মিরপুরে বিনিয়োগের নামে আবাসন খাতে শক্তিশালী প্রতারক চক্র

রাজধানীর মিরপুরে আবাসন খাত ও বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানকে টার্গেট করে চড়া লাভে বিনিয়োগের নামে প্রতারক চক্র গড়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মূল হোতা জাপান প্রবাসী মো. ইকরামুল হকের নেতৃত্বে তার আপন ভাই মো. রিয়াজুল হাসানের (অভি) নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী প্রতারক চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে জানা গেছে। তারা সংশ্লিষ্ট ব্যাবসায় বিনিয়োগের নামে বিভিন্ন অংকের টাকা বিনিয়োগ করে প্রায দ্বিগুণ লাভে চেক ও ফ্ল্যাট মর্গেজ নিয়ে পরে জালিয়াতি, জবরদখল ও ভুয়া মামলা দিয়ে ব্যবসায়ীদের নিঃস্ব করে দিচ্ছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আলফালাক রিয়েল এস্টেট লিঃ ও মাইশা এম,এস প্রপার্টিস লিমিডেডের যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে আলফালাক রিয়েল এস্টেটের পরিচালক মো. ছিদ্দিকুর রহমান লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এ সময় আলফালাক রিয়েল এস্টেটের এমডি এস,এম জাকারিয়া ও মাইশা প্রপার্টিস লিঃ এর এমডি মো. হায়দার আলী উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, জাপান প্রবাসী মো. ইকরামুল হকের অর্থায়নে তার ভাই মো. রিয়াজুল হাসান অভি ওরফে মিথুন মিরপুর ও দারুসসালাম সহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় এই প্রতারক চক্র পরিচালনা করছেন। করোনা-পরবর্তী সময়ে আলফালাক রিয়েল এস্টেট আর্থিক সংকটে পড়লে প্রতারক যে একাধিক নাম ব্যবহার করে রেজাউল হাসান ( অভি) ওরফে (মিথুন) ১ কোটি টাকা বিনিয়োগের বিনিময়ে ৬০ লাখ টাকা লাভ দাবি করে ৩টি ব্ল্যাংক চেক এবং মোহাম্মদপুরের একটি প্রজেক্টের ৩ কোটি টাকা মূল্যের ৪টি ফ্ল্যাট ও ৪টি কার পার্কিং বায়না দলিল হিসেবে মর্গেজ নেয়।
পরে আলফালাক রিয়েল এস্টেট লিঃ ১ কোটি টাকা মূল্যের ১ টি ফ্ল্যাট ও একটি কার পার্কিং সাব রেজিঃ করে দিলে ও ইকরামুলের নির্দেশে ভাই রিয়াজুল হাসান কোম্পানির চেক ও বায়না চুক্তি বাতিল করেননি।
এছাড়া রেজাউল হাসান অভি তার বন্ধু পরিচয় চক্রের আর এক সদস্যকে আলফালাক রিয়েল এস্টেট লিঃ ২০২৩ সালের ৭ আগস্ট ১ কোটি টাকার চেক দেখিয়ে ৭০ লাখ টাকা বনিয়োগের প্রস্তাব দেয়। সেখানে ৭০ লাখ টাকার দলিলে নগদ দেখিয়ে লাভের ২ লাখ টাকা চুক্তিপত্রে লিখে রেজিঃ পরে ব্যাংকে গিয়ে টাকা না পেয়ে সময় নিয়ে অভি ও মাজহারুল বিগত ১৬ আগস্ট পুনরায় ৫০ লাখ টাকার চেক কোম্পানির নামে দিলে সেখানেও টাকা না থাকায় বায়না চুক্তি বাতিলের জন্য বারবার তারিখ দিয়ে ঘুরাইতে থাকে। কোনো টাকা পরিশোধ না করে উল্টো আদালতে ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রি চেয়ে দেওয়ানি মামলা ঠুকে দেন জালিয়াত চক্র।
ছিদ্দিকুর রহমান আরও বলেন একইভাবে মাইশা এম,এস প্রপার্টিসকেও ৬০ লাখ টাকা বিনিয়োগের ফাঁদে ফেলে ৯০ লাখ টাকার চেক ও ২টি ফ্ল্যাট মর্গেজ নিয়ে ভুয়া মামলা দিয়ে হয়রানি করে যাচ্ছে প্রতারক চক্রটি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, এই চক্রের জালিয়াতির বড় প্রমাণ মিলেছে সুন্দরবন তালুকদার বিল্ডার্সের একটি মামলায়, যেখানে ১ লাখ টাকার চেকে ৫ সংখ্যা বসিয়ে ৫১ লাখ টাকা বানিয়ে মামলা করা হয়েছিল। পরে সিআইডির ফরেনসিক প্রতিবেদনে সেই জালিয়াতি প্রমাণিত হয়।
এছাড়া ও কেরানীগঞ্জের ব্যবসায়ী শাহরিয়ার, ও মোহাম্মদ আলী, ডেভলপারের ফিরোজ তালুকদার ও খান তালুকদারের বিরুদ্ধে একই কায়দায় ভুয়া মামলা দিয়ে হয়রানি করছে ঐ চক্রটি।
বর্তমানে এই চক্রের সদস্যদের জন্য আমরা জান মাল নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি মর্মে মিরপুর মডেল থানায় একটি জিডি করেছি।




