের লেবার পার্টির সদস্য রুমান মুহিত, যিনি শুক্রবার ও শনিবার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, তিনি বলেন, অংশগ্রহণকারীরা অত্যন্ত শৃঙ্খলাবদ্ধ শান্তিপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠান সম্পন্ন করেছেন।




