বয়কটের সিদ্ধান্তেও পিছু হটছে না ফিফা

বিশ্বকাপসহ নিজেদের প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক কার্যক্রমে বেসরকারি বিনিয়োগ আনার পরিকল্পনা থেকে এখনই সরছে না ফিফা। প্রস্তাবটি বহাল থাকলে ফিফার সব প্রতিযোগিতা বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে উয়েফা ও ইউরোপের ৫৫টি দেশ। এরপরও শুক্রবার ফিফা জানিয়েছে, নির্ধারিত পরামর্শপ্রক্রিয়া চালিয়ে যাবে তারা।
বিশ্বকাপ ও অন্যান্য প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক ও আয়োজনসংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ নামে নতুন একটি প্রতিষ্ঠান গড়তে চায় বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। প্রতিষ্ঠানটির সম্ভাব্য মূল্য ধরা হয়েছে ২ হাজার কোটি ডলার। এর সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ মালিকানা বাইরের বিনিয়োগকারীদের কাছে ছাড়ার প্রস্তাব রয়েছে।
ফিফার দাবি, সদস্য দেশগুলোকে নিজ নিজ অঞ্চলের ফুটবলের বাণিজ্যিক সুযোগে আরও বেশি অংশীদার করতেই এই উদ্যোগ। এতে ফিফা কিংবা ফুটবলের শাসনব্যবস্থা ও চেতনা ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।
তবে শুরু থেকেই প্রস্তাবটির বিরোধিতা করে আসছে উয়েফা। বৃহস্পতিবার জরুরি সভায় ইউরোপের ৫৫টি সদস্য দেশ সর্বসম্মতভাবে ফিফার প্রতিযোগিতা বয়কটের পক্ষে অবস্থান নেয়।
উয়েফা জানিয়েছে, প্রস্তাবটি পুরোপুরি প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতে ফিফার প্রতিযোগিতা কিংবা শাসনব্যবস্থায় ব্যক্তিমালিকানা না আনার বাধ্যতামূলক নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত ইউরোপের কোনো জাতীয় দল ফিফার প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে না।
তাদের ভাষ্য, বিশ্বকাপ কোনো বিনিয়োগপণ্য নয় এবং এটিকে বাইরের বিনিয়োগকারীদের হাতে তুলে দেওয়া যায় না। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হলে ফুটবলের সিদ্ধান্ত গ্রহণে বাণিজ্যিক মুনাফার চাপ স্থায়ী হয়ে যাবে বলেও আশঙ্কা উয়েফার।
উয়েফার কঠোর সিদ্ধান্তের পর শুক্রবার পাল্টা বিবৃতি দিয়েছে ফিফা। সংস্থাটি দাবি করেছে, ভুল সংবাদ প্রকাশের কারণে তাদের পরিকল্পিত পরামর্শপ্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তবে প্রতিটি সদস্য দেশ যাতে সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে মতামত ও ভোট দিতে পারে, সে জন্য প্রক্রিয়াটি চালিয়ে যাওয়া হবে।
ফিফার বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘কেউ ফুটবল বিক্রি করছে না। এমন কিছু করার কথা ফিফা কখনো ভাবতেও পারে না।’
উয়েফার অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে ফিফা। সংস্থাটির মতে, বিরোধিতা বা ব্যাখ্যা চাওয়ার অধিকার সবার রয়েছে। তবে কোনো একটি পক্ষ ফিফার ২১১টি সদস্য দেশের সবার প্রতিনিধিত্ব করার দাবি করতে পারে না। প্রতিটি সদস্য দেশকেই প্রস্তাব পর্যালোচনা এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে মত দেওয়ার সুযোগ দিতে হবে।
শুধু উয়েফা নয়, উত্তর ও মধ্য আমেরিকা অঞ্চলের ফুটবল সংস্থা কনকাকাফও প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছে। এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনও জানিয়েছে, পরিকল্পনাটি ঘোষণার আগে তাদের সঙ্গে কোনো পর্যায়েই আলোচনা করেনি ফিফা।
দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকায় বিশ্ব ফুটবলে বড় ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক সংকট তৈরি হয়েছে। বিরোধের সমাধান না হলে ২০২৭ নারী বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে ২০৩০ পুরুষ বিশ্বকাপ পর্যন্ত ফিফার একাধিক প্রতিযোগিতা অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে।
সূত্র: ফিফা, রয়টার্স
.png)





