নেইমার ৯০ মিনিট খেলতে প্রস্তুত: আনচেলত্তি

নরওয়ের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচের আগে ব্রাজিল শিবিরে নেইমারকে ঘিরে নতুন বার্তা দিলেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। তার দাবি, ব্রাজিলের ১০ নম্বর এখন পুরো ম্যাচ খেলার মতো শারীরিক অবস্থায় আছেন।
চোট কাটিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপে ফিরেছেন নেইমার। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে বদলি হিসেবে নেমে এই আসরে প্রথমবার মাঠে দেখা যায় তাকে। তবে জাপানের বিপক্ষে শেষ ৩২-এর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তাকে ব্যবহার করেননি আনচেলত্তি। ব্রাজিল ২-১ গোলে জিতলেও নেইমার পুরো ম্যাচ রিজার্ভ বেঞ্চেই ছিলেন।
ফোলিয়া দে সাও পাওলোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আনচেলত্তিকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, নেইমার ৯০ মিনিট খেলতে পারবেন কি না। ইতালিয়ান কোচের উত্তর ছিল সরাসরি, ‘হ্যাঁ। সে ৯০ মিনিট খেলতে পারে।’
তবে নেইমার পুরো ম্যাচ খেলার মতো অবস্থায় থাকলেও তার বর্তমান ভূমিকা বদলেছে। আগের মতো তিনি এখন আর ব্রাজিলের একাদশে স্বয়ংক্রিয় পছন্দ নন। বিষয়টি খেলোয়াড় হিসেবে তার জন্য সহজ নয়, সেটিও বুঝছেন আনচেলত্তি। তবে নেইমারের আচরণে সন্তুষ্ট ব্রাজিল কোচ।
আনচেলত্তি বলেন, ‘সে এতে সন্তুষ্ট নয়, কিন্তু খুব ভালো আচরণ করছে। খুব ভালো অনুশীলন করছে।’ নেইমারকে তিনি শ্রদ্ধাশীল, ভদ্র ও সতীর্থদের কাছে প্রিয় একজন খেলোয়াড় হিসেবেও উল্লেখ করেছেন। কোচের মতে, নেইমার দলের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। কারণ, তার মান আছে এবং তিনি বিনয়ী।
কোচের দৃষ্টিতে নেইমারের খেলতে চাওয়াটাই স্বাভাবিক। কোনো বড় খেলোয়াড় বেঞ্চে বসে খুশি থাকতে পারে না। তবে সেই অস্বস্তিকে নেতিবাচক না বানিয়ে পেশাদারভাবে সামলাচ্ছেন নেইমার, এটিই আনচেলত্তির কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
জাপানের বিপক্ষে নেইমারকে না নামানো নিয়েও ব্যাখ্যা দিয়েছেন আনচেলত্তি। তিনি বলেছেন, গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নেইমার খেলতে পারেন। তবে কতক্ষণ খেলবেন, সেটি কেউ আগে থেকে জানে না। নেইমারের অভিজ্ঞতা আছে, তিনি ম্যাচের গতি ও নিজের সময় বুঝে নিতে পারেন। কোচের ভাষায়, দল যখন তাকে প্রয়োজন মনে করবে, তখনই তাকে মাঠে নামানো হবে।
জাপানের বিপক্ষে যোগ করা সময়ে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির গোলের পর কেন দৌড়ে উদ্যাপন করেননি, সেটিও মজা করে ব্যাখ্যা করেছেন আনচেলত্তি। তার কথায়, ‘আমি দৌড়াতে পারি না, হাঁটু ছিঁড়ে যাবে। আমার বয়স ৬৭।’
তবে মজার বাইরেও কারণ ছিল। আনচেলত্তির কাছে ম্যাচ শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিছুই শেষ নয়। মার্তিনেল্লি গোল করার পরও কয়েক মিনিট বাকি ছিল। অতীতে অনেকবার শেষ মুহূর্তে ম্যাচ বদলে যেতে দেখেছেন বলেই তিনি আগেভাগে উদ্যাপন করতে চাননি।
নরওয়ে ম্যাচ নিয়েও সতর্ক আনচেলত্তি। তার মতে, নকআউট পর্বে সব ম্যাচই কঠিন। এখানে শুধু কৌশল বা টেকনিক নয়, মানসিক শক্তিও বড় ভূমিকা রাখে। আর্লিং হালান্ডকে বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, নরওয়ের বিপক্ষে কাজ সহজ হবে না।
তবে ব্রাজিল আত্মবিশ্বাসী। নেইমার পুরো ম্যাচ খেলার মতো অবস্থায় আছেন, রাফিনিয়া সেরে ওঠার পথে, আর জাপান ম্যাচে বেঞ্চ থেকে নেমে মার্তিনেল্লি জয়ের গোল করেছেন। এখন প্রশ্ন, নরওয়ের বিপক্ষে আনচেলত্তি কি নেইমারকে শুরু থেকে খেলাবেন, নাকি আবারও তাকে ম্যাচের পরের ভাগের অস্ত্র হিসেবে রাখবেন।





