মেসি-কেইনদের সামনে আজ যত রেকর্ড

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
মেসি-কেইনদের সামনে আজ যত রেকর্ড
হ্যারি কেইন ও লিও মেসি। ছবি: ইএসপিএন

ফাইনালের টিকিটের পাশাপাশি রেকর্ড বইয়ের বেশ কয়েকটি পাতাও বদলে দিতে পারে ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা সেমিফাইনাল। লিওনেল মেসি, হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহামের সামনে রয়েছে ব্যক্তিগত কীর্তির হাতছানি। দলীয় রেকর্ড গড়ার সুযোগও আছে দুই দলের।

নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপেই একের পর এক রেকর্ড গড়েছেন মেসি। এবারের আসরে আট গোল করে কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় যৌথভাবে শীর্ষে আছেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। বিশ্বকাপে তার মোট গোল এখন রেকর্ড ২১টি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গোল করলে সংখ্যাটি বেড়ে হবে ২২।

তবে মেসির সামনে সবচেয়ে বড় হাতছানি আর্জেন্টিনার ৯৬ বছরের পুরোনো একটি রেকর্ড। ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপে মাত্র চার ম্যাচে আট গোল করেছিলেন গিয়ের্মো স্তাবিলে। বিশ্বকাপের এক আসরে কোনো আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়ের সেটিই সর্বোচ্চ গোল। আট গোল নিয়ে স্তাবিলের পাশে থাকা মেসি আজ একবার জাল খুঁজে পেলেই রেকর্ডটি নিজের করে নেবেন।

বয়সের হিসাবেও নতুন ইতিহাস গড়তে পারেন ৩৯ বছর বয়সী মেসি। মাঠে নামলেই পুরুষদের বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে খেলা সবচেয়ে বেশি বয়সী আউটফিল্ড খেলোয়াড় হবেন তিনি। এত দিন রেকর্ডটি ছিল সুইডেনের গুনার গ্রেনের। ১৯৫৮ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে খেলার সময় গ্রেনের বয়স ছিল ৩৭ বছর ২৩৬ দিন।

সেই ম্যাচে গোলও করেছিলেন গ্রেন। ফলে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মেসি গোল করলে বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের সবচেয়ে বেশি বয়সী গোলদাতার রেকর্ডটিও তার হয়ে যাবে। ঐতিহাসিক ম্যাচ ও দুজনের জন্মতারিখ মিলিয়েই পাওয়া যাচ্ছে এই হিসাব।

ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইনের রেকর্ডের জন্য শুধু মাঠে নামাই যথেষ্ট। নরওয়ের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল ছিল তার ১২০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ। সমান ১২০ ম্যাচ নিয়ে এখন ওয়েইন রুনির পাশে আছেন তিনি। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেললে ১২১ ম্যাচ নিয়ে ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা আউটফিল্ড খেলোয়াড় হয়ে যাবেন কেইন। ইংল্যান্ডের সামগ্রিক রেকর্ড অবশ্য পিটার শিলটনের, ১২৫ ম্যাচ।

গোলের রেকর্ডেও চোখ থাকবে কেইন ও বেলিংহামের। দুজনই এবারের বিশ্বকাপে ছয়টি করে গোল করেছেন। বিশ্বকাপের এক আসরে ইংল্যান্ডের কোনো খেলোয়াড়ের সর্বোচ্চ গোলও ছয়টি। ১৯৮৬ সালে গ্যারি লিনেকার এবং ২০১৮ সালে কেইন এই সংখ্যা ছুঁয়েছিলেন।

আজ কেইন অথবা বেলিংহামের যে কেউ গোল করলে সাত গোল নিয়ে রেকর্ডটি এককভাবে নিজের করে নেবেন। দুজনই গোল করলে সাতটি করে গোল নিয়ে যৌথভাবে নতুন রেকর্ড গড়বেন।

বেলিংহামের ছয় গোলের কোনোটিই পেনাল্টি থেকে আসেনি। নরওয়ের বিপক্ষে জোড়া গোলের পর ইংল্যান্ডের হয়ে এক আসরে সর্বোচ্চ নন-পেনাল্টি গোলের লিনেকারের রেকর্ড ছুঁয়েছেন তিনি। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে গোল করলে এই রেকর্ডে একাই উঠে যাবেন বেলিংহাম।

আর জোড়া গোল করতে পারলে আরও বিরল একটি ইতিহাস গড়বেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা। শেষ ষোলোয় মেক্সিকো এবং কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ের বিপক্ষে দুবার করে গোল করেছেন বেলিংহাম। আজও জোড়া গোল করলে বিশ্বকাপের টানা তিন নকআউট ম্যাচে একাধিক গোল করা প্রথম খেলোয়াড় হবেন তিনি। টানা দুই নকআউট ম্যাচে জোড়া গোলের এমন কীর্তি সর্বশেষ করেছিলেন দিয়েগো ম্যারাডোনা, ১৯৮৬ বিশ্বকাপে।

দলীয় গোলের রেকর্ডও ভাঙতে পারে আজ। এবারের আসরে ইংল্যান্ড করেছে ১৩ গোল, যার ১২টিই কেইন ও বেলিংহামের। ২০২২ বিশ্বকাপেও ১৩ গোল করেছিল ইংলিশরা। ফলে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে একটি গোল পেলেই এক আসরে নিজেদের সর্বোচ্চ ১৪ গোলের নতুন রেকর্ড গড়বে তারা।

আর্জেন্টিনা এখন পর্যন্ত করেছে ১৭ গোল। এক বিশ্বকাপে তাদের দলীয় রেকর্ড ১৮ গোল, সেটিও ১৯৩০ সালের। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এক গোল করলে পুরোনো রেকর্ড ছোঁবে লিওনেল স্কালোনির দল। দুই গোল করতে পারলে ১৯ গোল নিয়ে গড়বে নতুন রেকর্ড।

ম্যাচের ফলও জন্ম দিতে পারে নতুন ইতিহাসের। ইংল্যান্ড জিতলে ৬০ বছর পর বিশ্বকাপ ফাইনালে ফিরবে। বিশ্বকাপে কোনো দলের দুই ফাইনাল খেলার মধ্যে এটিই হবে দীর্ঘতম ব্যবধান। আগের সর্বোচ্চ ব্যবধান ছিল আর্জেন্টিনার ৪৮ বছর, ১৯৩০ থেকে ১৯৭৮।

সেটি হবে দেশের বাইরে ইংল্যান্ডের প্রথম বিশ্বকাপ ফাইনাল। তাদের একমাত্র ফাইনালটি হয়েছিল ১৯৬৬ সালে ওয়েম্বলিতে। টমাস টুখেলও ইংল্যান্ডকে বিশ্বকাপ ফাইনালে নেওয়া প্রথম বিদেশি কোচ হবেন।

আর্জেন্টিনা জিতলে সপ্তমবার বিশ্বকাপ ফাইনালে উঠবে। ব্রাজিলের সাত ফাইনালের রেকর্ড ছুঁয়ে জার্মানির আটটির পেছনে যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে চলে যাবে তারা। এর আগে পাঁচবার প্রচলিত সেমিফাইনাল খেলে প্রতিবারই ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। আজ জিতলে সেই নিখুঁত হিসাব হবে ছয়ে ছয়।

তাতে আরও একটি রেকর্ডের দরজা খুলবে মেসির সামনে। ২০১৪ ও ২০২২ সালের পর তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনালে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পাবেন তিনি। ফাইনালে অধিনায়ক হিসেবে মাঠে নামলে তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনালে নেতৃত্ব দেওয়া প্রথম খেলোয়াড় হবেন মেসি।

ম্যাচ টাইব্রেকারে গেলে রেকর্ডের আরেকটি অধ্যায় শুরু হতে পারে। এমিলিয়ানো মার্তিনেজ এর আগে দুটি বিশ্বকাপ টাইব্রেকারে গোলকিপিং করেছেন। তৃতীয়বার টাইব্রেকারে দাঁড়ালে কোনো গোলকিপারের সর্বোচ্চ অংশগ্রহণের একক রেকর্ড হবে তাঁর।

মার্তিনেজের বর্তমান টাইব্রেকার সেভ তিনটি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে একটি সেভ করলে চার সেভের বিশ্বরেকর্ড ছুঁবেন। দুটি সেভ করলে পাঁচটি নিয়ে রেকর্ডটি এককভাবে নিজের করে নেবেন।

মেসি টাইব্রেকারে কিক নিলেও নতুন রেকর্ড হবে। এর আগে তিনটি বিশ্বকাপ টাইব্রেকারে কিক নিয়েছেন তিনি। চতুর্থবার কিক নেওয়া প্রথম খেলোয়াড় হবেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। গোল করলে সর্বোচ্চ চারটি সফল টাইব্রেকার কিকের রেকর্ডও এককভাবে তার হবে। তবে টাইব্রেকারের গোল ব্যক্তিগত গোল বা গোল্ডেন বুটের হিসাবে যোগ হবে না।

ফাইনালের পথে আজ তাই শুধু ইংল্যান্ড অথবা আর্জেন্টিনার একটি দল এগোবে না। মেসি, কেইন কিংবা বেলিংহামের পায়ের ছোঁয়ায় বদলে যেতে পারে বিশ্বকাপের রেকর্ড বইও।