ব্যাংক কর্মকর্তাকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়, গ্রেপ্তার ২

রাজধানীর খিলক্ষেতে এক ব্যাংক কর্মকর্তাকে অপহরণ করে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনায় অপহরণচক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে খিলক্ষেত থানা পুলিশ। এ সময় অপহরণের কাজে ব্যবহৃত প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়েছে।
রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে ডিএমপির খিলক্ষেত থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান গুলশান বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) এম তানভীর আহমেদ।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন মো. সুরেন্দ্র রানা (৩১) ও মো. মিরন ওরফে সজল (৪৫)।
তিনি জানান, গত ২১ জুন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুজ্জামান খিলক্ষেত থানাধীন বিশ্বরোড এলাকার একটি প্রতিষ্ঠানের সামনে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজন একটি প্রাইভেটকারে তাকে তুলে নিয়ে যায়। পরে তার হাত বেঁধে সঙ্গে থাকা নগদ ৫ হাজার টাকা ও তিনটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।
ডিসি তানভীর বলেন, অপহরণকারীরা ভুক্তভোগীর পরিবারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। মুক্তিপণ আদায়ের জন্য অপহৃত ব্যক্তিকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার বিভিন্ন জায়গায় ঘোরানো হয়। একপর্যায়ে ভুক্তভোগীর কার্যালয়ের সহকারী রবিউল ইসলামের মাধ্যমে কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালসংলগ্ন ফুটওভার ব্রিজের নিচে ৫ লাখ টাকা পৌঁছে দেওয়া হয়। টাকা নেওয়ার পর অপহরণকারীরা একই দিন রাত আনুমানিক ১১টা ৩৪ মিনিটে গোপালগঞ্জের রোহিতপুর এলাকার একটি মার্কেটের সামনে ভুক্তভোগীকে ছেড়ে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী খিলক্ষেত থানায় মামলা করলে তদন্তে নামে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে অপহরণচক্রের সদস্য মো. সুরেন্দ্র রানাকে রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরে মুন্সীগঞ্জ জেলার মুক্তারপুর এলাকা থেকে মো. মিরন ওরফে সজলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকার মিরপুর মডেল থানাধীন মনিপুর এলাকা থেকে অপহরণের কাজে ব্যবহৃত প্রাইভেটকারটি জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তার দুই আসামির বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগরীসহ দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা বিচারাধীন বলে জানান ডিসি তানভীর। তিনি জানান, তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে আরও তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। অপহরণচক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
.png)






