বিদায়ের পরও হালান্ডদের বরণে অসলোতে লক্ষাধিক মানুষের ঢল

বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে নরওয়ে। কিন্তু দেশে ফেরার পর দৃশ্য দেখে সেটি বোঝার উপায় ছিল না। অসলো বিমানবন্দর থেকে রাজপ্রাসাদ, সেখান থেকে সিটি হল পর্যন্ত যেন বিজয়ী দলকেই বরণ করেছে গোটা দেশ।
সোমবার নরওয়ে দলকে স্বাগত জানাতে রাজধানীর রাস্তায় নেমে আসেন এক লাখের বেশি মানুষ। রয়টার্সের হিসাবে উপস্থিতি ছিল লক্ষাধিক। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম আফতেনপোস্টেন জানিয়েছে, পুলিশের সর্বশেষ হিসাবে অসলো শহরের কেন্দ্রে মানুষের সংখ্যা সর্বোচ্চ ১ লাখ ২০ হাজারে পৌঁছেছিল। শুধু রাজপ্রাসাদ চত্বরেই ছিলেন প্রায় ৮৮ হাজার সমর্থক।
ইংল্যান্ডের কাছে অতিরিক্ত সময়ে ২-১ গোলে হেরে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নেয় নরওয়ে। কিন্তু দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে প্রথমবার নকআউট ম্যাচ জেতা, শেষ ষোলোয় ব্রাজিলকে হারানো এবং কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার সাফল্য তাদের জাতীয় নায়কে পরিণত করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে নরওয়েতে পৌঁছানোর পর বিমানবন্দরে জলকামানের অভিবাদন পায় দলটি। সেখান থেকে বাসে করে খেলোয়াড়েরা চলে যান রাজপ্রাসাদে। রাজা হ্যারাল্ডের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সাক্ষাতে অংশ নেন পুরো দলের সদস্যরা।
প্রাসাদের বাইরে তখন লাল, সাদা ও নীল রঙে ঢেকে গেছে চারপাশ। প্রাসাদ চত্বর ছাড়িয়ে প্রধান সড়ক কার্ল ইয়োহানস গাতে পর্যন্ত বিস্তৃত হয় মানুষের সারি। রয়্যাল গার্ডের সদস্যদের পেছনে রেখে সমর্থকদের সামনে বেরিয়ে আসেন খেলোয়াড়েরা।
এরপর আসে অনুষ্ঠানের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্ত। প্রাসাদের সিঁড়িতে বসে শেষবারের মতো সমর্থকদের সঙ্গে ‘ভাইকিং রো’ উদ্যাপন করেন নরওয়ের ফুটবলাররা। যুবরাজ হাকোন নিজেই ঢোল হাতে ছন্দের নেতৃত্ব দেন। তার ঢোলের তালে খেলোয়াড় ও হাজারো সমর্থক একসঙ্গে নৌকা চালানোর ভঙ্গি করেন।
তবে প্রকাশ্য উদ্যাপনের শেষ অংশে ছিলেন না দলের সবচেয়ে বড় তারকা আর্লিং হালান্ড। সান্দের বের্গের সঙ্গে তাকেও আগেই চলে যেতে হয়। যুক্তরাষ্ট্র থেকে দলের যাত্রা প্রায় চার ঘণ্টা বিলম্বিত হওয়ায় আগে থেকে নির্ধারিত পরবর্তী ফ্লাইট ধরতে হয় দুজনকে।
হালান্ড ও বের্গে অবশ্য রাজপ্রাসাদে রাজা হ্যারাল্ড এবং রাজপরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। কিন্তু প্রাসাদের সিঁড়িতে ‘ভাইকিং রো’ এবং পরবর্তী খোলা বাসের শোভাযাত্রায় আর থাকা হয়নি তাঁদের।
সমর্থকদের ভিড় এতটাই ঘন ছিল যে অসলো শহরের কেন্দ্র দিয়ে চলতে গিয়ে কয়েকবার থেমে যায় খেলোয়াড়দের বহনকারী বাস। একপর্যায়ে পুলিশের পক্ষে পথ তৈরি করা কঠিন হয়ে পড়ায় বাসটি কিছুটা পেছনেও নিতে হয়।
উদ্যাপনে মজার এক ঘটনাও ঘটে। নিচু হয়ে ঝুলে থাকা তারের কারণে খোলা বাসের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা খেলোয়াড়দের বসে পড়তে হয়। বাধা পেরিয়ে কয়েক ঘণ্টা পর ১ দশমিক ৩ কিলোমিটারের যাত্রা শেষ হয় সিটি হল স্কয়ারে। সেখানেও অপেক্ষা করছিলেন হাজার হাজার সমর্থক।
বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের সমতাসূচক গোলের আগে বল মাঠের ওপর থাকা ক্যামেরার তারে লেগেছিল বলে অভিযোগ করেছিলেন নরওয়ের কোচ স্তালে সোলবাকেন। ফিফা অবশ্য বারবার সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। সেই তার-বিতর্কের পর দেশে ফেরার শোভাযাত্রাও তারে থামায় ঘটনাটি ভিন্ন এক রসিকতা তৈরি করে।
অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড জানিয়েছেন, এমন অভ্যর্থনা তারা কেউই কল্পনা করেননি। যুক্তরাষ্ট্রে এবং দেশে সমর্থকদের কাছ থেকে পাওয়া ভালোবাসা দলের সব প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে গেছে।
নরওয়ে বিশ্বকাপ জিততে পারেনি, এমনকি সেমিফাইনালেও উঠতে পারেনি। তবু অসলোতে যে জনসমুদ্র নেমেছিল, সেটি জানিয়ে দিয়েছে, কোনো কোনো অভিযান ট্রফি ছাড়াও একটি জাতির স্মৃতিতে বিজয়ের মতোই থেকে যায়।





