স্টোকসের বিদায়ী টেস্টে ইংল্যান্ডকে গুঁড়িয়ে সিরিজ জিতল নিউজিল্যান্ড

বেন স্টোকসের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ টেস্টটি ইংল্যান্ডের জন্য হয়ে থাকল হতাশার, আর নিউজিল্যান্ডের জন্য ইতিহাসের। ট্রেন্ট ব্রিজে তৃতীয় টেস্টে ইংল্যান্ডকে ১৬০ রানে হারিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতেছে নিউজিল্যান্ড।
নিউজিল্যান্ডের প্রথম ইনিংস ছিল ৪৩৮ রানের। জবাবে ইংল্যান্ড করে ৩৫৪। দ্বিতীয় ইনিংসে ৯ উইকেটে ২৮৮ রান করে ইনিংস ঘোষণা করে সফরকারীরা। জয়ের জন্য ইংল্যান্ডের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩৭৩। কিন্তু শেষ দিনে তারা গুটিয়ে যায় ২১২ রানে।
এই জয়ে ইংল্যান্ডের মাটিতে দারুণ এক প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখল নিউজিল্যান্ড। সিরিজের প্রথম টেস্ট হেরেও পরের দুই ম্যাচ জিতে সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে টম ল্যাথামের দল।
শেষ দিনের শুরুতেই ইংল্যান্ডের আশা বড় ধাক্কা খায়। জো রুট ও এমিলিও গে ছিলেন প্রতিরোধ গড়ার সম্ভাব্য জুটি। কিন্তু দিনের শুরুতেই ম্যাচের মোড় আরও স্পষ্ট হয়ে যায়। প্রথমে নাথান স্মিথের বলে উইকেটকিপার টম ব্লান্ডেলের হাতে ক্যাচ দেন গে। এরপর দুর্দান্ত ফিল্ডিংয়ে রানআউট হন রুট।
রুটের রানআউট ছিল শেষ দিনের সবচেয়ে বড় মুহূর্ত। পয়েন্ট অঞ্চল থেকে হেনরি নিকোলস ভারসাম্য হারিয়েও নিখুঁত থ্রো করেন। রুট ক্রিজে ফিরতে পারেননি। ১৮ রানেই তার বিদায় ইংল্যান্ডের সম্ভাব্য লড়াইয়ের শেষ বড় ভিত্তিটাও ভেঙে দেয়।
এরপর ইংল্যান্ডের ইনিংস আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। জেমি স্মিথ একপ্রান্তে লড়াই করেন। তিনি করেন ৬০ রান। কিন্তু সঙ্গীর অভাব এবং নিউজিল্যান্ডের ধারাবাহিক চাপ ইংল্যান্ডকে ম্যাচে ফিরতে দেয়নি।
মিচেল স্যান্টনার শেষ দিনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ভাঙা ও শুকনো পিচে তাঁর বাঁহাতি স্পিন ইংল্যান্ডের ব্যাটারদের জন্য কঠিন হয়ে ওঠে। গাস অ্যাটকিনসনকে এলবিডব্লিউ করার পর তিনি চাপ আরও বাড়ান। পরে জেমি স্মিথকে ফিরিয়ে নিউজিল্যান্ডের জয় নিশ্চিত করেন।
নিউজিল্যান্ডের ফিল্ডিংও ছিল অসাধারণ। শুধু বোলিং নয়, মাটির ফিল্ডিংয়েও তারা ইংল্যান্ডকে চাপে রাখে। রুটের রানআউটের পর জশ টাংকেও সরাসরি থ্রোতে রানআউট করেন স্যান্টনার। এমন ফিল্ডিংই দেখিয়েছে, শেষ দিনেও নিউজিল্যান্ডের মনোযোগ ও শৃঙ্খলা কতটা উঁচুতে ছিল।
সিরিজজুড়ে চোট ও ধাক্কা সামলাতে হয়েছে নিউজিল্যান্ডকেও। ম্যাট হেনরি ও গ্লেন ফিলিপস এই টেস্টে ছিলেন না। জ্যাক ফোকস কনকাশন বদলি হিসেবে দলে এসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। শেষ দিনেও বোলিং আক্রমণে অস্বস্তি ছিল। তবু নিউজিল্যান্ডের পরিকল্পনা ভাঙেনি।
নাথান স্মিথ ছিলেন সফরকারীদের অন্যতম নায়ক। সিরিজজুড়ে ধারাবাহিক বোলিংয়ে তিনি নিউজিল্যান্ডের সবচেয়ে সফল বোলারদের একজন। শেষ দিনের শুরুতে এমিলিও গেকে ফিরিয়ে ইংল্যান্ডের ওপর চাপ বাড়ান তিনিই। ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং, তিন বিভাগেই নিউজিল্যান্ড দেখিয়েছে কেন তারা বড় মঞ্চে এত কঠিন প্রতিপক্ষ।
ইংল্যান্ডের জন্য দিনটি আরও ভারী ছিল স্টোকসের বিদায়ের কারণে। ম্যাচের আগেই জানা গিয়েছিল, এটিই তাঁর শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ। চার বছর ধরে ইংল্যান্ডের টেস্ট দলকে আগ্রাসী ক্রিকেটের পথে নিয়ে যাওয়া অধিনায়ক শেষ টেস্টে দলকে বাঁচাতে পারেননি।
স্টোকসের শেষ ইনিংস থেমেছিল আগের দিন ৩০ রানে। শেষ দিনে তিনি ড্রেসিংরুম থেকে দেখলেন ইংল্যান্ডের পতন। যে ট্রেন্ট ব্রিজে ২০২২ সালে তাঁর নেতৃত্বে ইংল্যান্ডের নতুন টেস্ট দর্শন আলোড়ন তুলেছিল, সেই মাঠেই তাঁর বিদায়ী দিনে সেই অধ্যায় শেষ হলো সিরিজ হারের তিক্ততায়।





