জিনদের কি মৃত্যু হয়

আরবি ‘জিন্ন’ থেকে জিন শব্দটি এসেছে। জিন্ন অর্থ আচ্ছন্ন বা মোহাবিষ্ট করা। এর আরেক অর্থ আবরণ। জিন শব্দের ধাতু থেকে উৎপন্ন সব শব্দেই আবরণের অর্থ পাওয়া যায়। ইসলামি ধর্মশাস্ত্র অনুযায়ী জিন হলো অগ্নি দেহী, তাদের আগুনের শিখা থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে। তারা নানা আকার ধারণ করতে পারে।
আল্লাহ মানুষ ও জিনদের তাঁর ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছেন। মানুষ ও জিনদের মধ্যে ভালো-মন্দ উভয়ই আছে। তাদের হেদায়াতের জন্য আল্লাহ কিতাব ও নবীদের পাঠিয়েছেন। মানবজাতির মতো কেয়ামতের মধ্য দিয়ে জিনেরাও ধ্বংস হয়ে যাবে। হাশরের ময়দানে হিসাব-নিকাশ হবে শুধু এই দুই জাতির, তাদের বুঝিয়ে দেওয়া হবে ভালো ও মন্দ কর্মের প্রতিদান। পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘মানুষ ও জিনদের একমাত্র আমার ইবাদত করার জন্যই সৃষ্টি করেছি।’ (সুরা জারিয়াত, আয়াত: ৫৬)
পবিত্র কোরআনের আরেক জায়গায় আল্লাহ বলেন, ‘আমি জিন ও মানুষ (পাপী) দিয়ে জাহান্নাম ভরে ফেলব।’ (সুরা সাজদা, আয়াত: ১৩)
জিনদেরও মৃত্যু হয়। তারাও মানুষের মতো মারা যায়। মৃত্যু থেকে তারা পালিয়ে বেড়াতে পারে না। আল্লাহ বলেন, ‘জমিনের সবকিছুই ধ্বংস হবে। চিরস্থায়ী শুধু আপনার পরাক্রমশালী ও মর্যাদাবান প্রতিপালক।’ (সুরা রাহমান, আয়াত: ২৬-২৮)
জিনের মৃত্যুর বিষয়টি হাদিস দিয়েও প্রমাণিত। হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘আপনার মর্যাদার আশ্রয় কামনা করছি। আপনি ছাড়া ইবাদতের যোগ্য কেউ নেই; যিনি মৃত্যুবরণ করেন না, অথচ জিন ও মানুষ মারা যায়।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৭৩৮৩)
খুলাইদ (রা.) বলেন, আমি তাহাজ্জুদের নামাজে ‘কুল্লু নাফসিং জা ইকাতুল মাওতি’ আয়াতটি বারবার পড়ছিলাম। তখন ঘরের এক কোণ থেকে কেউ একজন আমাকে ডেকে বলল, আর কতবার এই আয়াত পাঠ করবে? এর মধ্যে এর দ্বারা তুমি চারটি জিনের দলকে হত্যা করেছ। যারা এই আয়াত শুনার পর আসমানের দিকে মাথা উঁচু করে তাকাতেই মারা গেছে।’ এ কথা শুনে খুলাইদ ভয় পেয়ে যান।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২২৩৬)
জিনরা কখন মারা যায়, তারা কত বছর বেঁচে থাকে, আল্লাহ ছাড়া এ বিষয়ে কেউ জ্ঞান রাখে না। তবে ইবলিস কেয়ামত পর্যন্ত বেঁচে থাকবে। পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘ইবলিস বলল, যেদিন তাদের পুনরুত্থিত করা হবে, সেদিন পর্যন্ত আমাকে অবকাশ দিন। (আল্লাহ) বললেন, তুমি অবকাশপ্রাপ্ত।’ (সুরা আরাফ, আয়াত: ১৪-১৫)
এই আয়াত দ্বারা বুঝা যায়, ইবলিস কেয়ামত পর্যন্ত আয়ু পেয়েছেন। তবে তার আয়ুষ্কাল নির্দিষ্টভাবে জানা যায় না। কারণ, কেয়ামত কবে হবে, এ ব্যাপারে আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানেন না। ইবলিস হলো একমাত্র জিন যার জীবনকাল সম্পর্কে মানুষ জানতে পেরেছে। জিনদের অন্যান্য বিষয়ের মতো তাদের আয়ুষ্কাল মানুষের জ্ঞানের বাইরে।





