Advertisement

বিএনপি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে ‘সেফ এক্সিট’ দিতে চায়: আখতার হোসেন

এশিয়া পোস্ট নিউজ, ইবি
বিএনপি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে ‘সেফ এক্সিট’ দিতে চায়: আখতার হোসেন
ইবিতে জাতীয় ছাত্রশক্তির আয়োজিত সভায় বক্তব্য দেন আখতার হোসেন। ছবি : এশিয়া পোস্ট

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন দাবি করেছেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর সঙ্গে বিএনপির অভ্যন্তরীণ সমঝোতা হয়েছিল। ওই সমঝোতার অংশ হিসেবে সরকার গঠনের পর একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তাকে রাষ্ট্রপতির পদে রাখা হয় এবং এখন তাকে ‘সেফ এক্সিট’ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তির আয়োজিত এক আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ দাবি করেন।

আখতার হোসেন বলেন, গণহত্যার সময় কমান্ড রেসপনসিবিলিটির জায়গা থেকে সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর ভূমিকা ছিল। তিনি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার উদ্যোগ নেননি, বরং শেখ হাসিনার সহযোগী হিসেবে ভূমিকা পালন করেছেন। অতীতে তার বিভিন্ন অপকর্ম রয়েছে এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে নিয়ে নানা ষড়যন্ত্রেও তিনি জড়িত ছিলেন। আমরা জেনেছি, লন্ডনে গিয়েও তিনি শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। এসব কারণে তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে।

রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক দায়মুক্তির বিষয়ে তিনি বলেন, অনেকে সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদের কথা বলে দাবি করছেন, রাষ্ট্রপতিকে আইনের আওতায় আনা যায় না। এটি সঠিক ব্যাখ্যা নয়। রাষ্ট্রপতি পদে থাকা অবস্থায় তার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের বিষয়ে তাকে আদালতে নেওয়া যায় না। তবে রাষ্ট্রপতির পদ ছাড়ার পর তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদ রাষ্ট্রপতির পদ ছাড়ার ছয় দিনের মাথায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। সংবিধানের যে সুরক্ষা বা ইমিউনিটি রয়েছে, তা কেবল রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের সময় পর্যন্ত প্রযোজ্য। পদ ছাড়ার পর ব্যক্তিগত দায়-দায়িত্বের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিতে কোনো বাধা নেই। সংবিধানের মাধ্যমে তাকে আর কোনো দায়মুক্তি দেওয়ার সুযোগ নেই। আমরা মনে করি, সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে গ্রেপ্তার করে রাষ্ট্রীয় সংস্থার মাধ্যমে তদন্ত করা উচিত।

আখতার হোসেন বলেন, রাষ্ট্রপতির পদে থাকায় এত দিন তার বিষয়ে কোনো তদন্ত হয়নি। এখন তদন্ত করে দেখতে হবে, তিনি গণহত্যার সঙ্গে আর কীভাবে জড়িত ছিলেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, সাহাবুদ্দিন চুপ্পু শুধু ফ্যাসিবাদের একজন আইকন নন, তিনি একজন লুটেরাও। তিনি ইসলামী ব্যাংক দখল করে এস আলাম গ্রুপের হাতে তুলে দিয়েছেন, বিদেশে বাড়িঘর করেছেন এবং স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করেছেন। পাশাপাশি ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্রের বিষয়ে তিনি পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন। একবার বলেছেন, তার কাছে পদত্যাগপত্র দেওয়া হয়েছিল, আবার অন্য সময় বলেছেন, দেওয়া হয়নি।

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ‘বর্ষা বিপ্লবের স্মৃতিচারণ ও নতুন রাজনৈতিক ধারা বিনির্মাণ’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ইবি শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তি। সংগঠনটির আহ্বায়ক ফুয়াদ হাসানের সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব ইফতেহার উদ্দীনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদ আহসান। বিশেষ অতিথি ছিলেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, সারোয়ার তুষার এবং যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ডা. মাহমুদা মিতু। এ ছাড়া জাতীয় ছাত্রশক্তির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।