সরকারকে বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান মান্নার

অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় সৃষ্ট জলাবদ্ধতা এবং বন্যা পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। একই সঙ্গে বন্যায় বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়াতে সরকারকে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সোমবার (১৩ জুলাই) দলের দপ্তর সম্পাদক কবি ফারুক হোসেন খান স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিবৃতিতে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, দেশের বন্যা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতির পাশাপাশি কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম এবং রাজধানী ঢাকা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এতে সারাদেশে ফসল এবং গবাদিপশুর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন লাখো মানুষ। শুধু চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচটি জেলাতেই প্রায় ৯ লাখ ২৮ হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন এবং এ পর্যন্ত পঞ্চাশের অধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।
ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ দিয়ে তিনি আরও জানান, সিলেট, হাওরাঞ্চল, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকায় বোরো ও আমন ধান, আউশ বীজতলা, শাকসবজিসহ প্রায় ১ লাখ হেক্টরের বেশি জমির ফসল তলিয়ে গেছে। এ ছাড়া শুধু চট্টগ্রামেই ১ লাখ ১২ হাজারের বেশি গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি মারা গেছে।
ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত হিসাব এর চেয়েও আরও বেশি বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সরকারের ব্যর্থতার সমালোচনা করে ডাকসুর দুবারের সাবেক এই ভিপি বলেন, আমরা এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগে থেকে কেন কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারিনি, এই বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে। দুর্যোগ প্রাকৃতিক হোক কিংবা মানবসৃষ্ট, তা মোকাবিলায় পূর্বপ্রস্তুতি থাকা দরকার।
দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের প্রতি স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং কার্যকর পদক্ষেপের ওপর তাগিদ দেন তিনি। একই সঙ্গে দেশের লড়াকু জনগণের প্রশংসা করে তিনি বলেন, বরাবরের মতো এবারের দুর্যোগও সাধারণ মানুষ নিজেদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় মোকাবিলা করে যাচ্ছেন।
নাগরিক ঐক্যের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের সর্বশক্তি নিয়ে জনগণের পাশে থাকার নির্দেশ দেন মাহমুদুর রহমান মান্না। স্থানীয় প্রশাসনের দিকে তাকিয়ে না থেকে সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে ত্রাণ বিতরণ, উদ্ধার কাজ এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।





