বেড়েছে গাইবান্ধার সব নদীর পানি, বন্যার শঙ্কা

এশিয়া পোস্ট নিউজ, গাইবান্ধা
বেড়েছে গাইবান্ধার সব নদীর পানি, বন্যার শঙ্কা
নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাটক্ষেতসহ বিভিন্ন ফসল নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ছবি: এশিয়া পোস্ট

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে উত্তরের জনপদ গাইবান্ধায় বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। কৃষিনির্ভর এ জেলার চরাঞ্চলের মানুষ এ বছর অনেক পরিশ্রম করে ফসল চাষ করার পরেও পাননি ন্যায্য দাম। তারপর আবার পানির চাপে তিস্তার ৪৪টি গেট খুলে দিয়েছে তিস্তা ব্যারাজ কর্তৃপক্ষ। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টা গাইবান্ধা জেলায় ২৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে এবং সব নদীর পানি বৃদ্ধি শুরু হয়েছে। তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার মাত্র দুই সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলার বাকি নদীর পানিও এখন পর্যন্ত বিপৎসীমার নিচে রয়েছে।

Advertisement

সোমবার (২৯ জুন) সরেজমিনে দেখা যায়, ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদীবেষ্টিত চরগুলো তলিয়ে গেছে। চোখ যতদূরে যায়, পানি আর পানি।

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার পাটচাষি কামরুল ইসলাম বলেন, অনেক স্বপ্ন নিয়ে তিন বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছিলেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন যমুনার জলে বিলীন হয়ে গেছে। কয়েক দিনের বৃষ্টি ও তিস্তা ব্যারাজের ৪৪ গেট দিয়ে পানি প্রবেশ করায় যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে এক রাতেই তালিয়ে গেছে পাটক্ষেত।

ফুলছড়ির খাটিয়া মারির চরের পাটচাষি মমিন মিয়া বলেন, আমি এ বছর কোনো ফসলেই লাভ করতে পারিনি। আমার ক্ষেতের ভুট্টার ফলন ভালো হলেও দাম কম। দুই বিঘা জমির পাট তলিয়ে গেছে।

একই চিত্র তিস্তা নদীবেষ্টিত সুন্দরগঞ্জ ও যমুনা নদীবেষ্টিত সাঘাটা উপজেলায়। তবে তিস্তা নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া ফুলছড়ি উপজেলায় নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে ভাঙনের শিকার হয়ে পাটক্ষেতসহ বিভিন্ন ফসল নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলে জানা গেছে।

নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে ভাঙন। ছবি: এশিয়া পোস্ট
নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে ভাঙন। ছবি: এশিয়া পোস্ট

সাঘাটা উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান ইয়াবুব আলী বলেন, যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধিও ফলে হলদিয়া ইউনিয়নের নদীভাঙন রক্ষাবাঁধের ২০০ মিটার ধসে গেছে। পরে পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে। নদীর পানি বাড়ার ফলে আমরা হুমকিতে আছি।

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় এক সপ্তাহে তিস্তা নদীর তীব্র ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে শতাধিক বসতভিটা, আবাদি জমি ও রাস্তাঘাট। বর্তমানে ভাঙনের মুখে পড়েছে আরও শত শত পরিবারের ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ডান তীরের পুরোনো বেড়িবাঁধসহ বিস্তীর্ণ এলাকা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বেলকা, হরিপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়ন সম্পূর্ণরূপে এবং তারাপুর, দহবন্দ, শান্তিরাম, কঞ্চিবাড়ি, শ্রীপুর, চণ্ডিপুর ইউনিয়ন ও পৌরসভার আংশিক এলাকার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে তিস্তা নদী। এ ছাড়া কাপাসিয়া ইউনিয়নের ভাটিতে তিস্তার সঙ্গে মিলিত হয়েছে ব্রহ্মপুত্র নদ। সম্প্রতি নদ-নদীতে পানি বাড়তে শুরু করায় উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে নদীভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইফ্ফাত জাহান তুলি বলেন, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রণয়ন করে দ্রুত উপজেলা প্রশাসনে জমা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে ভাঙনরোধে জরুরি ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে বিশেষ বরাদ্দের চিঠি পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া মাত্রই ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা দেওয়া হবে।

সোমরার বিকেলে গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা কাউনিয়া (সুন্দরগঞ্জ) পয়েন্টে পানি ৭৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার মাত্র দুই সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদীর পানি ফুলছড়ি পয়েন্টে ১২ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে বিপৎসীমার ৯৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ঘাঘট নদীর পানি ৩১ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে বিপৎসীমার ১৫০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গাইবান্ধায় ২৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

তিনি বলেন, পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জেলার সাঘাটা ও সুন্দরগঞ্জে কয়েকটি এলাকায় নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। আমরা ভাঙন প্রতিরোধে কাজ করছি।