Advertisement

রূপগঞ্জে মহাসড়ক ও বাইপাস সড়ক যেন মরণফাঁদ

এশিয়া পোস্ট নিউজ, নারায়ণগঞ্জ
রূপগঞ্জে মহাসড়ক ও বাইপাস সড়ক যেন মরণফাঁদ
সড়কের বেহাল দশা। ছবি: এশিয়া পোস্ট

টানা বর্ষণে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক, এশিয়ান হাইওয়ে বাইপাসসহ বিভিন্ন সংযোগ সড়ক খানাখন্দে পরিণত হয়ে মরণফাঁদে রূপ নিয়েছে। সড়কের বিভিন্ন অংশে বড় বড় গর্ত, ধস এবং জলাবদ্ধতার কারণে প্রতিনিয়ত যানবাহন বিকল ও দুর্ঘটনার পাশাপাশি দীর্ঘ যানজটে স্থবির হয়ে পড়ছে পুরো এলাকা।

জানা গেছে, বর্তমানে রূপগঞ্জ উপজেলার মধ্য দিয়ে যাওয়া ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক এবং এশিয়ান হাইওয়ে বাইপাসের চার লেনে উন্নীতকরণের কাজ চলমান। মদনপুর থেকে গাজীপুর পর্যন্ত ৪৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এশিয়ান হাইওয়ে বাইপাস প্রকল্পের আওতাধীন কাঞ্চন সেতুর উভয় পাশ, চরপাড়া থেকে কালাদী, নলপাথর থেকে পুনাবো এবং গোলাকান্দাইল থেকে শিংলাব পর্যন্ত সড়ক ভেঙে যাতায়াতের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

একই অবস্থা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের রূপসী থেকে কাঁচপুর অংশেও। এ ছাড়া কাঞ্চন সেতু থেকে ফজুর বাড়ির মোড় এবং বাগবেড় সড়কের একাধিক স্থান মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে আছে।

যানজটের কারণে সময়মতো স্কুলে পৌঁছাতে পারছে না শিক্ষার্থীরা, কর্মস্থলে যেতে বিলম্ব হচ্ছে চাকরিজীবীদের। সময়মতো পণ্য পরিবহন করতে না পেরে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা। অ্যাম্বুলেন্স আটকে থাকার মতো ঘটনায় রোগীদের জীবনও ঝুঁকিতে পড়ছে। অতি সম্প্রতি এশিয়ান হাইওয়ে বাইপাসের গর্তে একটি অটোরিকশা উল্টে গিয়ে এক যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন।

ছবি: এশিয়া পোস্ট
ছবি: এশিয়া পোস্ট

পণ্যবাহী ট্রাকচালক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, বৃষ্টির পানির নিচে গর্তগুলো দেখা যায় না। কোথায় গাড়ি গর্তে পড়বে সেই ভয়ে থাকতে হয়। গাড়ি বিকল হলে সময় ও সময়-জ্বালানি দুই দিক থেকেই বিপুল ক্ষতি হয়।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা জানান, শত শত কোটি টাকা ব্যয়ে একাধিক উন্নয়ন প্রকল্প চললেও প্রতি বর্ষায় তাদের এই করুণ পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। তারা দ্রুত স্থায়ী ও টেকসই সংস্কারের দাবি জানান।

পূর্বাচল হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা জানান, টানা বৃষ্টিতে এশিয়ান হাইওয়ে বাইপাসসহ চলমান প্রকল্পের কয়েকটি অংশে বড় বড় গর্ত হয়েছে। বিশেষ করে গ্রিন ইউনিভার্সিটির সামনের কাঁচা অংশে যানবাহন চলাচলে চরম বিঘ্ন ঘটছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাইওয়ে পুলিশ দিনরাত কাজ করছে। নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও আমরা সমন্বয় করেছি; ওই অংশের কাজ শেষ হলে যানজট স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম জয় বলেন, সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। বৃষ্টির পানি নেমে গেলেই ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার ও গর্ত বরাটের কাজ শুরু হবে। পাশাপাশি এলজিইডির আওতাধীন ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোও দ্রুত মেরামতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।