বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের মাতলামি, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তোলপাড়

এশিয়া পোস্ট নিউজ, সিরাজগঞ্জ
বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের মাতলামি, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তোলপাড়
বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের (মাঝে বেগুনি রঙের পাঞ্জাবি পরিহিত) মাতলামি। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলায় বিদ্যালয়ে পরীক্ষার সময় প্রধান শিক্ষকের মদ্যপ অবস্থায় মাতলামি করার খবর পাওয়া গেছে। ছড়িয়ে পড়া এ সংক্রান্ত একটি ভিডিওকে ঘিরে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।

উপজেলার নুকালি বহুপ্বার্শিক উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিন বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে মদ্যপ অবস্থায় বিদ্যালয়ে এসে অস্বাভাবিক আচরণ করেন।

এ ঘটনায় শিক্ষক রুহুল আমিন কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে উপজেলা শিক্ষা অফিস। তিন কর্মদিবসের মধ্যে তাকে জবাব দিতে বলা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে তিনি টলতে টলতে নিজের কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। এরপর চিৎকার-চেঁচামেচি ও বিশৃঙ্খল আচরণ শুরু করলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিদ্যালয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তার পরিবারের সদস্যদের খবর দেন। পরে পরিবারের লোকজন এসে তাকে টালমাটাল অবস্থায় বাড়িতে নিয়ে যান।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রুহুল আমিন দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিদ্যালয়ের পাশেই তার বাড়ি হওয়ায় পারিবারিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে তিনি এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করেছেন। এর আগেও তিনি বিদ্যালয়ে এসে প্রধান শিক্ষকের কার্যালয়ে বসেই মদপান ও অস্বাভাবিক আচরণ করেছেন। তার প্রভাবের কারণে কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করার সাহস পান না বলেও জানান স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের আইসিটি বিভাগের সহকারী শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, স্কুলে সাময়িক পরীক্ষায় সময় আমি সকালে পরীক্ষার দায়িত্বে বিদ্যালয়ের তৃতীয় তলায় ছিলাম। প্রধান শিক্ষকের অফিসে ঠিক কী হয়েছে তা দেখিনি। তবে একটি স্বনামধন্য বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিজের চেয়ারে বসে মদপান করেছেন—এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। এতে প্রতিষ্ঠানের সুনাম নষ্ট হচ্ছে এবং শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে।

প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিন ঘটনা স্বীকার করে বলেন, আমি বাইরে থেকে মদপান করে বিদ্যালয়ে একটি কাগজ নেওয়ার জন্য গিয়েছিলাম। তখন কিছুটা মাতলামি হয়েছে। আমার বড় ভাই আমিনুল ইসলাম ও ছোট ভাই নুরুল ইসলাম আমাকে বাড়িতে নিয়ে যান। আমি তিন কর্মদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব দেব।

শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, গণমাধ্যমের মাধ্যমে বিষয়টি জেনে ইউএনওকে অবগত করা হয়েছে। ইউএনও শিক্ষা বিভাগকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত থানায় এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি।

শাহজাদপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. সাইদুল ইসলাম শেখ জানান, বিষয়টি জানার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং তিন কর্মদিবসের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।