ইতিহাস গড়ার পর মেসি বললেন, ‘আমি খুব ক্লান্ত’

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
ইতিহাস গড়ার পর মেসি বললেন, ‘আমি খুব ক্লান্ত’
লিওনেল মেসি। ছবি: সংগৃহীত

রেকর্ড গড়ার রাতেও লিওনেল মেসির প্রতিক্রিয়া ছিল একেবারেই মেসির মতো। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে পেনাল্টি মিস, এরপর জোড়া গোল, বিশ্বকাপ ইতিহাসের নতুন মাইলফলক এবং আর্জেন্টিনার শেষ ৩২ নিশ্চিত করার পর নিজের অনুভূতি বলতে গিয়ে আর্জেন্টাইন অধিনায়ক শুধু বললেন, ‘আমি খুব ক্লান্ত।’

Advertisement

ডালাস স্টেডিয়ামে গ্রুপ ‘জে’-এর ম্যাচে অস্ট্রিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা। দুই গোলই করেছেন মেসি। প্রথমার্ধে পেনাল্টি মিস করলেও ৩৮ মিনিটে ফাকুন্দো মেদিনার নিচু ক্রস থেকে প্রথম ছোঁয়ায় গোল করেন তিনি। যোগ করা সময়ে দ্বিতীয় গোল করে জয় নিশ্চিত করেন ৩৮ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।

এই দুই গোলেই বিশ্বকাপের রেকর্ড বই নতুন করে লিখলেন মেসি। প্রথম গোলটি ছিল বিশ্বকাপে তার ১৭তম। তাতে ব্রাজিলের নারী ফুটবল কিংবদন্তি মার্তার পাশে উঠে যান তিনি। মার্তার বিশ্বকাপ গোলও ১৭টি। আর যোগ করা সময়ে দ্বিতীয় গোল করে নারী-পুরুষ মিলিয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসে এককভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে যান মেসি। তার গোলসংখ্যা এখন ১৮।

ম্যাচের শুরুটা অবশ্য মেসির জন্য সুখকর ছিল না। প্রথমার্ধে পেনাল্টি থেকে গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। গোলটি হলে তখনই রেকর্ড গড়তে পারতেন। কিন্তু তার শট লক্ষ্যে থাকেনি। পেনাল্টি মিসের পরও ভেঙে পড়েননি মেসি। বরং পরে দুই গোল করে ম্যাচের গল্প নিজের করে নেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

রয়টার্সকে ম্যাচের পর মেসি বলেন, জয়ে তিনি খুব খুশি। তার ভাষায়, এটি ছিল খুব গুরুত্বপূর্ণ জয়, কঠিন জয়, এবং দলকে এর জন্য পরিশ্রম করতে হয়েছে। সামনে যা আসছে, তার আগে এই জয় আর্জেন্টিনাকে স্বস্তি দেবে বলেও জানান তিনি।

পেনাল্টি মিসের প্রসঙ্গও এড়িয়ে যাননি মেসি। তার মতে, পেনাল্টি থেকে গোল হলে ব্যবধান বাড়ত, ম্যাচও হয়তো আরও স্বস্তির হতে পারত। তবে শেষ পর্যন্ত ফল ও দলের পারফরম্যান্সে তিনি সন্তুষ্ট। অস্ট্রিয়া বিরতির পর উন্নতি করায় ম্যাচটি সহজ ছিল না, সেটিও স্বীকার করেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

এই জয়ে দুই ম্যাচে ৬ পয়েন্ট হলো আর্জেন্টিনার। প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়েছিল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষেও জয় পাওয়ায় এক ম্যাচ হাতে রেখেই শেষ ৩২ নিশ্চিত করেছে লিওনেল স্কালোনির দল।

চলতি বিশ্বকাপে মেসির গোল এখন ৫টি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিকের পর অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে করলেন জোড়া গোল। শুধু তাই নয়, বিশ্বকাপে টানা ছয় ম্যাচে গোল করার ধারাও ধরে রাখলেন তিনি। বয়স ৩৮, এই সপ্তাহেই ৩৯-এ পা দেবেন। তবু আর্জেন্টিনার আক্রমণ এখনো ঘুরছে তাঁর বাঁ পায়ের জাদুতেই।

অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি আর্জেন্টিনার জন্য সহজ ছিল না। রালফ রাংনিকের দল শারীরিক লড়াই, উঁচু চাপ এবং দ্রুত পাল্টা আক্রমণে আর্জেন্টিনাকে অস্বস্তিতে ফেলার চেষ্টা করেছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পার্থক্য গড়ে দেন মেসি। পেনাল্টি মিসের হতাশা কাটিয়ে প্রথমে রেকর্ড, পরে জয় নিশ্চিত করার গোল; ডালাসের রাতটা শেষ পর্যন্ত হয়ে থাকে তাঁরই।

আর্জেন্টিনার সামনে এখন গ্রুপের শেষ ম্যাচ জর্ডানের বিপক্ষে। নকআউট নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় সেই ম্যাচে স্কালোনি দল সাজানো নিয়ে কিছুটা স্বাধীনতা পাবেন। তবে মেসির ছন্দ, দলের আত্মবিশ্বাস এবং জয়ের ধারাই এখন আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় শক্তি।

অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জয় তাই শুধু আর্জেন্টিনার শেষ ৩২ নিশ্চিত করার গল্প নয়। এটি মেসির ক্লান্ত শরীরেও রেকর্ড গড়ার গল্প। পেনাল্টি মিসের পরও ম্যাচ নিজের করে নেওয়ার গল্প। আর বিশ্বকাপের ইতিহাসে নিজেকে আরও ওপরে তুলে নেওয়ার গল্প।