পানি কমছে তিস্তার, কাটেনি দুর্ভোগ

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তিস্তা নদীর পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার নিচে নেমে আসায় বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা আপাতত কেটেছে। তবে নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের হাজারো মানুষের দুর্ভোগ এখনও কমেনি। ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও ফসলিজমিতে পানি থাকায় ভোগান্তির মধ্যে দিন কাটছে তাদের।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার রাত ৯টায় তিস্তার পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ১১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত করে। পরে রাতভর পানি কমে সোমবার সকাল ৬টায় তা বিপৎসীমা বরাবর নেমে আসে। সবশেষ সোমবার সকাল ৯টার হিসাব অনুযায়ী, ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বর্তমানে সেখানে পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ১৩ মিটার, যেখানে বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটার।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, উজানের পানির প্রবাহ কমে আসায় তিস্তার পানিও ধীরে ধীরে কমছে। নদীর অতিরিক্ত পানি দ্রুত নামিয়ে দিতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাটই খুলে রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি আমরা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছি এবং নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
এদিকে পানি কমতে শুরু করায় চরাঞ্চলের মানুষের মনে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা এখনও কঠিন। অনেক পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। কোথাও কোথাও ঘরবাড়িতে এখনও পানি ঢুকে আছে।
আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের গোবর্ধন এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম (৬২) বলেন, ‘চপুর আইত (সারা রাত) নিন পাইরবার পাইনি। ঘরের ভেতর এক হাঁটুয়া পানি। কোনোমতে চকির ওপর বসি আইত পার করছি।’
একই এলাকার জোবেদ আলী (৫৫) জানান, ‘পানি বাড়লে গবাদিপশু নিয়ে চরাঞ্চলের মানুষকে চরম বিপাকে পড়তে হয়। রাখার জায়গা থেকে শুরু করে গো-খাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দেয়। সকাল থেকে পানি কমায় সাময়িক স্বস্তি পেলেও নতুন করে উজান থেকে ঢল না এলে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।’
লালমনিরহাট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বেশ কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ ও শ্রেণিকক্ষে পানি প্রবেশ করায় নিরাপত্তার স্বার্থে সেগুলোতে সাময়িকভাবে পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে।
লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক রাশেদুল হক প্রধান জানান, দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। ইতোমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের অনুকূলে ২২০ টন চাল এবং নগদ ৫ লাখ টাকা জরুরি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।





