যবিপ্রবিতে বিএসসি ফলাফল আটকে গেল ৪৮ শিক্ষার্থীর

এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক, যবিপ্রবি
যবিপ্রবিতে বিএসসি ফলাফল আটকে গেল ৪৮ শিক্ষার্থীর
ছবি: সংগৃহীত

ক্রেডিট জটিলতায় আটকে গেছে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল (সিএসই) বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের স্নাতকের ফলাফল। এতে ভবিষ্যৎ কর্মজীবন নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন তারা।

Advertisement

জানা যায়, ওই শিক্ষার্থীরা এর মধ্যে চার বছরের স্নাতকের আটটি সেমিস্টার শেষ করেছেন। তবে ফলাফল প্রস্তুতের সময় সংশ্লিষ্টরা দেখতে পান, শিক্ষার্থীদের সম্পন্ন করা মোট ক্রেডিট সংখ্যা ১৫৮। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী, স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের জন্য প্রয়োজন ১৬০ ক্রেডিট। এতে ডিগ্রির জন্য প্রয়োজনীয় দুই ক্রেডিট ঘাটতিতে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। এ অবস্থায় সেমিস্টার পরীক্ষা শেষ হওয়ার প্রায় পাঁচ মাস অতিবাহিত হলেও ফলাফল প্রকাশ করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট বিভাগ। এতে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবন, উচ্চশিক্ষা ও অন্যান্য পেশাগত সুযোগ সৃষ্টিতে এক ধরনের অনিশ্চিয়তা তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে ওই বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী লিমন বলেন, গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন নিয়ে দুই মাস আগে পোস্ট দিয়েছিলাম। কিন্তু এখন জানতে পারছি, প্রশাসনিক ভবন থেকে আমাদের ফলাফল ফেরত পাঠানো হয়েছে। কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, আরও ২ ক্রেডিট বাকি রয়েছে। এখন বুঝতে পারছি না, এই ক্রেডিট পূরণে আবার ক্লাস করতে হবে কি না। অথচ আমরা গত বছরের নভেম্বরের শেষ দিকেই পরীক্ষা শেষ করতে চেয়েছিলাম।’

লিমন বলেন, ‘আমাদের অনার্স সম্পন্ন করতে ১৬০ ক্রেডিট অর্জনের কথা বলা হলেও বিভাগের সিলেবাসে মোট ক্রেডিট রয়েছে ১৫৮। সেই অতিরিক্ত ২ ক্রেডিটের কারণেই ফলাফল আটকে দেওয়া হয়েছে।’

এ বিষয়ে সিএসই বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. কামরুল ইসলাম বলেন, এই সমস্যাটি শুধু ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে হয়েছে। তাদের আগে বা পরের কোনো ব্যাচে এমন জটিলতা দেখা যায়নি। সিএসই বিভাগের একাডেমিক কারিকুলামে ৪র্থ বর্ষে ছয় ক্রেডিটের একটি ইন্টার্নশিপ থাকে—যা হিসাব করলে স্নাতকে মোট ক্রেডিট ১৬১ হয়, পরবর্তীতে একাডেমিক কাউন্সিল মিটিংয়ে উক্ত ইন্টার্নশিপ ক্রেডিট কমিয়ে ৩ ক্রেডিট করা হয়। ফলে মোট ক্রেডিট ১৫৮ ক্রেডিট হয়ে দাঁড়ায়, যা আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়নি। কারণ প্রতিটি শিক্ষাবর্ষে আলাদা পরীক্ষা কমিটি করা হয়, এতে কোন শিক্ষাবর্ষে কত ক্রেডিট অর্জন হয়েছে তা অন্য শিক্ষাবর্ষের পরীক্ষা কমিটির অজানা।’

উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনা করে খুব শীঘ্রই শিক্ষার্থীদের কল্যাণে এই সমস্যা সমাধান করতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানান তিনি।

এ বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. তহিদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি এখনো অবগত নন। তাকে এখনো অফিসিয়ালি কোনো কিছু জানানো হয়নি।