খেলা হচ্ছে আমেরিকায়, উন্মাদনা-সংঘাতে বাংলাদেশে ঝরল ১২ প্রাণ

ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে সমর্থকদের বাগ্বিতণ্ডা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টাপাল্টি মন্তব্য, পতাকা টাঙানো এবং বড় পর্দায় খেলা দেখাকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে এখন পর্যন্ত অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে ১২ হাজার কিলোমিটার দূরের এই খেলা নিয়ে আহত হয়েছেন শতাধিকের বেশি মানুষ।
নিহতদের মধ্যে ৩ জন পতাকা টাঙাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে, ৩ জন ছুরিকাঘাতে এবং বাকিরা সড়ক দুর্ঘটনা, ল্যাম্পপোস্ট ভেঙে পড়া, স্ট্রোক ও বিভিন্ন সংঘর্ষের জেরে প্রাণ হারিয়েছেন।
সর্বশেষ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাতে কুমিল্লার আদর্শ সদরে আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচকে কেন্দ্র করে পিটিয়ে হত্যা করা হয় মিশর সমর্থক শরিফুল ইসলামকে (৩২)। একই রাতে মিশরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার নাটকীয় জয়ের পর অতিরিক্ত উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে গিয়ে ঝিনাইদহে রসুল উদ্দীন নামে এক ভ্যানচালকের মৃত্যু হয়।
বিশ্বকাপ শুরুর পর গত ১ জুলাই একই দিনে ঢাকার আদাবর, সিলেটের জকিগঞ্জ ও ঢাকার আশুলিয়ায় তিনটি পৃথক ঘটনায় তিনজন নিহত হন। রাজধানীর আদাবরে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখার সময় বাঁশি বাজানোকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আবুল বাশার বাদশা নামে বিএনপির এক নেতা নিহত হন।
সিলেটের জকিগঞ্জে ফুটবল খেলার উল্লাসকে কেন্দ্র করে চাচাতো ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে নিহত হন আলম আহমদ। আশুলিয়ায় ফুটবল ম্যাচ নিয়ে বিরোধের জেরে কিশোর নাহিদ হাসানকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে মাটিচাপা দেওয়া হয়। এ ছাড়া গত শুক্রবার নড়াইল সদরে কিশোরদের ফুটবল খেলা নিয়ে বিরোধে মোস্তফা কাজী নামে এক বৃদ্ধকে কুপিয়ে ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
এদিকে বিশ্বকাপের পতাকা টাঙাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। ১৯ জুন ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে ব্রাজিলের পতাকা টাঙাতে গিয়ে মাহিন শেখ নামে এক স্কুলছাত্র মারা যান। ১৫ জুন চট্টগ্রামে আর্জেন্টিনার পতাকা টাঙাতে গিয়ে রামহরি বৈষ্ণবের মৃত্যু হয়। ৯ জুন মানিকগঞ্জ সদরে ব্রাজিলের পতাকা টাঙানোর সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান ফয়সাল নামে এক যুবক।
গত ১৩ জুন ভোলায় বিশ্বকাপ উপলক্ষে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রায় অংশ নিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় এক যুবকের মৃত্যু হয়। গত শুক্রবার চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহরে ল্যাম্পপোস্ট ভেঙে মাহিদুল ইসলাম নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়। একই দিন বরগুনার তালতলীতে ফুটবল ম্যাচের অনুশীলনের সময় স্ট্রোক করে মারা যান খোকন কর্মকার।
এই ভয়াবহ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা। টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার (এসপি) মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার বলেন, খেলাকে বিনোদনের অংশ হিসেবেই রাখা উচিত, এখানে অতিরঞ্জনের কোনো সুযোগ নেই। অসচেতনদের বোঝাতে সুশীল সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে।




