র্যাব সদস্য হত্যায় জড়িত বাপ্পি বিএনপি নেতার ছেলে

সিলেটে র্যাব সদস্য ইমন আচার্য হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার আসাদুল আলম বাপ্পি (২২) স্থানীয় এক বিএনপি নেতার ছেলে। গত ডিসেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত সে কারাগারে ছিল। তার বিরুদ্ধে ছিনতাই, শ্লীলতাহানির চেষ্টাসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
শনিবার (২৩ মে) সিলেটের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ইমন আচার্যকে হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন বাপ্পী।
আসাদুল আলম বাপ্পি নগরের কাজিরবাজার মোগলটুলা এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে। আবুল হোসেন ১৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক। ইমন আচার্য চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানার পশ্চিম দলই গ্রামের রণধীর আচার্যের ছেলে। তিনি ২০২৪ সালে র্যাবে যোগ দেন। গত বছর থেকে তিনি র্যাব-৯-এ কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
জানা গেছে, কিশোর ও তরুণদের নিয়ে নিজ এলাকাসহ কিনব্রিজ এলাকায় একটি কিশোর গ্যাং গড়ে তোলেন বাপ্পি। অতীতে ছিনতাইসহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের পর সম্প্রতি জড়িয়ে পড়েন মাদক কারবারে। এ ছাড়া বাপ্পি ২০২৪ এর ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে বাবার দলীয় প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় ছিনতাই, মাদক ব্যবসাসহ নানা অপকর্ম করে আসছিল। তার বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় ধর্ষণচেষ্টা, ছিনতাই ও মাদকের একাধিক মামলা রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে বাপ্পির বাবা আবুল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, বাপ্পি বিএনপি নেতা আবুল হোসেনের ছেলে, এটি সত্য। তবে দীর্ঘদিন ধরে তার সঙ্গে বাবার কোনো সম্পর্ক নেই। এর আগেও দুবার বাবা তাকে পুলিশে দিয়েছেন। অতিষ্ঠ হয়ে অপকর্মের কারণে বাবা তাকে মৌখিকভাবে ত্যাজ্য করেছেন। তার বাবা আমাকে বলেছেন, তাদের মধ্যে কোনো সম্পর্ক নাই।
তিনি আরও বলেন, বাপ্পি একজন অপরাধী। সে যে নেতার ছেলেই হোক না কেন, তার অপরাধের জন্য তাকে শাস্তি পেতে হবে। বিএনপি ছিনতাই ও মাদকের বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতিতে রয়েছে। তাই এমন ঘটনায় জড়িত যে কেউ আইনের আওতায় আসবে এবং শাস্তির মুখোমুখি হবে। এ ঘটনায় বাবার রাজনৈতিক বা দলীয় পরিচয় টেনে আনা সঠিক নয়। অপরাধীকে তার ব্যক্তিগত অপরাধের জন্যই দায়ী করা উচিত।
এদিকে খুনের অভিযোগে বাপ্পিকে একমাত্র আসামি করে শনিবার মহানগরের কোতোয়ালি থানায় মামলা করেছেন নিহত ইমনের ভাই সুজিত আচার্য। এ মামলায় বাপ্পিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা সুলতানার আদালতে ১৬৪ ধারায় জবনবন্দি দেন বাপ্পী। আদালতে সে হত্যার দায় স্বীকার করেছে।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মুহাম্মদ মাইনুল জাকির বলেন, বাপ্পির বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনসহ চারটি মামলা রয়েছে। মাদকের কোনো মামলা নেই। সে কাজিরবাজার ও কিনব্রিজ এলাকার বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত। তাকে হত্যা মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে, শুক্রবার (২২ মে) দুপুরে নগরীর কিন ব্রিজ এলাকায় থানা পুলিশ মাদকসেবী ও কারবারিদের আটকের চেষ্টা করলে তারা দৌড়ে পালায়। থানার পাশে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে পালানোর সময় বাপ্পিকে ধরার চেষ্টা করেন র্যাব সদস্য ইমন আচার্য। এই সময় বাপ্পি তার হাতে থাকা ধারালো চাকু দিয়ে ইমনের বুকের বাঁ পাশে আঘাত করে। দেড় ঘণ্টা পর হাসপাতালে মারা যান তিনি।
.png)






