জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে নিজের শরীরে আগুন দিলেন ভিক্ষু

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে নিজের শরীরে আগুন দিলেন ভিক্ষু
জাতিসংঘ সদর দপ্তর। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে নিজের শরীরে আগুন দিয়েছেন একজন তিব্বতি ভিক্ষু।

নিউ ইয়র্ক পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সন্ধ্যায় জাতিসংঘ কার্যালয়ের কাছ থেকে মারাত্মকভাবে দগ্ধ অবস্থায় ওই ভিক্ষুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। তবে তারা ওই ব্যক্তির নাম প্রকাশ করেনি। তার এই পদক্ষেপের পেছনে সম্ভাব্য কোনো কারণ বা উদ্দেশ্য সম্পর্কেও ‍বিস্তারিত জানায়নি।

তিব্বতি গণমাধ্যম ভয়েস অব তিব্বত জানিয়েছে, নিহতের নাম লোবগা রাংজেন। তিনি তিব্বতের স্বাধীনতা ও ঐক্যের পক্ষে কথা বলে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের বাইরে আত্মাহুতি দিয়েছেন।

ইন্টারন্যাশনাল ক্যাম্পেইন ফর তিব্বত-এর প্রেসিডেন্ট তেনচো গয়াতসো নিহতের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করে তাকে তিব্বতের অধিকার রক্ষার একজন ‘অক্লান্ত যোদ্ধা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

সম্প্রতি চীন একটি নতুন ‘জাতিগত ঐক্য আইন’ পাস করেছে। মানবাধিকার সংস্থা ও তিব্বতিদের মতে, এই আইনের উদ্দেশ্য হলো তিব্বতি ও উইঘুরদের নিজস্ব সংস্কৃতি ধ্বংস করে জোরপূর্বক চীনা সংস্কৃতি চাপিয়ে দেওয়া। যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন চীনের এ আইন নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। কারণ এটি বেইজিংকে দেশের সীমানার বাইরে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার আইনি ভিত্তি দিয়েছে।

১৯৫০ সালে চীন তিব্বত দখল করে একে ‘শান্তিপূর্ণ মুক্তি’ বলে দাবি করে। তবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার গোষ্ঠী ও নির্বাসিত তিব্বতিদের মতে, সেখানে চরম দমনপীড়ন ও কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে ২০১২ সালে শি জিনপিং প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়ানো হয়েছে।

‘ইন্টারন্যাশনাল ক্যাম্পেইন ফর তিব্বত’-এর দেওয়া তথ্যমতে, ২০০৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ১৫০ জনেরও বেশি তিব্বতি নিজের গায়ে আগুন দিয়ে আত্মাহুতি দিয়েছেন। এর মধ্যে ১০ জন তিব্বতি দেশের বাইরে (নির্বাসিত থাকা অবস্থায়) এই পথ বেছে নিয়েছেন।