বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এ আর্জেন্টিনা

লিওনেল মেসির আরেকটি রেকর্ডগড়া রাতে শেষ ৩২ নিশ্চিত করল আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘জে’-এর দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ডালাস স্টেডিয়ামে পেনাল্টি মিসের হতাশা কাটিয়ে দুই অর্ধে দুই গোল করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। সেই জয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই নকআউট পর্বে উঠে গেল লিওনেল স্কালোনির দল।
প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়েছিল আর্জেন্টিনা। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জয়ে দুই ম্যাচ শেষে তাদের পয়েন্ট হলো ৬। গ্রুপের শেষ ম্যাচে জর্ডানের বিপক্ষে নামবে আর্জেন্টিনা। তবে তার আগেই শেষ ৩২-এর টিকিট নিশ্চিত হয়ে গেছে মেসিদের।
ম্যাচের শুরুটা অবশ্য মেসির জন্য স্বস্তির ছিল না। নবম মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার দারুণ সুযোগ পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। লাউতারো মার্তিনেস অস্ট্রিয়ার বক্সে ফাউলের শিকার হলে ভিডিও সহকারী রেফারির সাহায্যে পেনাল্টি দেন রেফারি আমিন ওমর। বলের পাশে দাঁড়ান মেসি। সামনে ছিল মিরোস্লাভ ক্লোসেকে ছাড়িয়ে পুরুষ বিশ্বকাপ ইতিহাসে এককভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার সুযোগ।
কিন্তু মেসির বাঁ পায়ের শট লক্ষ্যে থাকেনি। পোস্টের বাইরে চলে যায় বল। পেনাল্টি মিসে অস্ট্রিয়া স্বস্তি পায়, আর্জেন্টিনার ওপর বাড়ে চাপ। ২০১৮ বিশ্বকাপে আইসল্যান্ড, ২০২২ বিশ্বকাপে পোল্যান্ডের পর ২০২৬ বিশ্বকাপেও নির্ধারিত সময়ে পেনাল্টি মিস করলেন মেসি।
তবে সেই হতাশা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ৩৮ মিনিটে ম্যাচের গল্প বদলে দেন মেসিই। আর্জেন্টিনার আক্রমণ থেকে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে অস্ট্রিয়ার গোলরক্ষক আলেক্সান্ডার শ্লাগারকে পরাস্ত করেন তিনি। এই গোলেই পুরুষ বিশ্বকাপে তাঁর গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ১৭। মিরোস্লাভ ক্লোসের ১৬ গোল ছাড়িয়ে এককভাবে শীর্ষে উঠে যান মেসি।
আলজেরিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে হ্যাটট্রিক করে ক্লোসের রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছিলেন মেসি। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে গোল করে সেই রেকর্ড নিজের করে নেন। পেনাল্টি মিসের কয়েক মিনিট পরই ইতিহাস গড়ার এই দৃশ্য যেন মেসির ক্যারিয়ারের আরেক পরিচিত গল্প মনে করিয়ে দিল: ধাক্কা এলেও তিনি ফিরতে জানেন।
অস্ট্রিয়া সহজ প্রতিপক্ষ ছিল না। রালফ রাংনিকের দল উঁচু চাপ, শারীরিক লড়াই ও দ্রুত পাল্টা আক্রমণে আর্জেন্টিনাকে অস্বস্তিতে রাখার চেষ্টা করেছে। প্রথমার্ধে পেনাল্টি মিসের পর আর্জেন্টিনা কিছুটা চাপেও ছিল। কিন্তু মেসির গোল ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ তাদের দিকে ফিরিয়ে দেয়।
দ্বিতীয়ার্ধে অস্ট্রিয়া সমতায় ফেরার চেষ্টা করলেও আর্জেন্টিনার রক্ষণ বড় ভুল করেনি। এমিলিয়ানো মার্তিনেসকে কয়েকবার সতর্ক থাকতে হয়েছে, তবে অস্ট্রিয়া পরিষ্কার সুযোগ খুব বেশি তৈরি করতে পারেনি। শেষ দিকে মার্কো আর্নাউতোভিচকে নামিয়ে আক্রমণে জোর বাড়ালেও গোলের দেখা পায়নি রাংনিকের দল।
ম্যাচের যোগ করা সময়ে জয় নিশ্চিত করেন মেসি। আর্জেন্টিনার আক্রমণ থেকে কাছাকাছি জায়গা থেকে বল জালে পাঠান তিনি। এতে ব্যবধান হয় ২-০। বিশ্বকাপে তাঁর গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ১৮। চলতি আসরে দুই ম্যাচে মেসির গোল ৫টি। আর্জেন্টিনার এখন পর্যন্ত সব গোলই করেছেন তিনি।
এই জয়ে শুধু আর্জেন্টিনার নকআউট নিশ্চিত হয়নি, দলের আত্মবিশ্বাসও আরও বেড়েছে। প্রথম ম্যাচে হ্যাটট্রিক, দ্বিতীয় ম্যাচে পেনাল্টি মিসের পর জোড়া গোল—৩৮ বছর বয়সেও মেসি এখনো আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় ভরসা। তার গোলেই আলজেরিয়ার পর অস্ট্রিয়াকেও হারাল বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।






