লেবাননে হামলা চালাতে ইসরায়েলি সেনাদের কোনো বাধা নেই: কাৎজ

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
লেবাননে হামলা চালাতে ইসরায়েলি সেনাদের কোনো বাধা নেই: কাৎজ
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ। ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ লেবাননে হামলা চালানোর ক্ষেত্রে ইসরায়েলি সেনাদের ওপর কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ। তিনি বলেন, ‘লেবাননের ভেতরে ইসরায়েল ঘোষিত ‘নিরাপত্তা অঞ্চলে’ ইসরায়েলি বাহিনী আগের মতোই বহাল থাকবে। ওই অঞ্চল থেকে কোনো সেনা প্রত্যাহার করা হবে না।’

Advertisement

ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার ঠিক এক দিন পর শনিবার (২০ জুন) লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ডজন খানেক মানুষ নিহত হয়। এ হামলার পর ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এমন বক্তব্য সামনে এলো। কাৎজ স্পষ্ট করে বলেন, ‘ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ঘোষিত যুদ্ধবিরতি আমাদের সামরিক বাহিনীকে নিরাপত্তা অঞ্চলের সব অবস্থানেই বহাল রেখেছে, যা মূলত ইসরায়েলের উত্তরের জনপদগুলোকে রক্ষা করে।’

সেনা অভিযানের স্বাধীনতা নিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘লেবাননে মোতায়েন থাকা আমাদের সেনাদের যেকোনো হুমকি দূর করতে পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর অতীতে কখনও কোনো বাধা ছিল না। বর্তমানেও কোনো বাধা নেই।’

কাৎজ আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং আমি ইতোমধ্যে পরিষ্কার করে বলেছি—ইসরায়েল লেবাননের এই নিরাপত্তা অঞ্চল থেকে কোনোভাবেই পিছু হটবে না, সেনা প্রত্যাহার করবে না।’

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতে ইরান জানিয়েছে, লেবাননে ইসরায়েলের এই সর্বাত্মক যুদ্ধ পুরোপুরি শেষ না হলে এই চুক্তি টিকবে না। পাশাপাশি ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালি আবারও পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে।

এদিকে স্থায়ী শান্তিচুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে সুইজারল্যান্ডে আজ মুখোমুখি বৈঠকে বসতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। আলোচনায় অংশ নিতে রোববার (২১ জুন) সকালে সুইজারল্যান্ডে পৌঁছেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। সুইজারল্যান্ডের পাহাড়ি রিসোর্ট বুর্গেনস্টকে আয়োজিত এই শীর্ষ বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলে ভ্যান্সের পাশাপাশি আরও অংশ নিচ্ছেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার।

অন্যদিকে, ইরানের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। এই দলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিসহ দেশটির নিরাপত্তা, কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং তেল খাতের শীর্ষ কর্মকর্তারাও রয়েছেন।

আলোচনা সফল করতে মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে থাকছে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং দেশটির সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। এছাড়াও আলোচনায় কাতারেরও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

আলোচনার টেবিলে বসার আগে এক ভিডিও বার্তায় ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ‘লেবান যুদ্ধবিরতি প্রতিনিয়ত লঙ্ঘন করেই চলেছে ইসরায়েল। স্বাভাবিকভাবে আজকের বৈঠকে এই বিষয়টি আমাদের আলোচনার প্রধান বিষয়।’

বাঘাই আরও জানান, লেবানন সংকটের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশে আটকে থাকা ইরানের অবরুদ্ধ সম্পদগুলো সহজলভ্য করা এবং ইরানি তেল বিক্রির জন্য প্রয়োজনীয় লাইসেন্স পাওয়ার বিষয়টিও তাদের আলোচনার এজেন্ডাতে রাখা হয়েছে।