জেলা-উপজেলার হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা থেকে রোগীর চাপ কমাতে জেলা-উপজেলার হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (১১ জুলাই) ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ৮০ বছর পূর্তি ও ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ডিএমসি-ডে অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এ কথা জানান তিনি।
অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এ পর্বে চিকিৎসকরা স্বাস্থ্যখাতের বিভিন্ন সমস্যা এবং চলমান নানা বিষয় প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। এ সময় সরকারের স্বাস্ব্যসেবা উন্নয়নে নেওয়া বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গ্রাম থেকে অধিক সংখ্যক রোগীকে চিকিৎসার জন্য যেন ঢাকায় আসতে না হয়, সেজন্য সরকার জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি সেবার মান উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
তিনি বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ এমন এক মহৎ প্রতিষ্ঠান যেটি আমাদের সামনে এক জীবন্ত ইতিহাস ‘কালের সাক্ষী’। শুধুমাত্র চিকিৎসা ক্ষেত্রেই নয়, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে, ১৯৭১ সালের দেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন কিংবা দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা রক্ষায় ২০২৪ সালের বীর ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান, প্রতিটি ক্ষেত্রেই এই প্রতিষ্ঠানের রয়েছে গুরুত্ত্বপূর্ণ ভূমিকা।
ঢামেকের অবদানের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই ক্যাম্পাসে শুধুমাত্র দেশ-বিদেশের সেরা চিকিৎসকই তৈরি হয়নি, শিক্ষক, গবেষক, সমাজনেতা কিংবা মুক্তিযোদ্ধাসহ এই প্রতিষ্ঠান থেকে এমন মহৎ মানুষ তৈরি হয়েছেন, যারা অন্যের জীবন রক্ষায় নিজেদের জীবন ও স্বার্থ বিলিয়ে দিতেও কুণ্ঠাবোধ করেননি।
চিকিৎসকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যারা চিকিৎসাপেশায় নিয়োজিত রয়েছেন কিংবা যারা একজন চিকিৎসক হওয়ার জন্য অধ্যয়নরত, প্রতিটি মানুষের মনোজগতে আপনাদের অবস্থান কিন্তু তাদের সুস্থ জীবনের রক্ষক হিসেবে বিবেচিত। এ উপলব্ধি থেকেই সম্প্রতি উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের একটি অনুষ্ঠানে আমি বলেছিলাম, চিকিসকরাই সত্যিকার অর্থে মানুষের বিপদের বন্ধু। চিকিৎসকরা রোগে শোকে কাতর মানুষটির পরম বন্ধু হয়ে ওঠেন।
তার মতে, একজনের চিকিৎসকের উপদেশ আন্তরিক ব্যবহারও একজন রোগীর কাছে ওষুধের মতো কার্যকরী হয়ে ওঠে। তাই একজন চিকিৎসকের জন্য পেশাগত উৎকর্ষতার পাশাপাশি মানবিক মানুষ হয়ে ওঠাও জরুরি।
হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বা চিকিৎসক, নার্স এবং সব স্বাস্থ্যকর্মীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, এরই অংশ হিসেবে এর মধ্যেই হাসপাতালগুলোতে ১০ জন করে আনসার সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অপরদিকে রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে আরও পাঁচ হাজার এমবিবিএস চিকিৎসক নিয়োগের কার্যক্রম এর মধ্যে শুরু হয়েছে।
একই সঙ্গে চিকিৎসক, নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, ফার্মাসিস্ট, মিডওয়াইফ এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য পেশাজীবীর বিদ্যমান শূন্যপদ দ্রুত পূরণের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।





