লালসালুর ডিজিটাল সংস্করণ: সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে রাজিব শাহের দৌরাত্ম্য

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর ‘লালসালু’ উপন্যাসের মজিদের কথা মনে আছে নিশ্চয়ই? ধর্মের দোহাই দিয়ে জমি দখলের সেই পুরোনো কৌশল যেন আবার ফিরে এসেছে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। এই ঘটনার কেন্দ্রীয় চরিত্রে রয়েছেন রাজিব শাহ নামের এক ভবঘুরে। যিনি প্রথমে নিজেকে বোতলকুড়ানি পরিচয় দিয়ে জনমনে সহানুভূতির সৃষ্টি করেছিলেন, যা এখন সরকারি জায়গা দখলের কৌশল হিসেবেই প্রতীয়মান হচ্ছে।
উচ্ছেদের মুখে পড়ে রাজিব শাহ কৌশলে রাতের আঁধারে পাশের নাট্যমঞ্চের ইট চুরি করে এনে প্রস্তুত করেছেন এক অস্থায়ী নামাজের জায়গা, যাকে তিনি বলছেন ‘অস্থায়ী মসজিদ’।
তার দাবি, আশপাশে মন্দির থাকলেও কোনো মসজিদ নেই। অথচ মাত্র কয়েক গজ দূরেই রয়েছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের শীততাপনিয়ন্ত্রিত বিশাল মসজিদ। এ ছাড়া উদ্যানের পাশেই রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ, শাহবাগ থানা মসজিদ এবং তিন নেতার মাজার মসজিদসহ একাধিক জামে মসজিদ।
‘লালসালু’ উপন্যাসে মজিদ যেমন বাঁশঝাড়ের অচেনা কবরকে লাল কাপড়ে ঢেকে ক্ষমতার বলয় তৈরি করেছিল, তারই যেন এক বাস্তব চিত্রায়ন ঘটালেন সোহরাওয়ার্দীর রাজিব শাহ। ইতোমধ্যেই ধর্মের কথা বলে এবং ইউটিউবারদের ব্যবহার করে দেশ-বিদেশ থেকে প্রায় লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অস্থায়ী বসতি গড়ে তোলা রাজিব শাহ বলেন, ‘এই মসজিদ রক্ষা করা আমার একার কাজ না। হে মুসলমান ভাই, আমার একার সাধ্য নেই এই মসজিদ রক্ষা করার; এটা হেফাজত করার দায়িত্ব আপনাদের।’
এমনকি কথিত এই ইমাম লোক জড়ো করে হুমকির সুরে গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘মসজিদ এখানেই হবে।’ আর এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে সাংবাদিকদের দিকে তেড়ে এসে ‘নাস্তিক’ ফতোয়া দেন তিনি।
এই বিষয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দায়িত্বে থাকা সুপারভাইজার নজরুল ইসলাম খোকন জানান, রাজিব শাহকে ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছিল, যা শনিবারই শেষ হচ্ছে। কিন্তু তিনি এখনও বহাল তবিয়তে রয়েছেন এবং দেখে মনে হচ্ছে না যে নিজ থেকে সরে যাবেন। তাই ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের উচ্ছেদের পরিকল্পনা রয়েছে।
মজিদের অন্ধ অনুসারীদের মতো রাজিব শাহের চারপাশে এখন জমে উঠেছে ‘ভিউশিকারি’ কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও টিকটকারদের মেলা। আইনি প্রক্রিয়াকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ধর্মীয় আবেগ আর সোশ্যাল মিডিয়ার সস্তা জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে চলছে এই ধোঁকাবাজি। সাহিত্য আমাদের শিখিয়েছে—এমন ভণ্ডামির পেছনে সবসময়ই থাকে কায়েমী স্বার্থ। ফলে সাধারণ মানুষের মনে এখন বড় প্রশ্ন—রাজিব শাহের নেপথ্যে আসলে কলকাঠি নাড়ছে কারা?
.png)






