আর্জেন্টিনা-বিতর্কে ভিএআরের ওপর আস্থা শেষ, বলছেন সাবেক ফিফা রেফারি

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
আর্জেন্টিনা-বিতর্কে ভিএআরের ওপর আস্থা শেষ, বলছেন সাবেক ফিফা রেফারি
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে আর্জেন্টিনা। তবে মাঠের লড়াইয়ের আগে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের অভিযান ঘিরে আরও জোরালো হয়েছে রেফারিং ও ভিএআর বিতর্ক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ দলটিকে বিদ্রূপ করে ‘ভার্জেন্টিনা’ নামও দিয়েছেন। সেই বিতর্কের মধ্যে ভিএআরের নতুন ও প্রায় পরীক্ষাহীন ব্যাখ্যা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক ফিফা রেফারি ক্রিস্টিনা আনকেল।

বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু আর্জেন্টিনা ও সুইজারল্যান্ডের কোয়ার্টার ফাইনাল। ম্যাচের ৭২তম মিনিটে সুইস ফরোয়ার্ড ব্রিল এমবোলোর সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় প্রথমে আর্জেন্টিনার লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি জোয়াও পিনেইরো।

কিন্তু ভিএআর হস্তক্ষেপের পর পুরো সিদ্ধান্তই পাল্টে যায়। পারেদেসের কার্ড বাতিল করে অভিনয়ের দায়ে এমবোলোকে হলুদ কার্ড দেওয়া হয়। সেটি তার ম্যাচের দ্বিতীয় হলুদ হওয়ায় মাঠ ছাড়তে হয় সুইস ফরোয়ার্ডকে।

ঘটনাটি ঘটেছিল সুইজারল্যান্ড সমতা ফেরানোর মাত্র পাঁচ মিনিট পর। একজন কম নিয়েও ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে গিয়েছিল তারা, তবে শেষ পর্যন্ত ৩-১ গোলে জিতে সেমিফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা। সুইস কোচ মুরাত ইয়াকিন ভিএআরের এই প্রয়োগকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে দাবি করেন।

বিশ্বকাপে আইটিভির নিয়মবিশ্লেষক হিসেবে কাজ করা আনকেলের আপত্তিও এখানেই। তার মতে, ‘ভুল পরিচয়’ সংশোধনের নামে শুধু কার্ড পাওয়া খেলোয়াড় বদলানো হয়নি। ফাউলের সিদ্ধান্ত, ফ্রি-কিকের দিক এবং মূল অপরাধের ধরনও পাল্টে দেওয়া হয়েছে।

আনকেল বলেন, এই ব্যাখ্যার পর ভিএআর আর শুধু স্পষ্ট ভুল সংশোধন করছে না, কার্যত নতুন করে ম্যাচ পরিচালনা করছে। প্রায় পরীক্ষা না করেই প্রটোকলের পরিধি বাড়ানোকে তিনি ‘বারুদের স্তূপের’ সঙ্গে তুলনা করেছেন।

আর্জেন্টিনাকে ঘিরে সন্দেহ অবশ্য গ্রুপ পর্ব থেকেই তৈরি হচ্ছিল। আলজেরিয়ার বিপক্ষে প্রতিপক্ষ অধিনায়ক আইসা মান্দির পায়ে লিওনেল মেসির বুট পড়ার পরও তাকে মাঠে রাখা হয়েছিল। পরে সেই ম্যাচের রেফারিং নিয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করে আলজেরিয়া।

শেষ ষোলোয় মিশরের একটি গোল ভিএআরে বাতিল হওয়া এবং শেষ দিকে পেনাল্টির আবেদন নাকচ হওয়া নিয়েও বিতর্ক হয়। মিশর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের দাবি ছিল, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ম্যাচের ফলকে প্রভাবিত করেছে।

তবে আর্জেন্টিনাকে ইচ্ছাকৃতভাবে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, এমন দাবি সমর্থন করেননি আনকেল। আলজেরিয়া ও মিশর ম্যাচে তার চোখে স্পষ্ট রেফারিং ভুল ধরা পড়েনি। তার মূল উদ্বেগ নিয়মের অস্পষ্ট প্রয়োগ এবং বিভিন্ন ঘটনায় ফিফার পরস্পরবিরোধী সিদ্ধান্ত নিয়ে।

যুক্তরাষ্ট্রের ফোলারিন বালোগুনের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা শেষ মুহূর্তে স্থগিত করা হলেও ইংল্যান্ডের জ্যারেল কোয়ানসাকে দুই ম্যাচ নিষিদ্ধ করা হয়। আনকেলের মতে, মাঠ ও মাঠের বাইরের এমন সব ঘটনায় সমর্থকদের আস্থা এখন প্রায় সম্পূর্ণ ক্ষয়ে গেছে।

রয়টার্স সর্বশেষ বিতর্ক নিয়ে ফিফার মন্তব্য চাইলে সংস্থাটি রেফারিপ্রধান পিয়েরলুইজি কোলিনার আগের বক্তব্যের দিকে ইঙ্গিত করে। কোলিনা আর্জেন্টিনাকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছিলেন, বিশ্বকাপের ম্যাচ কর্মকর্তাদের সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। মিশরের বাতিল হওয়া গোলেও ভিএআর সঠিক সিদ্ধান্ত দিয়েছিল বলে দাবি তার।

ফলে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে পক্ষপাতের কোনো প্রমাণ এখনো নেই। কিন্তু এমবোলোর লাল কার্ড যে প্রশ্ন সামনে এনেছে, সেটি শুধু একটি দলের নয়। ভিএআর কতটা ভুল সংশোধন করবে, আর কোন সীমা পেরোলে সেটি নতুন করে রেফারিংয়ে পরিণত হবে, বিশ্বকাপের শেষ পর্যায়ে সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে উঠেছে।