Advertisement

ভারতের সংসদের সামনে মুখোমুখি সরকারদলীয় ও বিরোধী জোট

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
ভারতের সংসদের সামনে মুখোমুখি সরকারদলীয় ও বিরোধী জোট
ভারতের সংসদ ভবনের সামনে মুখোমুখি অবস্থানে সরকারদলীয় ও বিরোধীদলীয় জোট। ছবি: সংগৃহীত

ভারতে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা ‘নিট’-এর প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষা খাতের নানা অনিয়মের ইস্যুতে দিল্লির রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। আন্দোলনরত ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছে প্রধান বিরোধী দলগুলো। অন্যদিকে বিরোধী বিক্ষোভের জবাবে পাল্টা অবস্থান নিয়েছে শাসক জোট এনডিএর আইনপ্রণেতারা।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, পার্লামেন্টের উত্তাল বর্ষাকালীন অধিবেশন ও সিজেপির টানা আন্দোলনের মধ্যেই নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে ভারতের সংসদ ভবন এলাকা। বুধ ও বৃহস্পতিবার সংসদ ভবনের ঐতিহাসিক ‘মকর দ্বার’-এর সামনে মুখোমুখি অবস্থানে থেকে পাল্টা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন ক্ষমতাসীন এনডিএ ও বিরোধী জোটের সংসদ সদস্যরা।

পরীক্ষার অনিয়মের প্রতিবাদে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের কাছে কংগ্রেসের ২১ জুলাইয়ের অবস্থান কর্মসূচির জবাবে মাঠে নামে এনডিএ। বিজেপি ও মিত্রদলের আইনপ্রণেতারা প্ল্যাকার্ড হাতে স্লোগান দেন, ‘যুবকদের উসকানি দেবেন না, রাহুল গান্ধী জেগে উঠুন’।

অন্যদিকে, রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদ্রার নেতৃত্বে বিরোধী এমপিরা ‘প্রধানকে বরখাস্ত করুন’ এবং ‘জীবন বাঁচান, নিট বন্ধ করুন’ লেখা প্ল্যাকার্ড নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সোচ্চার হন।

এদিকে রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী যন্তর-মন্তরে সিজেপির সমর্থকরা আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন। গত ২৮ জুন থেকে সিজেপির সঙ্গে একাত্মতা জানিয়ে অনশনরত বিশিষ্ট পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক অনশন প্রত্যাহারে নতুন শর্ত দিয়েছেন।

তিনি জানান, গত ২০ জুলাই ‘চলো সংসদ’ অভিযানে অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বা আইনি মামলা নেওয়া হবে না মর্মে কেন্দ্র প্রতিশ্রুতি দিলেই তিনি অনশন ভাঙবেন।

চলমান এই ছাত্র বিক্ষোভে দীর্ঘ নীরবতার পর মুখ খুলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি জোর দিয়ে বলেন, যুবকদের ভবিষ্যত ও কল্যাণের চেয়ে সরকারের কাছে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছুই নেই।

মোদি লেখেন, ‘প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে আমরা ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যারা তরুণদের ভবিষ্যত নষ্ট করার চেষ্টা করবে, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।’