প্রথমবারের মতো কলকাতায় যোগ দিবসে মোদি, করলেন যোগব্যায়াম

এশিয়া পোস্ট নিউজ, কলকাতা
প্রথমবারের মতো কলকাতায় যোগ দিবসে মোদি, করলেন যোগব্যায়াম
প্রথমবোরের মতো কলকাতায় যোগ দিবসে অংশ নিয়ে যোগাসনচর্চা করলেন নরেন্দ্র মোদি। ছবি: সংগৃহীত

বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ভারতজুড়ে উদযাপিত হয়েছে ১২তম আন্তর্জাতিক যোগ দিবস। এই বিশেষ দিনে প্রথমবারের মতো কলকাতার রেড রোডে আয়োজিত আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে যোগব্যায়াম করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পশ্চিমবঙ্গে এর আগে কখনও এত বড় পরিসরে বা রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালিত হয়নি।

Advertisement

রোববার (২১ জুন) সকালে প্রায় ৩৫ হাজার মানুষের সঙ্গে যোগাসনে অংশ নেন তিনি। এদিন প্রধানমন্ত্রী নিজে যেমন যোগব্যায়াম করেন, তেমনি একজন দক্ষ যোগ প্রশিক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে অন্যদের ভুলভ্রান্তি ধরিয়ে দেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।

সকাল সাড়ে ৬টায় রাজভবন (যা বর্তমানে লোক ভবন নামে পরিচিত) থেকে যাত্রা শুরু করে রেড রোডের অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেখানে তাকে স্বাগত জানান রাজ্যের রাজ্যপাল আর এন রবি, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং কেন্দ্রীয় আয়ুষ মন্ত্রণালয়ের রাষ্ট্রমন্ত্রী প্রতাপরাও যাদবসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

অনুষ্ঠানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, রেড রোডের এই যোগাসনে অংশ নিতে ২ লাখ ৫৭ হাজার মানুষ নাম নথিভুক্ত করেছেন। ব্যক্তিগতভাবে অংশগ্রহণের পাশাপাশি বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান এতে শামিল হয়েছে। গোটা রাজ্যজুড়ে এক কোটিরও বেশি মানুষ এই যোগাসনে অংশ নেবেন বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, যোগই একমাত্র মুক্তির উপায়, আনন্দ ও প্রেম। এর মধ্য দিয়ে মন ও শরীরের বিকাশ ঘটে।

কলকাতায় এই অনুষ্ঠান আয়োজনের মাহাত্ম্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, যোগ সবাইকে যুক্ত করে, সকলকে একসঙ্গে নিয়ে আসে। যে মাটিতে জন্ম নিয়ে স্বামী বিবেকানন্দ গোটা বিশ্বে যোগের ব্যাপ্তি তুলে ধরেছিলেন, যে মাটিতে ঋষি অরবিন্দের মতো মানুষ জন্মগ্রহণ করেছিলেন, আজ সেই মাটিতে যোগাসন করে অন্যরকম এক আধ্যাত্মিক অনুভূতি হচ্ছে।

লকাতায় ৩ রণতরি উদ্বোধন করলেন মোদি

তিনি আরও বলেন, যোগ কেবল শারীরিক অনুশীলন বা কোনো নির্দিষ্ট বয়সের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি মানব জীবনের চেতনা ও কার্যক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ। এই কারণে এবারের আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের থিম রাখা হয়েছে ‘যোগা ফর হেলদি এজিং’ বা বার্ধক্যেও সুস্থতা।

প্রধানমন্ত্রী সুস্থভাবে বার্ধক্যে উপনীত হওয়ার বিষয়ে যোগের ভূমিকা ব্যাখ্যা করে বলেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের কর্মক্ষমতা যেন কমে না যায়, তা নিশ্চিত করতে যোগব্যায়াম সাহায্য করে। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত ২০ বছর বয়সের তুলনায় ৪০ বছর বয়সে আরও বেশি নমনীয় থাকা; ৩০ বছরের তুলনায় ৫০ বছর বয়সে আরও প্রাণবন্ত হওয়া এবং ৫০ বছরের তুলনায় ৭০ বছর বয়সেও জীবনযাত্রাজনিত রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে তোলা।

তিনি আরও বলেন, যোগ কেবল ব্যক্তিগত জীবনে শান্তির স্রোত তৈরি করে না, বরং বিশ্ব শান্তির পথও খুলে দেয়। তাই যোগকে কেবল একটি দিনের কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ না রেখে জীবনের ও পরিবারের একটি অঙ্গ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান।

রেড রোডের এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যপাল আর এন রবি, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রতাপ রাও যাদব, রাজ্যের ক্যাবিনেট মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্র পাল, নিশীথ প্রামাণিক, অর্জুন সিং, কল্যাণ চক্রবর্তী, শঙ্কর ঘোষ, জগন্নাথ চ্যাটার্জি, মনোজ ওঁরাও, বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ, সাংসদ রাহুল সিনহা প্রমুখ। এছাড়া সমাজের সর্বস্তরের মানুষ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এবং কলকাতায় নিযুক্ত ব্রিটিশ ডেপুটি হাইকমিশনার অ্যান্ড্রু আলেকজান্ডার ফ্লেমিং ও যুক্তরাষ্ট্রের কনসুলেট জেনারেল ক্যাথি জাইলস ডিয়াজও এই যোগাসনে অংশ নেন।

কলকাতা ছাড়াও ভারতের প্রতিটি রাজ্যে ব্যাপক উৎসাহের সঙ্গে দিবসটি পালিত হয়েছে। মধ্যপ্রদেশের জব্বলপুরে যোগাসনে অংশ নেন ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। দিল্লিতে জহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে অংশ নেন কেন্দ্রীয় ক্রীড়া মন্ত্রী মানশুখ মান্ডব্য ও বলিউড অভিনেতা অক্ষয় কুমার। উত্তরপ্রদেশের ঝাঁসি ফোর্ট ময়দানে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এবং আসামের গুয়াহাটিতে ব্রহ্মপুত্র নদের উপকূলে যোগাসনে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ও আসামের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্ব শর্মা। এছাড়া দিল্লির নেহেরু পার্কে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শংকর, আমেদাবাদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং মেঘালয়ের শিলংয়ে বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল এ পি সিংকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং যোগাসনে অংশ নেন।

২০১৪ সালে জাতিসংঘে ভাষণ দেওয়ার সময় আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালনের প্রস্তাবনা রাখেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পরে সেটি সর্বসম্মতভাবে জাতিসংঘে পাস হয় এবং পরের বছর ২০১৫ সালের ২১ জুন প্রথমবারের মতো বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালন শুরু হয়।