Advertisement

রাষ্ট্রপতি যখন ফর্মুলা ওয়ানের আলোকচিত্রী

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
রাষ্ট্রপতি যখন ফর্মুলা ওয়ানের আলোকচিত্রী
অফিসিয়াল ফটোগ্রাফার হিসেবে ফর্মুলা ওয়ানে ছবি তুলছেন পাভেল। ছবি: গেটি ইমেজ

গায়ে বেগুনি মিডিয়া পোশাক, গলায় অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড এবং হাতে বিশাল লেন্সের ক্যামেরা। ট্র্যাকের পাশে দাঁড়িয়ে ছুটে যাওয়া ফর্মুলা ওয়ান গাড়ির ছবি তুলছেন একজন। অন্য আলোকচিত্রীদের ভিড়ে তাকে আলাদা করে চেনার উপায় নেই। তবে ক্যামেরার পেছনের মানুষটি কোনো সাধারণ ক্রীড়া আলোকচিত্রী নন। তিনি ইউরোপের একটি দেশের প্রেসিডেন্টও বটে। বলা হচ্ছে চেক প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট পেত্র পাভেলের কথা।

রোববার (২৬ জুলাই) হাঙ্গেরিয়ান গ্রাঁ প্রিতে রাজনীতিবিদ কিংবা রাষ্ট্রীয় অতিথি হিসেবে নয়, একজন শখের ক্রীড়া আলোকচিত্রী হিসেবে হাজির হন ৬৪ বছর বয়সী পাভেল। পূর্ণাঙ্গ ক্যামেরা সরঞ্জামের পাশাপাশি মোটোস্পোর্টের নিয়ন্ত্রক সংস্থা এফআইএর আনুষ্ঠানিক মিডিয়া অ্যাক্রেডিটেশন নিয়েই হাঙ্গারোরিংয়ের ট্র্যাকের পাশে ছবি তুলেছেন তিনি।

শনিবারের অনুশীলন পর্ব থেকেই সার্কিটে ছিলেন চেক প্রেসিডেন্ট। দেশের পরিচিত ফর্মুলা ওয়ান আলোকচিত্রী জিরি ক্রেনেকের সঙ্গে বিভিন্ন জায়গা থেকে গাড়ি ও চালকদের ছবি তুলতে দেখা যায় তাকে। রেসের দিনও ক্যামেরা হাতে ট্র্যাকের ধারে এবং প্যাডকে ঘুরেছেন পাভেল।

হাঙ্গেরি গ্রাঁ প্রিতে চেক প্রেসিডেন্ট পেত্র পাভেল।
হাঙ্গেরি গ্রাঁ প্রিতে চেক প্রেসিডেন্ট পেত্র পাভেল।

রয়টার্সের প্রকাশিত ছবিতে তাকে আনুষ্ঠানিক বেগুনি মিডিয়া পোশাক ও ট্র্যাকসাইড আলোকচিত্রীর অ্যাক্রেডিটেশনসহ দেখা গেছে। এফআইএ সভাপতি মোহাম্মদ বেন সুলায়েমের সঙ্গেও কথা বলেছেন তিনি। তবে এটি চেক প্রেসিডেন্টের কোনো রাষ্ট্রীয় সফর ছিল না। ব্যক্তিগত আগ্রহ থেকেই হাঙ্গেরিয়ান গ্রাঁ প্রিতে গিয়েছিলেন পাভেল।

রাষ্ট্রপ্রধানের হাতে ক্যামেরা দেখে অনেকে বিস্মিত হলেও মোটরস্পোর্টের আলোকচিত্রী হিসেবে এটি তার প্রথম অভিজ্ঞতা নয়। চলতি বছরের জুনে ফ্রান্সে লে মাঁ ২৪ ঘণ্টার রেসেও পূর্ণাঙ্গ ক্যামেরা সরঞ্জাম নিয়ে ছবি তুলেছিলেন তিনি।

নিজের দেশ চেক প্রজাতন্ত্রের ব্রনোতে মোটোজিপি ও বিশ্ব সুপারবাইক প্রতিযোগিতার ছবিও তুলেছেন পাভেল। মোটরস্পোর্টের প্রতি আগ্রহ তাকে যুক্তরাষ্ট্রের নাসকার এবং সৌদি আরবের ডাকার র‍্যালি পর্যন্ত নিয়ে গেছে।

২০২৫ সালের ডাকার র‍্যালিতে তোলা তার কয়েকটি ছবি পরে প্রাগের জাতীয় কারিগরি জাদুঘরে প্রদর্শন করা হয়। নিজের তোলা ছবি দিয়ে তৈরি একটি অ্যালবাম নিলামে তুলে প্রায় ৩০ হাজার ইউরো সংগ্রহ করেছিলেন পাভেল। সেই অর্থ শিশু, একক অভিভাবক ও প্রবীণদের সহায়তায় কাজ করা একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠানে দেওয়া হয়।

১৯৬১ সালের ১ নভেম্বর জন্ম নেওয়া পাভেল রাজনীতিতে আসার আগে দীর্ঘদিন সেনাবাহিনীতে ছিলেন। চেক সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান এবং ন্যাটোর সামরিক কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। ২০২৩ সালের মার্চ থেকে চেক প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট তিনি।

সামরিক কর্মকর্তা থেকে রাষ্ট্রপতি হওয়ার দীর্ঘ যাত্রার আড়ালে আলোকচিত্রের প্রতি তার ভালোবাসাও পুরোনো। ন্যাটোর প্রকাশিত জীবনবৃত্তান্তেও ভ্রমণ ও মোটরসাইকেলের পাশাপাশি আলোকচিত্রকে পাভেলের আগ্রহের একটি বিষয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্বনেতারা বড় ক্রীড়া আয়োজনে সাধারণত ভিআইপি অতিথি হিসেবে উপস্থিত হন। পেত্র পাভেল বেছে নিলেন ভিন্ন পথ। সামনের সারির আসনের বদলে ক্যামেরা হাতে দাঁড়ালেন ট্র্যাকের পাশে।