ওজন বৃদ্ধি থেকে অনিদ্রা, শরীরের এই ৫ সংকেত এড়িয়ে যাবেন না

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
ওজন বৃদ্ধি থেকে অনিদ্রা, শরীরের এই ৫ সংকেত এড়িয়ে যাবেন না
ছবি : সংগৃহীত

কোনো কারণ ছাড়াই হঠাৎ ওজন বেড়ে যাচ্ছে? সারাক্ষণ ক্লান্ত লাগছে, ঠিকমতো ঘুম হচ্ছে না, মেজাজও আগের মতো নেই? অনেকেই এসব সমস্যাকে ব্যস্ত জীবন, বয়স বা মানসিক চাপের ফল বলে মনে করেন।

কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এসব পরিবর্তনের পেছনে অনেক সময় হরমোনের ভারসাম্যহীনতা কাজ করে।

হরমোন হলো শরীরের এমন কিছু রাসায়নিক বার্তাবাহক, যা রক্তের মাধ্যমে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে সংকেত পৌঁছে দেয়। বিপাকক্রিয়া, বৃদ্ধি, প্রজনন, ঘুম, মানসিক অবস্থা, শক্তি এবং মানসিক চাপ মোকাবিলার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো নিয়ন্ত্রণ করে হরমোন।

তাই কোনো একটি হরমোন বেশি বা কম হয়ে গেলেই শরীরে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন অতিরিক্ত কর্টিসল বা স্ট্রেস হরমোনের কারণে ওজন বাড়তে পারে এবং উদ্বেগ বেড়ে যেতে পারে। আবার থাইরয়েড হরমোন কমে গেলে ক্লান্তি, ওজন বৃদ্ধি এবং অলসভাব দেখা দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমোনের সামান্য পরিবর্তনও শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই শুরুতেই লক্ষণগুলো চিহ্নিত করা জরুরি।

কেন দ্রুত হরমোনের সমস্যা শনাক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ?

হরমোনের ভারসাম্যহীনতা শুরুতেই ধরা পড়লে বড় ধরনের জটিলতা এড়ানো সম্ভব।

দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি কমে: ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বা থাইরয়েডের কার্যকারিতা কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দীর্ঘদিন চিকিৎসা না করলে টাইপ ২ ডায়াবেটিস, হৃদরোগ কিংবা অস্টিওপোরোসিসের মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

প্রজনন স্বাস্থ্য ভালো থাকে: নারীদের ক্ষেত্রে পলিএন্ডোক্রাইন মেটাবলিক ওভেরিয়ান সিনড্রোম বা পিএমওএস ডিম্বাণুর মান কমিয়ে দিতে পারে এবং ডিম্বস্ফোটন ব্যাহত করতে পারে। শুরুতেই চিকিৎসা নিলে মাসিক নিয়মিত রাখা এবং ভবিষ্যতের সন্তান ধারণের সম্ভাবনা ধরে রাখা সহজ হতে পারে।

দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা যায়: সমস্যা প্রথম দিকে ধরা পড়লে অনেক ক্ষেত্রেই জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন বা সহজ চিকিৎসার মাধ্যমেই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। এতে দৈনন্দিন জীবনে সমস্যার প্রভাবও কম পড়ে।

হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হলে কী কী লক্ষণ দেখা দিতে পারে?

কোন হরমোন বা কোন গ্রন্থিতে সমস্যা হয়েছে, তার ওপর নির্ভর করে লক্ষণ ভিন্ন হতে পারে। তবে কিছু সাধারণ লক্ষণ রয়েছে, যেগুলোকে অবহেলা করা উচিত নয়।

ওজন ও শক্তির পরিবর্তন

কোনো কারণ ছাড়াই হঠাৎ ওজন বেড়ে যাওয়া বা কমে যাওয়া হরমোনের সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। এ ছাড়া পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়ার পরও সব সময় ক্লান্ত লাগা, শক্তির অভাব অনুভব করা কিংবা অতিরিক্ত গরম বা ঠান্ডা সহ্য করতে না পারাও লক্ষণ হতে পারে।

ঘুম ও মানসিক অবস্থার পরিবর্তন

হরমোনের ভারসাম্যহীনতা অনেক সময় ঘুমের সমস্যা তৈরি করে। এর ফলে অনিদ্রা, অকারণ উদ্বেগ, খিটখিটে মেজাজ, বিষণ্নতা ও মনোযোগ কমে যাওয়া বা ব্রেইন ফগ দেখা দিতে পারে।

ত্বক ও চুলে পরিবর্তন

মুখে বিশেষ করে চোয়ালের আশপাশে বারবার বড় ও ব্যথাযুক্ত ব্রণ হওয়া হরমোনজনিত সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। এ ছাড়া মাথার চুল পাতলা হয়ে যাওয়া কিংবা নারীদের মুখ বা শরীরে অতিরিক্ত লোম গজানোও হরমোনের ভারসাম্যহীনতার ইঙ্গিত দিতে পারে।

হজমের সমস্যা

হরমোন শুধু প্রজনন বা বিপাকক্রিয়াই নয়, হজম প্রক্রিয়াও নিয়ন্ত্রণ করে। ভারসাম্য নষ্ট হলে পেট ফাঁপা, দীর্ঘদিন কোষ্ঠকাঠিন্য, বারবার ডায়রিয়া ও হজমের নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে।

প্রজননসংক্রান্ত সমস্যা

নারী ও পুরুষ উভয়ের প্রজনন স্বাস্থ্যে হরমোনের বড় ভূমিকা রয়েছে। নারীদের ক্ষেত্রে দেখা দিতে পারে-

  • মাসিক অনিয়মিত হওয়া
  • মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়া
  • মাসিকের সময় অতিরিক্ত রক্তপাত

পুরুষদের ক্ষেত্রে দেখা দিতে পারে-

  • যৌনক্ষমতা কমে যাওয়া
  • পেশির শক্তি ও আকার কমে যাওয়া

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত?

উপরের এক বা একাধিক লক্ষণ যদি দীর্ঘদিন ধরে থাকে, তাহলে নিজে থেকে ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজনে রক্ত পরীক্ষা বা অন্যান্য পরীক্ষার মাধ্যমে কোন হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে তা নির্ণয় করা যায়। এরপর সেই অনুযায়ী চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব।

হরমোন শরীরের প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। তাই এর ভারসাম্য নষ্ট হলে শরীরও বিভিন্নভাবে সংকেত দিতে শুরু করে। ওজনের পরিবর্তন, অস্বাভাবিক ক্লান্তি, ঘুমের সমস্যা, ত্বক ও চুলের পরিবর্তন বা মাসিকের অনিয়মের মতো লক্ষণগুলোকে অবহেলা করা উচিত নয়।

সময়মতো সমস্যা শনাক্ত করা গেলে বন্ধ্যাত্ব, অস্টিওপোরোসিস, ডায়াবেটিস বা অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি জটিলতার ঝুঁকি কমানো সম্ভব। তাই শরীরের পরিবর্তনের দিকে নজর রাখা এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো সুস্থ থাকার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

সূত্র: এনডিটিভি