এবার কুয়েত-বাহরাইন-কাতারে ইরানের হামলা

যুক্তরাষ্ট্রে বড় ধরনের হামলার পর পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরান। উপসাগরীয় তিনি দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিসহ বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও একমুখী আক্রমণকারী (কামিকাজে) ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। লক্ষ্যবস্তু হওয়া দেশগুলো কুয়েত, কাতার ও বাহরাইন।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দিনের শুরুতে এই হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। প্রতিবেদন অনুসারে, মার্কিন হামলার জবাবে ইরান দেশগুলোর কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে একমুখী হামলাকারী (কামিকাজে) ড্রোন দিয়ে হামলা চালিয়েছে।
ইরানের সেনাবাহিনীর দাবি, হামলায় কুয়েতের একটি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, কাতারের একটি আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা ও বাহরাইনের জ্বালানি সংরক্ষণাগার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম প্রেসটিভি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার জবাবে আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্স কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত চারটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। লক্ষ্যবস্তু ছিল কুয়েতের আরিফজান ও আলি আল সালেম এবং বাহরাইনের জুফায়ের ও শেখ ইসা ঘাঁটি।
আইআরজিসির এই হামলার দাবি এমন সময় এলো, যার কয়েক ঘণ্টা আগে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন এলাকায় বেসামরিক অবকাঠামো ও উত্তরাঞ্চলের গোলেস্তান প্রদেশের একটি সেতুতে হামলা চালিয়েছিল। ইরানের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় একজন নিহত হন।
বাহরাইনের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের ছোড়া বেশ কয়েকটি বিমান হামলা প্রতিহত করেছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই বৃহস্পতিবার সকালে বাহরাইনের সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের ছোড়া বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
বাহরাইনের সেনাবাহিনী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেছে, ‘ইরান বাহরাইনে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে হামলার চেষ্টা চালিয়েছে। এটি দেশটির আগ্রাসী কর্মকাণ্ডেরই ধারাবাহিকতা।’
তবে বিবৃতিতে কতটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছোড়া হয়েছিল বা কতটি প্রতিহত করা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ডের (সেন্টকম) দাবি, মার্কিন বাহিনী ইরানের উপকূলীয় এলাকায় প্রায় ৯০টি ইরানি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। এর মধ্যে রয়েছে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উপকূলীয় নজরদারি ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণের স্থাপনা, নৌ-সক্ষমতা এবং সামরিক লজিস্টিক অবকাঠামো অন্তর্ভুক্ত।
সেন্টকম আরও জানায়, এর আগের রাতে ইরানে সফলভাবে আক্রমণাত্মক অভিযান পরিচালনার ধারাবাহিকতায় এই সর্বশেষ হামলাগুলো চালানো হয়েছে। এর ঠিক একদিন আগেই মার্কিন বাহিনী ইরানে ৮০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর দাবি করেছিল।
এই আগ্রাসনের পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান মধ্যপ্রাচ্যের কাতার ও বাহরাইনে থাকা মার্কিন স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট ও স্থাপনার অন্তত ৮৫টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। তেহরানের পক্ষ থেকে বলা হয় যে, সম্প্রতি হওয়া অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি যুক্তরাষ্ট্র লঙ্ঘন করেছে।
সূত্র: এএফপি, প্রেসটিভি, আলজাজিরা




