ইকুয়েডরকে রুখে দিয়ে কুরাসাওয়ের ইতিহাস

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
ইকুয়েডরকে রুখে দিয়ে কুরাসাওয়ের ইতিহাস
রীতিমতো একাই কুরাসাওকে বাঁচান এলয় রুম। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপে প্রথম পয়েন্ট পেল কুরাসাও। আর সেই পয়েন্টের বড় নায়ক তাদের গোলরক্ষক এলয় রুম। কানসাস সিটিতে গ্রুপ ‘ই’র ম্যাচে ইকুয়েডরের একের পর এক আক্রমণ ঠেকিয়ে কুরাসাওকে গোলশূন্য ড্র এনে দেন ৩৭ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক। অন্যদিকে টানা দ্বিতীয় ম্যাচেও গোলের দেখা পেল না ইকুয়েডর।

Advertisement

আইভরি কোস্টের কাছে ১-০ গোলে হেরে বিশ্বকাপ শুরু করেছিল ইকুয়েডর। তাই কুরাসাওয়ের বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল তাদের জন্য ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ। প্রতিপক্ষ প্রথম ম্যাচে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলে হেরেছিল। কাগজে-কলমে ইকুয়েডরই ছিল ফেভারিট। কিন্তু মাঠে সেই হিসাব বদলে দিল কুরাসাওয়ের রক্ষণ আর রুমের অবিশ্বাস্য গোলকিপিং।

ম্যাচের শুরু থেকেই ইকুয়েডর চাপ তৈরি করে। প্রথম দিকে মোয়েসেস কাইসেদোর পাস থেকে এননার ভ্যালেন্সিয়া বড় সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু রুম দুর্দান্ত সেভে কুরাসাওকে বাঁচান। এরপর জন ইয়েবোয়া, গনসালো প্লাতা ও পেদ্রো ভিতেরা চেষ্টা করলেও গোল আসেনি।

প্রথমার্ধে বলের দখলে ছিল ইকুয়েডরের স্পষ্ট আধিপত্য। প্রায় ৭৫ শতাংশ সময় বল তাদের পায়ে থাকলেও কুরাসাওয়ের ঘন রক্ষণ ভাঙতে পারেনি সেবাস্তিয়ান বেকাসেসের দল। কুরাসাও বক্সের সামনে রক্ষণ দেয়াল তুলে দাঁড়ায়। সুযোগ পেলেই কাউন্টার আক্রমণে ওঠে তারা। তবে তাদের মূল লক্ষ্য ছিল ইকুয়েডরকে গোল থেকে দূরে রাখা।

এই পরিকল্পনায় সবচেয়ে বড় ভূমিকা রুমের। প্রথমার্ধেই কয়েকটি নিশ্চিত গোল ঠেকান তিনি। ৪২ মিনিটে প্লাতার প্রচেষ্টা রুখে দিয়ে ইকুয়েডরের হতাশা বাড়ান। বিরতির আগে ইকুয়েডর একের পর এক শট নিলেও গোলশূন্যই থাকে স্কোরলাইন।

দ্বিতীয়ার্ধে আরও মরিয়া হয়ে ওঠে ইকুয়েডর। বেকাসেসে মাঝমাঠের পরিকল্পনা বদলে কেভিন রদ্রিগেজকে নামান। আক্রমণে ঝুঁকি বাড়ায় তারা। কাইসেদো দূর থেকে শট নেন, ভ্যালেন্সিয়া বারবার সুযোগ খোঁজেন, কেভিন রদ্রিগেজও চেষ্টা করেন। কিন্তু প্রতিবারই সামনে দাঁড়িয়ে যান রুম।

৬০ মিনিটের দিকে ম্যাচ পাগলাটে রূপ নেয়। রুম আবারও কুরাসাওকে বাঁচান। ফিরতি আক্রমণে কুরাসাও প্রায় গোল করেই ফেলেছিল, কিন্তু ইকুয়েডর গোলরক্ষক হার্নান গালিন্দেস কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে একাধিক সেভে বিপদ কাটান। এরপর ৬৫ মিনিটে ভ্যালেন্সিয়ার হেডও রুম ঠেকিয়ে দেন। ম্যাচ যত গড়িয়েছে, রুম ততই ইকুয়েডরের জন্য দেয়াল হয়ে উঠেছেন।

শেষ দিকে ইকুয়েডর সবকিছু সামনে ঢেলে দেয়। পিয়েরো হিনকাপিয়ে হেডের সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু বল উঁচু দিয়ে চলে যায়। ৮৪ মিনিটে ভ্যালেন্সিয়া এক-অন-ওয়ান পরিস্থিতিতে গিয়েও গোল করতে পারেননি। শেষ মুহূর্তে আনহেলো প্রেসিয়াদোর ক্রস ডিফ্লেকশন নিয়ে ক্রসবারে লাগে। যোগ করা সময়ে ভ্যালেন্সিয়া পেনাল্টির আবেদন করেন, কিন্তু ভিএআর রিভিউর পরও পেনাল্টি দেওয়া হয়নি।

আস

ফলে ম্যাচ শেষ হয় ০-০ গোলে। স্কোরলাইন ছোট হলেও কুরাসাওয়ের জন্য এটি ঐতিহাসিক। বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচেই তারা প্রথম পয়েন্ট পেল। জার্মানির কাছে বড় হারের পর এই ড্র তাদের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে দেবে। রুমের ১৫ সেভ বিশ্বকাপের এক ম্যাচে সর্বোচ্চ সেভের রেকর্ড ছুঁতে পারেনি, তবে রেকর্ড থেকে মাত্র এক সেভ দূরে থেমেছে।

ইকুয়েডরের জন্য ফলটি বড় ধাক্কা। দুই ম্যাচে এখন তাদের পয়েন্ট মাত্র ১। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, তারা এখনো বিশ্বকাপে গোল করতে পারেনি। আইভরি কোস্টের বিপক্ষে গোলহীন থাকার পর কুরাসাওয়ের বিপক্ষেও একই ব্যর্থতা। বলের দখল, শট, সুযোগ, সবকিছু ছিল। ছিল না শুধু ফিনিশিং।

কুরাসাওয়ের সামনেও সুযোগ এখনো আছে। শেষ ম্যাচে তারা খেলবে আইভরি কোস্টের বিপক্ষে। জয় পেলে চার পয়েন্টে উঠে সেরা তৃতীয় দল বা আরও বড় কিছুর হিসাবেও থাকতে পারে তারা। ছোট দেশটির জন্য সেটিই এখন বড় স্বপ্ন।