পূর্ণ অনুশীলনে নেইমার, বিশ্বকাপে অভিষেকের অপেক্ষা

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
পূর্ণ অনুশীলনে নেইমার, বিশ্বকাপে অভিষেকের অপেক্ষা
নেইমার জুনিয়র। ছবি: সংগৃহীত

স্কটল্যান্ড ম্যাচের আগে ব্রাজিল শিবিরে ফিরছে স্বস্তি। কাফ ইনজুরির কারণে বিশ্বকাপে ব্রাজিলের প্রথম দুই ম্যাচ মিস করা নেইমার পূর্ণ অনুশীলনে ফিরেছেন। কার্লো আনচেলত্তির দলের জন্য এটি বড় খবর, কারণ গ্রুপ ‘সি’-এর শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে তাকে বেঞ্চে দেখা যেতে পারে।

Advertisement

মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ ড্র এবং হাইতির বিপক্ষে ৩-০ জয়ের ম্যাচে ছিলেন না নেইমার। চোটের কারণে তিনি ফিলাডেলফিয়ায় হাইতির বিপক্ষে ম্যাচেও দলের সঙ্গে যাননি। শুক্রবার ও শনিবার আলাদা অনুশীলন করেন। এরপর দলের সঙ্গে পূর্ণ সেশনে ফেরা তার বিশ্বকাপ অভিষেকের সম্ভাবনা বাড়িয়েছে।

আনচেলত্তি আগেই জানিয়েছিলেন, নেইমার স্কটল্যান্ড ম্যাচে থাকবেন। ব্রাজিল কোচের পরিকল্পনা অনুযায়ী, চোট কাটিয়ে ধীরে ধীরে তাকে মূল দলের অনুশীলনে ফেরানো হয়েছে। দীর্ঘদিন ম্যাচের বাইরে থাকায় তাকে সরাসরি শুরুর একাদশে দেখার সম্ভাবনা কম, তবে বেঞ্চ থেকে নামার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

ব্রাজিলের জন্য নেইমারের ফেরাটা শুধু একজন তারকার ফেরা নয়। এটি দলের আক্রমণ পরিকল্পনাতেও প্রভাব ফেলতে পারে। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, মাতেউস কুনিয়া, গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি, এন্দ্রিকদের ভিড়ে নেইমার এখন হয়তো আগের মতো একক কেন্দ্র নন, কিন্তু তার সৃজনশীলতা, শেষ পাস এবং বড় ম্যাচের অভিজ্ঞতা এখনও ব্রাজিলের জন্য মূল্যবান।

বিশেষ করে রাফিনিয়ার চোটের পর নেইমারের ফেরা ব্রাজিলের জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। হাইতির বিপক্ষে ম্যাচে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন রাফিনিয়া। পরে ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন জানায়, তার ডান উরুর পেছনের মাংসপেশিতে চোট আছে। এখন তিনি চিকিৎসাধীন, তবে কবে ফিরতে পারবেন তা এখনো পরিষ্কার নয়।

রাফিনিয়ার না থাকা আনচেলত্তির জন্য বড় ধাক্কা। তিনি ডান দিকের আক্রমণে গতি, প্রেসিং এবং সরাসরি গোলের হুমকি যোগ করছিলেন। হাইতির বিপক্ষে তাকে তুলে নেওয়ার পর রায়ান মাঠে নামেন। স্কটল্যান্ড ম্যাচে রাফিনিয়াকে পাওয়া না গেলে আনচেলত্তিকে নতুন করে ডান দিকের আক্রমণ সাজাতে হবে।

ব্রাজিল গ্রুপ ‘সি’-তে দুই ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে। মরক্কোরও ৪ পয়েন্ট, তবে গোল ব্যবধানে ব্রাজিল এগিয়ে। স্কটল্যান্ড ৩ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে আছে এবং শেষ ম্যাচে এখনও নকআউটের লড়াইয়ে টিকে আছে। তাই মায়ামির ম্যাচটি শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়; গ্রুপসেরা হওয়া এবং শেষ ৩২-এর পথ নির্ধারণের ম্যাচ।

স্কটল্যান্ডও জানে, নেইমার ফিরলে ম্যাচের আবহ বদলে যেতে পারে। তবে তারা ভয় পাচ্ছে না। স্কটিশ ডিফেন্ডার জ্যাক হেন্ড্রি বলেছেন, নেইমার ফিরলে সেটি বড় চ্যালেঞ্জ, কিন্তু এমন ম্যাচের জন্যই খেলোয়াড়েরা অপেক্ষা করে। ব্রাজিলের বিপক্ষে পয়েন্ট নিতে পারলে স্কটল্যান্ডের নকআউট আশা আরও জোরালো হবে।

নেইমারের জন্য এই বিশ্বকাপ বিশেষ। দীর্ঘ চোট, ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন এবং জাতীয় দলে তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার মধ্যে তিনি এই আসরে এসেছেন। প্রথম দুই ম্যাচে না খেলায় তাঁর অপেক্ষা আরও বেড়েছে। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে যদি তিনি মাঠে নামেন, সেটি হবে তাঁর ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ।

তবে ব্রাজিল তাঁকে নিয়ে তাড়াহুড়া করতে চাইবে না। নকআউট সামনে রেখে নেইমারের মিনিট ম্যানেজ করা জরুরি। স্কটল্যান্ড ম্যাচে বেঞ্চ থেকে কিছু সময় খেলানো হলে তা হতে পারে তাঁর ম্যাচ ফিটনেস ফেরানোর প্রথম ধাপ। পুরো টুর্নামেন্টে তাঁকে ব্যবহার করতে চাইলে আনচেলত্তির জন্য সতর্কতাই হবে সবচেয়ে নিরাপদ পথ।

ব্রাজিলের সামনে তাই মিশ্র ছবি। একদিকে নেইমারের ফেরার সম্ভাবনা, অন্যদিকে রাফিনিয়ার চোট। হাইতির বিপক্ষে বড় জয়ে আত্মবিশ্বাস ফিরেছে, কুনিয়া ও ভিনিসিয়ুস গোল পেয়েছেন, কিন্তু আক্রমণের ভারসাম্য আবার নতুন করে সাজাতে হচ্ছে।

স্কটল্যান্ড ম্যাচের আগে তাই ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় খবর নেইমার। তিনি হয়তো শুরু করবেন না, হয়তো পুরো ম্যাচ খেলবেন না। কিন্তু তাঁর পূর্ণ অনুশীলনে ফেরা এবং দলে ফেরার সম্ভাবনাই ব্রাজিলের জন্য বড় মানসিক স্বস্তি। রাফিনিয়ার চোটে যে দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছে, নেইমারের ফেরাই সেটিকে কিছুটা হলেও ঢেকে দিচ্ছে।