ফিফার বিতর্কিত ভিএআর ব্যাখ্যা উয়েফার প্রত্যাখ্যান

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সুইজারল্যান্ডের ব্রিল এমবোলোর বিতর্কিত লাল কার্ডে ফিফা যে ‘ভুল পরিচয়’ ব্যাখ্যা প্রয়োগ করেছে, নিজেদের প্রতিযোগিতায় সেটি অনুসরণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউরোপের ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা (উয়েফা)।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস জানিয়েছে, উয়েফা তাদের রেফারি ও ভিডিও সহকারী রেফারিদের আইএফএবি নির্ধারিত ভিএআর প্রটোকলের প্রচলিত সীমার মধ্যেই থাকতে নির্দেশ দেবে। ফলে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, ইউরোপা লিগ, কনফারেন্স লিগ ও ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে বিশ্বকাপের মতো করে সাধারণ হলুদ কার্ডের ঘটনায় ভিএআর হস্তক্ষেপ করবে না।
বিতর্কের জন্ম আর্জেন্টিনা ও সুইজারল্যান্ডের কোয়ার্টার ফাইনালে। ম্যাচের ৭২ মিনিটে এমবোলোর সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় প্রথমে আর্জেন্টিনার লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি জোয়াও পিনেইরো। ভিএআর পরে ‘ভুল পরিচয়’ উল্লেখ করে তাকে ঘটনাটি আবার দেখতে বলে।
মাঠের পাশের পর্দায় ভিডিও দেখে পারেদেসের কার্ড বাতিল করেন রেফারি। ফাউল আদায়ের জন্য অভিনয় করেছেন অভিযোগে হলুদ কার্ড দেখান এমবোলোকে। প্রথমার্ধে একবার কার্ড দেখায় এটি ছিল সুইস ফরোয়ার্ডের দ্বিতীয় হলুদ। ফলে মাঠ ছাড়তে হয় তাঁকে।
সুইজারল্যান্ড তখন মাত্র পাঁচ মিনিট আগে সমতায় ফিরেছিল এবং ম্যাচে চাপ বাড়াতে শুরু করেছিল। একজন কম নিয়ে নির্ধারিত সময় পার করলেও অতিরিক্ত সময়ে দুটি গোল হজম করে ৩-১ ব্যবধানে হারে তারা। ম্যাচের পর সুইস কোচ মুরাত ইয়াকিন বলেছিলেন, এই নিয়মই তাদের ম্যাচটি নষ্ট করেছে।
উয়েফার আপত্তি সিদ্ধান্তটি সঠিক না ভুল, শুধু তা নিয়ে নয়। তাদের প্রশ্ন মূলত ভিএআরের ক্ষমতার সীমা নিয়ে। আইএফএবের প্রটোকলে ‘ভুল পরিচয়’ বলতে সাধারণত বোঝানো হয়, কোনো অপরাধের জন্য রেফারি শাস্তিযোগ্য দলের ভুল খেলোয়াড়কে কার্ড দেখিয়েছেন। সে ক্ষেত্রে ভিএআর শুধু অপরাধী খেলোয়াড়ের পরিচয় সংশোধন করতে পারে, মূল ঘটনাটি নতুন করে বিচার করতে পারে না।
কিন্তু এমবোলোর ঘটনায় এক দলের খেলোয়াড়কে দেওয়া কার্ড বাতিল করে বিপক্ষ দলের খেলোয়াড়কে ভিন্ন অপরাধে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। উয়েফার মতে, এতে ‘ভুল পরিচয়’ ব্যাখ্যা ব্যবহার করে সাধারণ প্রথম হলুদ কার্ডও ভিএআর পর্যালোচনার আওতায় চলে এসেছে। এটি ফুটবলের আইনপ্রণেতাদের সম্মত সীমার বাইরে।
ইউরোপীয় সংস্থাটি তাই তাদের প্রতিযোগিতায় প্রথম হলুদ কার্ডের ঘটনায় এভাবে ভিএআর হস্তক্ষেপের সুযোগ দেবে না। কোনো সিদ্ধান্ত সরাসরি লাল কার্ড অথবা স্পষ্টত ভুল দ্বিতীয় হলুদে পরিণত হওয়ার ঘটনা না হলে ভিডিও পর্যালোচনা হবে না।
খেলোয়াড়দের মুখ ঢেকে কথা বলা কিংবা রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মাঠ ছাড়ার ঘটনায় ফিফার কঠোর লাল কার্ড নীতিও অনুসরণ করবে না উয়েফা। বিশ্বকাপে এমন অপরাধে প্যারাগুয়ের মিগেল আলমিরন ও ইকুয়েডরের পিয়েরো ইনকাপিয়েকে মাঠ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল।
এতে ফুটবলের আইন প্রয়োগ নিয়ে ফিফা ও উয়েফার দূরত্ব আরও স্পষ্ট হলো। একই নিয়ম বিশ্বকাপে একভাবে এবং ইউরোপের শীর্ষ প্রতিযোগিতায় অন্যভাবে প্রয়োগ হলে খেলোয়াড়, কোচ ও রেফারিদের বিভ্রান্তিও বাড়তে পারে।





