Advertisement

থানচিতে নিখোঁজের তিন দিন পর মিলল পর্যটকের মরদেহ

এশিয়া পোস্ট নিউজ, বান্দরবান
থানচিতে নিখোঁজের তিন দিন পর মিলল পর্যটকের মরদেহ
নিখোঁজ পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার করা হচ্ছে। ছবি: এশিয়া পোস্ট

বান্দরবানের থানচি উপজেলার পর্যটনকেন্দ্র ‘রাজা পাথর’ এলাকায় সাঙ্গু নদীতে পর্যটকবাহী ইঞ্জিনচালিত নৌকা ডুবির ঘটনায় নিখোঁজের তিন দিন পর জাওয়াদ উল ইসলাম মাহিয়ান (২৪) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

রোববার (২৬ জুলাই) সকাল ৮টার দিকে তার মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে বিজিবি, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন, গাইড ও বোটচালকদের সমন্বয়ে গঠিত উদ্ধারকারী দল মরদেহটি উদ্ধার করে।

নিহত মাহিয়ান ময়মনসিংহের মাসকান্দা এলাকার মো. হেলাল উদ্দীনের ছেলে। তিনি বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি)-এর শিক্ষার্থী ছিলেন।

জানা গেছে, গত ২৪ জুলাই থানচি উপজেলার পর্যটনকেন্দ্র রাজা পাথর এলাকায় এ নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে। ওই দলে মোট ১৩ জন পর্যটক ছিলেন, যারা দুটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় ভাগ হয়ে রাজা পাথর এলাকায় ভ্রমণে যান। এর মধ্যে একটি নৌকায় সাতজন পর্যটক অবস্থান করছিলেন। কিন্তু পাহাড়ি ঢলের প্রবল স্রোতের কবলে পড়ে সাতজন পর্যটককে বহনকারী নৌকাটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডুবে যায়। এ সময় স্থানীয়দের সহায়তায় অন্য ছয়জন পর্যটককে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও পানিতে তলিয়ে গিয়ে নিখোঁজ হন মাহিয়ান।

ঘটনার পর থেকেই নিখোঁজ এই পর্যটকের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান শুরু করে স্থানীয় প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ থেকে আসা বিশেষজ্ঞ ডুবুরি দল থানচিতে পৌঁছায় এবং অভিযানে অংশ নেয়। টানা তিন দিন ধরে অভিযান চালানোর পর রোববার সকালে রাজা পাথর এলাকায় মরদেহটি ভেসে উঠতে দেখা যায়। খবর পেয়ে উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।

এ বিষয়ে থানচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কানন সরকার জানান, রোববার সকাল ৮টার দিকে রাজা পাথর এলাকায় নিখোঁজ পর্যটকের মরদেহ ভেসে ওঠার খবর পাওয়া যায়। পরে পুলিশ, ডুবুরি দল ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্টরা গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করেন। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়ার কাজ চলছে, প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

নৌকাডুবির এ মর্মান্তিক ঘটনায় স্থানীয় পর্যটনসংশ্লিষ্টদের মাঝে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সাঙ্গু নদীসহ থানচির বিভিন্ন নৌপথে স্রোত বহুগুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। প্রতিকূল আবহাওয়া ও নদীর এমন তীব্র স্রোতের সময় নৌপথে যাতায়াতে পর্যটক ও চালকদের আরও বেশি সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।