ইরানে হামলা আরও ভয়াবহ হওয়ার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা আবারও চরম রূপ নিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান যদি তাদের আক্রমণ বন্ধ না করে তবে মার্কিন হামলা আরও ভয়াবহ হবে।
স্থানীয় সময় বুধবার (৮ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানে হামলার পরের বেশ কিছু ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করে ট্রাম্প লিখেছেন, এটি গতকাল (মঙ্গলবার) ইরানের পক্ষ থেকে জাহাজে বোমা হামলার প্রতিশোধ। যদি এটি আবারও ঘটে, তবে পরিস্থিতি আরও অনেক ভয়াবহ হবে!
পেন্টাগনের সাবেক ন্যাটো অপারেশন ডিরেক্টর ডেভিড ডেস রচেস আলজাজিরাকে জানান, ওমানের জলসীমায় চলাচলকারী নিরপেক্ষ বেসামরিক জাহাজে ইরানের হামলার জবাবে মূলত যুক্তরাষ্ট্র এই পাল্টা আঘাত হেনেছে।
তিনি বলেন, সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী আমেরিকার কাজ ছিল ইরানের বন্দরগুলোর অবরোধ তুলে নেওয়া এবং তেল বিক্রির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা—যা ওয়াশিংটন করেছে। আর ইরানের শর্ত ছিল হরমুজ প্রণালিতে বেসামরিক জাহাজ চলাচলে বাধা না দেওয়া। কিন্তু ইরান জলসীমায় নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের নতুন নিয়ম চাপিয়ে দিতে বেসামরিক জাহাজে হামলা চালায়, যা ট্রাম্পের কাছে গ্রহণযোগ্য ছিল না।
তবে ডেস রচেস মনে করেন, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া নসাৎ করতে ইরানের রেভল্যুশন গার্ডের কোনো বিদ্রোহী উপদলও এই জাহাজগুলোতে হামলা চালিয়ে থাকতে পারে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র হামলার জবাবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সামরিক উপদেষ্টা মোহসেন রেজাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পবিত্র কুরআনের একটি আয়াত পোস্ট করে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, শত্রু এবং তাদের দোসরদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।
ইরানের অভ্যন্তরে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, বন্দর আব্বাস নগরীতে অন্তত আটটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এছাড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্র সিরিক বন্দরে আঘাত হেনেছে এবং অন্য দুটি জাস্ক বন্দরের কাছে বিস্ফোরিত হয়েছে।
আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা মেহের নিউজের বরাতে জানা গেছে, দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর ইরানশাহরেও তীব্র বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে।
এছাড়া চাবাহার বন্দরে মার্কিন হামলায় সামুদ্রিক ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও একটি ডিপো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে ফার্স নিউজ এজেন্সি। ইসনা নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন বিমান হামলায় চাবাহারের যে তিনটি বিদ্যুৎ লাইন বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল, তার মধ্যে দুটি লাইন এরই মধ্যে সচল করতে সক্ষম হয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।




