আরব আমিরাতে শরৎকাল শুরু, স্বাভাবিক হচ্ছে তাপমাত্রা

সংযুক্ত আরব আমিরাতে বুধবার থেকে শুরু হয়েছে জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক শরৎকাল। ঋতুর শুরুতেই দেশটিতে গ্রীষ্মের দাপট কমতে শুরু করেছে। দুপুরগুলো কিছুটা গরম থাকলেও ঋতু বদলের প্রথম স্পষ্ট লক্ষণ ধরা পড়ছে চারপাশে।
তাপমাত্রা কমে আসার পাশাপাশি কুয়াশা ঘন হচ্ছে প্রায়ই, রাত দীর্ঘ হচ্ছে, আর ভোরের আকাশে ফিরে আসছে শীতকালীন তারা।
এখন দিন ও রাত প্রায় সমান দৈর্ঘ্যের। এরপর থেকে রাত আস্তে আস্তে আরও দীর্ঘ হতে থাকবে।
এমিরেটস অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ও আরব ইউনিয়ন ফর অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড স্পেস সায়েন্সেসের সদস্য ইব্রাহিম আল জারওয়ান জানান, ঋতুর শুরুতে দিনের গড় তাপমাত্রা থাকে প্রায় ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস, রাতে নেমে আসে ২৬ ডিগ্রিতে। নভেম্বরের শুরুতে এই গড় নেমে দাঁড়ায় দিনে ৩১ ও রাতে ১৮ ডিগ্রিতে, আর ২২ ডিসেম্বর শীতকালীন অয়নান্তের সময় দিনে প্রায় ২৫ ও রাতে ১৩ ডিগ্রিতে পৌঁছায়।
তবে আবহাওয়াবিদদের হিসাবে শরৎ আসলে শুরু হয়ে গেছে আরও আগেই। তারা ১ সেপ্টেম্বরকেই এই ঋতুর সূচনা ধরেন, কারণ জলবায়ু ঋতু নির্ধারিত হয় জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাবের বদলে মাসভিত্তিক তাপমাত্রার সাধারণ প্রবণতা দিয়ে।
বাইরের আবহাওয়ায় সবচেয়ে স্পষ্ট পরিবর্তন আসবে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই। সাধারণত অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে শীতের মেঘ জমতে শুরু করবে, আর শরতের দ্বিতীয়ার্ধে বাড়বে বৃষ্টির সম্ভাবনা। ঋতুর প্রথমার্ধে আর্দ্রতাও বাড়ে, যা গভীর রাত ও ভোরের দিকে কুয়াশা এবং শিশির তৈরিতে সহায়তা করে।
উপসাগরীয় অঞ্চলের চিরায়ত ঋতু গণনাও একই ইঙ্গিত দেয়। শরতের প্রথম পর্যায় হিসেবে পরিচিত ‘আল সাফরি’ ঋতু শুরু হয় ৬ সেপ্টেম্বর, চলে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত। এই সময়টা গ্রীষ্মের তীব্র গরম বিদায় নেওয়া আর শীতল আবহাওয়া আসার মাঝামাঝি একটা সংযোগ পর্ব।
শরতের প্রথমার্ধ আরব উপদ্বীপ জুড়ে চারা রোপণের অন্যতম সেরা সময় বলেও বিবেচিত হয়। এই সময় মাটি ঠান্ডা হতে শুরু করে এবং দীর্ঘ সময় আর্দ্রতা ধরে রাখে, তাই এই ঋতুতেই মূলত চারা রোপণ ও বীজ বপনের কাজ চলে।
এবারের বৃষ্টিপাতও বাড়তি নজর কাড়বে বলে মনে হচ্ছে। জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্রের তথ্যমতে, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সৃষ্ট শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবে আমিরাতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টি হতে পারে, যদিও কেন্দ্রটি স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে দেশটির ওপর এই ঘটনার প্রভাব পরোক্ষ। তারা জানিয়েছে, আবহাওয়ার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং আমিরাতকে প্রভাবিত করতে পারে এমন কোনো উল্লেখযোগ্য আবহাওয়া ব্যবস্থা দেখা দিলে তা আনুষ্ঠানিক চ্যানেলের মাধ্যমে জানানো হবে।
আগামী সপ্তাহগুলোতে বাইরের আবহাওয়া আরও আরামদায়ক হয়ে উঠবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। অক্টোবর নাগাদ চিরায়ত শীতল সন্ধ্যাগুলো ফিরে এলে আমিরাত জুড়ে খুলে যাবে বারবিকিউ, ক্যাম্পিং আর মরুভূমি ভ্রমণের পথ।
খোলা পরিবেশে কর্মরত শ্রমিকদের রক্ষায় কার্যকর তিন মাসব্যাপী মধ্যাহ্নকালীন কর্মবিরতি (মিডডে ওয়ার্ক ব্যান) গত ১৫ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে। মানবসম্পদ ও আমিরাতীকরণ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় প্রতিবারের মতো এবারও গত ১৫ জুন থেকে এই নিয়ম কার্যকর ছিল।
হিট স্ট্রোক ও গরমজনিত শারীরিক অসুস্থতা প্রতিরোধে প্রতিদিন দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত সরাসরি রোদে বা খোলা আকাশের নিচে যে কোনো ধরনের কাজ করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ছিল। এই সময়ে কাজের সময়সূচি পুনর্বিন্যাসের পাশাপাশি ছায়াযুক্ত বিশ্রামাগার, বিশুদ্ধ ঠান্ডা পানি ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসুরক্ষাসামগ্রী নিশ্চিত করা ছিল নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বাধ্যতামূলক।
