মেসিদের বিশ্বকাপ ক্যাম্পে কেন ৫০০ কেজি আর্জেন্টাইন মাংস?

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
মেসিদের বিশ্বকাপ ক্যাম্পে কেন ৫০০ কেজি আর্জেন্টাইন মাংস?
আর্জেন্টিনা ফুটবল দল। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের প্রস্তুতি মানে শুধু অনুশীলন, ট্যাকটিকস আর ম্যাচ পরিকল্পনা নয়। বড় টুর্নামেন্টে একটি দলের খাবার, ঘুম, পুনরুদ্ধার, মানসিক স্বস্তি, সবকিছুই পারফরম্যান্সের অংশ। সেই কারণেই যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ খেলতে এসে আর্জেন্টিনা নিজেদের সঙ্গে এনেছে ঘরের স্বাদ। লিওনেল মেসিদের কানসাস সিটি ক্যাম্পে পাঠানো হয়েছে ৫০০ কেজির বেশি আর্জেন্টাইন গরুর মাংস।

Advertisement

প্রথম শুনলে বিষয়টি অদ্ভুত লাগতে পারে। বিশ্বকাপ খেলতে গিয়ে এত মাংস কেন? উত্তরটা লুকিয়ে আছে আর্জেন্টিনার ফুটবল সংস্কৃতি, খাবারের ঐতিহ্য এবং দলের অভ্যন্তরীণ পরিবেশে। আর্জেন্টিনার কাছে আসাদো (আর্জেন্টাইন বিখ্যাত গুরুর মাংসের বারবিকিউ) শুধু খাবার নয়, এটি সামাজিকতা, পরিবার, বন্ধুত্ব এবং দলীয় বন্ধনের অংশ। আর জাতীয় দলের জন্য সেটি কখনো কখনো মাঠের বাইরের বড় শক্তি হয়ে ওঠে।

রিপোর্ট অনুযায়ী, আর্জেন্টিনার পাঠানো চালানে ছিল দেশটির ঐতিহ্যবাহী কয়েকটি কাট, লোমো, ভাসিও, এন্ত্রানিয়া, মাতামব্রে, পেসেতো ও আসাদো দে তিরা। এগুলো আর্জেন্টিনার বিখ্যাত গ্রিল সংস্কৃতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। বিশ্বকাপ ক্যাম্পে এই মাংস দিয়ে খেলোয়াড়দের পরিচিত খাবারের রুটিন ধরে রাখাই মূল উদ্দেশ্য।

আসাদো।
আসাদো।

আর্জেন্টিনায় আসাদো মানে শুধু বারবিকিউ নয়। বড় ম্যাচের দিন, পারিবারিক আয়োজন, বন্ধুদের আড্ডা, সবকিছুতেই আসাদোর উপস্থিতি থাকে। ফুটবল আর আসাদো যেন একই সামাজিক জীবনের দুই অংশ। তাই মেসি, নিকোলাস ওতামেন্দি, এমিলিয়ানো মার্তিনেজদের জন্য এটি শুধু পুষ্টির বিষয় নয়, ঘরের আবহ ধরে রাখারও উপায়।

বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টে খেলোয়াড়েরা দীর্ঘ সময় পরিবার ও পরিচিত পরিবেশ থেকে দূরে থাকে। নতুন দেশ, ভিন্ন আবহাওয়া, ভিন্ন খাবার, ভিন্ন সময়সূচি, সব মিলিয়ে শরীর ও মন দুই দিক থেকেই চাপ তৈরি হয়। পরিচিত খাবার সেই চাপ কিছুটা কমাতে পারে। বিশেষ করে এমন একটি দল, যারা নিজেদের ঐক্য ও পারিবারিক আবহকে সাফল্যের বড় অংশ মনে করে।

আর্জেন্টিনার কোচিং ও মেডিকেল স্টাফের দৃষ্টিতে খাবার পারফরম্যান্স ব্যবস্থাপনার অংশ। ম্যাচের ঘনত্ব, ভ্রমণ, অনুশীলন ও পুনরুদ্ধারের মধ্যে খেলোয়াড়দের ডায়েট পরিকল্পনা খুব গুরুত্বপূর্ণ। পরিচিত প্রোটিন উৎস, নির্দিষ্ট রান্নার ধরন এবং খাবারের সময়সূচি ধরে রাখা খেলোয়াড়দের শরীরকে স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করতে পারে।

এই চালান পাঠানো সহজ কাজও নয়। যুক্তরাষ্ট্রে খাদ্যপণ্য, বিশেষ করে মাংস প্রবেশের ক্ষেত্রে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি ও কাস্টমস নিয়ম মানতে হয়। তাই মাসের পর মাস পরিকল্পনা করে এই মাংস পাঠানো হয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ বিষয়টি শুধু আবেগের নয়, সংগঠিত লজিস্টিক প্রস্তুতিরও।

মেসিদের বিশ্বকাপ ক্যাম্প এখন কানসাস সিটিতে। মজার ব্যাপার হলো, কানসাস সিটিও যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত বারবিকিউ শহর। সেখানে স্থানীয় স্মোকড মিট, ব্রিসকেট, রিবস ও সসের আলাদা খ্যাতি আছে। কিন্তু আর্জেন্টিনার কাছে নিজেদের আসাদোর জায়গা আলাদা। স্থানীয় বারবিকিউ যত জনপ্রিয়ই হোক, মেসিদের টেবিলে থাকবে আর্জেন্টিনার স্বাদ।

২০২২ বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনা নিজেদের খাবার সংস্কৃতিকে সঙ্গে নিয়েছিল। কাতারে তারা বিপুল পরিমাণ মাংস নিয়ে গিয়েছিল বলে সে সময় খবর হয়েছিল। পরে মেসির নেতৃত্বে তারা বিশ্বকাপ জেতে। অবশ্য ট্রফি জয়ের কারণ শুধু খাবার নয়, কিন্তু দলীয় পরিবেশ, আত্মবিশ্বাস ও ঘরের আবহ ধরে রাখার ক্ষেত্রে এই ধরনের প্রস্তুতি প্রতীকী গুরুত্ব পায়।

আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়দের খাবারের সঙ্গে সম্পর্কও অনেকটাই ব্যক্তিগত। মেসি আগে বলেছেন, তিনি নিজে গ্রিলের দায়িত্ব নেওয়ার চেয়ে অন্যদের সঙ্গে বসে খেতে বেশি পছন্দ করেন। এমিলিয়ানো মার্তিনেজের পছন্দ মিলানেসা ও পিউরে। ওতামেন্দির কাছে আদর্শ খাবার পরিবারের সঙ্গে একটি আসাদো। এই ছোট ছোট পছন্দই বোঝায়, খাবার আর্জেন্টিনা দলের পরিচয়ের কতটা গভীরে।

বিশ্বকাপে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে আর্জেন্টিনার ওপর চাপ স্বাভাবিকভাবেই বেশি। মেসির সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ, শিরোপা ধরে রাখার মিশন, প্রত্যাশার পাহাড়, সবকিছু মিলিয়ে দলের জন্য মানসিক স্থিরতা জরুরি। সে কারণেই পরিচিত রুটিন ধরে রাখা স্কালোনির দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।