হাজারতম বিশ্বকাপ ম্যাচে জাপানের দাপুটে জয়

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
হাজারতম বিশ্বকাপ ম্যাচে জাপানের দাপুটে জয়
জাপান দল। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপ ইতিহাসের ১০০০তম ম্যাচ। সেই মাইলফলকের রাতটা নিজেদের করে নিল জাপান। মন্টেরি স্টেডিয়ামে গ্রুপ ‘এফ’-এর ম্যাচে তিউনিসিয়াকে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত করেছে হাজিমে মোরিয়াসুর দল। জাপানের হয়ে জোড়া গোল করেছেন আয়াসে উয়েদা। বাকি দুই গোল দাইচি কামাদা ও জুনিয়া ইতোর।

Advertisement

এই হারে শেষ ম্যাচ বাকি থাকতেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়েছে তিউনিসিয়ার। দুই ম্যাচে তাদের পয়েন্ট শূন্য। জাপান ও নেদারল্যান্ডসের পয়েন্ট ৪ করে, সুইডেনের পয়েন্ট ৩। শেষ ম্যাচে তিউনিসিয়া নেদারল্যান্ডসকে হারালেও তাদের পয়েন্ট হবে সর্বোচ্চ ৩। কিন্তু সুইডেনের সঙ্গে পয়েন্ট সমান হলেও মুখোমুখি লড়াইয়ে ৫-১ গোলে হারের কারণে তিউনিসিয়া গ্রুপে তৃতীয় হতে পারবে না।

ম্যাচের শুরুতেই জাপান বুঝিয়ে দেয়, তারা শুধু জয় নয়, বড় ব্যবধানের জয় চাইছে। চতুর্থ মিনিটে দাইচি কামাদা গোল করে জাপানকে এগিয়ে দেন। তিউনিসিয়ার রক্ষণ তখনো ম্যাচে পুরোপুরি ঢুকতে পারেনি। সেই সুযোগই কাজে লাগায় মোরিয়াসুর দল।

তিউনিসিয়া দ্রুত সমতায় ফেরার চেষ্টা করেছিল। হানিবাল মেজব্রি শুরুতে দূরপাল্লার শটে জাপানকে সতর্ক করেন। কিন্তু সেটাই ছিল তাদের হাতে গোনা বিপজ্জনক মুহূর্তের একটি। এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ প্রায় পুরোপুরি নিয়ে নেয় জাপান।

৩১ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন আয়াসে উয়েদা। কো ইতাকুরার পাস পেয়ে জায়গা বানিয়ে বক্সের বাইরে থেকে শক্তিশালী শটে তিউনিসিয়ার গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন তিনি। প্রথমার্ধেই ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে তিউনিসিয়া। বিরতিতে যাওয়ার আগেই বোঝা যাচ্ছিল, ম্যাচে ফিরতে হলে আফ্রিকান দলটির অলৌকিক কিছু করতে হবে।

কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধেও সেই পরিবর্তন দেখা যায়নি। বরং জাপান আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে। বলের দখল, গতির পরিবর্তন, দুই প্রান্ত দিয়ে আক্রমণ, সব জায়গায় তিউনিসিয়ার চেয়ে এগিয়ে ছিল তারা। ৬৯ মিনিটে জুনিয়া ইতো গোল করে স্কোরলাইন ৩-০ করেন। তখনই ম্যাচ কার্যত শেষ।

৮৩ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন উয়েদা। সেই গোলের পর তিউনিসিয়ার শরীরী ভাষাতেই হতাশা স্পষ্ট হয়ে যায়। জাপান তখন শুধু ম্যাচ জিতছিল না, গ্রুপের গোল ব্যবধানের হিসাবেও নিজেদের অবস্থান শক্ত করছিল।

এই ম্যাচে জাপানের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল নিয়ন্ত্রণ। তাকেফুসা কুবো চোটের কারণে দলে ছিলেন না। তবু জাপানের আক্রমণ থামেনি। কামাদা মাঝমাঠ থেকে খেলা গুছিয়েছেন, ইতো ডান দিক দিয়ে বারবার বিপদ তৈরি করেছেন, আর উয়েদা বক্সে ছিলেন নিখুঁত ফিনিশার।

তিউনিসিয়ার জন্য রাতটি ছিল হতাশার। বিশ্বকাপের মাঝপথে কোচ বদলের পর হার্ভে রেনারের অধীনে এই ম্যাচ ছিল ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ। কিন্তু মাঠে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি। সুইডেনের কাছে প্রথম ম্যাচে ৫-১ গোলে হারের পর জাপানের কাছে ৪-০ হার, দুই ম্যাচে ৯ গোল হজম করে বিদায় নিশ্চিত হলো তাদের।

তিউনিসিয়ার সমস্যা শুধু রক্ষণে ছিল না। আক্রমণেও তারা প্রায় নিষ্প্রভ। জাপান গোলরক্ষক জিওন সুজুকিকে খুব বেশি পরীক্ষায় পড়তে হয়নি। বলের দখলে পিছিয়ে থাকা, আক্রমণে ধার না থাকা এবং রক্ষণে বারবার ফাঁক রাখা, সব মিলিয়ে তিউনিসিয়ার বিশ্বকাপ অভিযান দ্রুত শেষ হয়ে গেল।


গ্রুপ ‘এফ’-এর হিসাব এখন আরও জমে উঠেছে। নেদারল্যান্ডস ও জাপান ৪ পয়েন্টে। সুইডেন ৩ পয়েন্টে। শেষ রাউন্ডে জাপান খেলবে সুইডেনের বিপক্ষে, আর নেদারল্যান্ডসের প্রতিপক্ষ তিউনিসিয়া। জাপানের জন্য শেষ ম্যাচে ড্র করলেই শীর্ষ দুইয়ে থেকে শেষ ৩২ নিশ্চিত হবে। জিতলে তারা গ্রুপসেরা হওয়ার দৌড়েও থাকবে।

সুইডেনের জন্য ম্যাচটি এখন বাঁচামরার। নেদারল্যান্ডসের কাছে ৫-১ গোলে হারার পর জাপানের বিপক্ষে জয় ছাড়া তাদের শীর্ষ দুইয়ে থাকা কঠিন হয়ে যাবে। অন্যদিকে তিউনিসিয়ার শেষ ম্যাচ এখন শুধু সম্মানের লড়াই।

জাপান অবশ্য এই জয়ে বড় বার্তা দিল। নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে ২-২ ড্র করে শুরু করার পর তিউনিসিয়াকে ৪-০ গোলে হারানো প্রমাণ করে, তারা শুধু লড়াকু দল নয়, সুযোগ পেলে বড় ব্যবধানে ম্যাচ শেষ করতেও পারে। কুবো ছাড়াই এমন জয় মোরিয়াসুর দলের গভীরতা ও পরিকল্পনার শক্তি দেখাল।